হঠাৎ সবাই আশাবাদী

0
175
dse index
সূচকের ঊর্ধ্বমুখী ধারা
dse index
পুঁজিবাজারে ঊর্ধ্বমুখী ধারা

পুঁজিবাজার নিয়ে হঠাৎ সবাই আশাবাদী হয়ে উঠেছেন।স্টক ব্রোকার থেকে শুরু করে মার্চেন্ট ব্যাংকার-সবাই বাজারের সম্ভাবনায় আস্থাবান।তারা মনে করছেন, বাজারে নতুন যে গতি সঞ্চার হয়েছে তার পেছনে যৌক্তিক কারণ আছে। আর এ কারণে বাজারের আর মুখ থুবড়ে পড়ার আশংকা নেই।

উল্লেখ, ২০১০ সালে সূচিত ধসের পর থেকেই নানা চড়াই-উৎড়াইয়ের ভেতর দিয়ে যাচ্ছে আমাদের পুঁজিবাজার।২০১০ সালে যে বাজারে দৈনিক লেনদেন ৩ হাজার কোটি টাকা ছাড়িয়েছিল, সে বাজারের লেনদেন ২শ কোটি টাকায় নেমে আসে।মূল্যসূচকও নেমে আসে অনেক নিচে।কোনো কোনো কোম্পানির শেয়ারের দাম দশ ভাগের এক ভাগে নেমে আসে। মার্জিন ঋণের খাঁড়ায় পড়ে অনেক বিনিয়োগকারীকে বাজার থেকে ছিটকে পড়তে হয়।একই কারণে অস্তিত্ব সংকটে পড়ে অনেক আর্থিক প্রতিষ্ঠান, মার্চেন্ট ব্যাংক ও ব্রোকারহাউজ।মাঝে দু’য়েকবার  বাজার কিছুটা ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করলেও তা টেকসই হয়নি।

কিন্তু সম্প্রতি বাজারে যে গতিশীলতা দেখা যাচ্ছে তার ধরণকে একটু অন্যরকম মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।তাদের মতে, নানা কারণে এবার বাজারে স্বাভাবিক অবস্থা ফিরে আসতে পারে।

পরিসংখ্যানে দেখা যায়, জুলাই মাসেও ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) কোনো কোনো দিন দেড়শ কোটি টাকার কম লেনদেন হয়েছে।গত ১৩ জুলাই এ বাজারে লেনদেনের পরিমাণ ছিল ১৪৯ কোটি টাকা।২১ জুলাই এটি বেড়ে আড়াইশ কোটি টাকা হয়। এর পর থেকে ধীরে ধীরে লেনদেন বাড়তে থাকে।গত ১১ আগস্ট ডিএসইতে ৭৯০ কোটি টাকা মূল্যের শেয়ার কেনাবেচা হয়। আগস্টে লেনদেন আর ৩শ কোটি টাকার নিচে নামেনি। অনেকেই আশা করছেন, বর্তমান ধারা বজায় থাকলে কিছুদিনের মধ্যেই লেনদেনের পরিমাণ হাজার কোটি টাকা ছাড়িয়ে যাবে।

অন্যদিকে প্রায় ৩ মাস পর চলতি মাসে ডিএসইএর প্রধান মূল্যসূচক ডিএসইএক্স সাড়ে ৪ হাজার পয়েন্ট অতিক্রম করে। এটি এখন ৪ হাজার ৬০০ পয়েন্টের কাছাকাছি অবস্থান করছে।

সব মিলিয়ে বাজারে একটি ইতিবাচক ধারা দেখা যাচ্ছে।আর নানা কারণে এ ধারা শেষ পর্যন্ত টেকসই হয়ে যেতে পারে।

সাম্প্রতিক বাজারের ধারায় খুবই আশাবাদী ডিএসইর সাবেক সভাপতি শাকিল রিজভী।তিনি বলেন, নানা কারণে শিল্প খাতে বিনিয়োগ স্থবির হয়ে পড়েছে। ব্যাংকে জমছে উদ্বৃত্ত তারল্যের পাহাড়। এ তারল্য স্বাভাবিক নিয়মে বিনিয়োগের বিকল্প জায়গার দিকে প্রবাহিত হবে।

তিনি বলেন, দীর্ঘ পতনের কারণে অনেক কোম্পানির শেয়ার বিনিয়োগ অনুকূল অবস্থায় চলে আসে। আর এটি বিনিয়োগকারীদেরকে বাজারের প্রতি আকৃষ্ট করে।

মার্চেন্ট ব্যাংকারস অ্যাসোসিয়েশনের (বিএমবিএ) সাবেক সভাপতি হাফিজ এ চৌধুরী। তিনি বলেন, বেশ কিছু কারণে বাজারে গতিশীলতা ফিরে আসছে। এর মধ্যে প্রধানতম কারণ হচ্ছে ব্যাংক আমানতের সুদ হার কমে যাওয়া।

তিনি বলেন, বর্তমানে বেশিরভাগ ব্যাংক মেয়াদী আমানতে (এফডিআর) ৭ থেকে ৯ শতাংশ সুদ দিচ্ছে। এ অবস্থায় অনেকেই এফডিআর ভাঙ্গিয়ে ফেলছেন। তারা ব্যাংকে টাকা রাখা লাভজনক মনে করছেন না।এদের বড় অংশই পুঁজিবাজারকে বিকল্প বিনিয়োগ ক্ষেত্র হিসেবে বিবেচনা করছেন।

অ্যালায়েন্স সিকিউরিটিজ লিমিটেডের চেয়ারম্যান পঙ্কজ রায় বলেন, বর্তমানে বাজার অনেক পরিণত আচরণ করছে।একদিনে খুব বেশি বাড়ছে না, আবার সেভাবে কমছেও। মূল্যসূচক ও শেয়ারের দাম বাড়লেও ফাঁকে ফাঁকে যথেষ্ট সংশোধন হচ্ছে। টানা দীর্ঘ দিন ধরে কোনো কোম্পানির শেয়ারের দাম বাড়ছে না।কিছু কোম্পানির শেয়ারে কয়েকদিন উর্ধগতি থাকলে, অন্যগুলোতে তখন ধীরগতি থাকছে।যখন প্রথম শেয়ারগুলোতে মূল্য সংশোধন হয়, তখন অন্য শেয়ারগুলোর দাম বাড়ে।