মাসভর দরপতন পদ্মা-মেঘনা-যমুনায়

0
67
Megh_Jamuna_Padma
পদ্মা অয়েল, মেঘনা পেট্রোলিয়াম, যমুনা অয়েল লোগো
Megh_Jamuna_Padma
পদ্মা অয়েল, মেঘনা পেট্রোলিয়াম, যমুনা অয়েল

দীর্ঘ মন্দার পর পুঁজিবাজারের পালে লেগেছে নতুন হাওয়া।বাড়ছে লেনদেন।সূচকও উর্ধমুখী।কিন্তু সামগ্রিক বাজারের এই গতিশীলতার কোনো ছাপ নেই জ্বালানি খাতের তিন কোম্পানির শেয়ারে।

গত দুই মাসে প্রায় সব খাতের বেশিরভাগ কোম্পানির শেয়ারের দাম বেড়েছে।কিন্তু আলোচিত তিন কোম্পানির শেয়ারের দাম তো বাড়েইনি, উল্টো ধারাবাহিকভাবে কমছে।পদ্মা অয়েল, মেঘনা পেট্রোলিয়াম ও যমুনা অয়েলের শেয়ারের এ দর পতনে অনেক বিনিয়োগকারী হতাশ, হতবিহ্বল।বিশেষ করে দরের পাশাপাশি লেনদেন কমে যাওয়ায় কোনো কোনো বিনিয়োগকারী উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন।

তবে এ উদ্বেগ ও হতাশা কেবল ব্যক্তি বিনিয়োগকারীদের মধ্যে। প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীরা কোম্পানি তিনটির শেয়ার নিয়ে যথেষ্ট আশাবাদী।তাদের মতে, বেশিরভাগ ব্যক্তি বিনিয়োগকারী তাদের বিনিয়োগ নিয়ে অস্থিরতায় ভুগেন।

পুঁজিবাজারের ব্যক্তি ও প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে আলোচনায় পদ্মা-মেঘনা-যমুনা নিয়ে এ মিশ্র চিত্র পাওয়া গেছে।

সাধারণভাবে দেখা গেছে, বছরের এই সময়টাতে জুন ক্লোজিং শেয়ারের (৩০ জুন হিসাববছর শেষ হয় এমন কোম্পানির শেয়ার)। প্রতি বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ বেশি থাকে।কারণ আগস্টের মাঝামাঝি থেকে এ ধরণের কোম্পানির লভ্যাংশ ঘোষণা চলতে থাকে।অক্টোবর-নভেম্বর পর্যন্ত চলে লভ্যাংশ ঘোষণা।

লভ্যাংশজনিত প্রত্যাশার কারণে জুলাই থেকেই জুন ক্লোজিং শেয়ারের চাহিদা ও দাম বাড়তে থাকে। কোনো কোম্পানির মুনাফা ও লভ্যাংশ সম্পর্কে নেতিবাচক খবর বা অনুমান থাকলে চাহিদা ও দাম কমে।

গত কয়েক বছর ধরেই জুনের শেষভাগ থেকে আলোচিত ৩ কোম্পানির শেয়ারে উর্ধমুখী ধারা দেখা গেছে।আগস্ট-সেপ্টেম্বরে দাম উঠেছে চূড়ান্ত পর্যায়ে।কিন্তু এবার দেখা যাচ্ছে পুরো ব্যাতিক্রম চিত্র।

গত এক মাসে লাফার্জ সুরমা সিমেন্টের শেয়ারের দাম বেড়েছে প্রায় ৫০ শতাংশ।বেক্সিমকো লিমিটেডে প্রায় ৩৪ শতাংশ বেড়েছে শেয়ারের দাম।সামিট পূর্বাঞ্চল পাওয়ারের শেয়ারের দাম বেড়েছে প্রায় ৩০ শতাংশ।তিনটিই ডিসেম্বর ক্লোজিং কোম্পানি। এগুলো ইতোমধ্য লভ্যাংশ ঘোষণা করেছে, এমনকি বার্ষিক সাধারণ সভার (এজিএম) পর তা বিনিয়োগকারীদের হিসাবে জমাও হয়ে গেছে।

অথচ জুন ক্লোজিং কোম্পানি পদ্মা, মেঘনা ও যমুনার শেয়ারের দাম ধারাবাহিকভাবে কমেছে।

বিশ্লেষণে দেখা যায়, গত ১ মাসে যমুনা অয়েলের শেয়ারের কমেছে ৭ টাকা ৬০ পয়সা বা ৩ শতাংশ। চলতি মাসের ৪ তারিখে শেয়ারটির সর্বোচ্চ দর ছিল ২৩১ টাকা ৪০ পয়সা, আর ২৮ আগস্ট শেয়ারটি সর্বশেষ ২২৩ টাকা ৮০ পয়সা দরে লেনদেন হয়।

এদিকে গত সপ্তাহে শেয়ারটির প্রতিদিন গড় লেনদেন কমেছে ১৭ শতাংশ। আর প্রতিদিন কোম্পানিটি ২ কোটি ৮৫ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন করেছে।

আরেক তেল কোম্পানি মেঘনা পেট্রোলিয়ামের গত ১ মাসে শেয়ার দর কমেছে উল্লেখযোগ্য হারে। চলতি মাসের ৩ তারিখে শেয়ারটির সর্বোচ্চ ২৮৪ টাকা ৮ পয়সায় লেনদেন হয়।আর ২৮ আগস্ট শেয়ারটি সর্বশেষ ২৬৩ টাকা ৯ পয়সা দরে লেনদেন হয়। অর্থাৎ মাসের ব্যবধানে শেয়ারটি ২০ টাকা ৯ পয়সা বা ৮ শতাংশ দর পতন হয়েছে।

এদিকে গত সপ্তাহে প্রতিদিন গড় লেনদেন ১৮ শতাংশ কমে ৭ কোটি ৬৯ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে।

অপরদিকে পদ্মা অয়েলের গত ১ মাসে দর কমেছে ২০ দশমিক ৭০ টাকা বা ৬ শতাংশ। চলতি মাসের  ৩ তারিখে শেয়ার টির সর্বোচ্চ  ৩৪৭ টাকা ৪ পয়সায় লেনদেন হয়। আর ২৮ আগস্ট শেয়ারটি সর্বশেষ ৩২৬ টাকা ৭ পয়সা দরে লেনদেন হয়।

এছাড়া সপ্তাহের ব্যবধানে গড় লেনদেন কমেছে শেয়ারটির ১৮ শতাংশ।আর প্রতিদিন ৭ কোটি ৪১ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক বাজার আচরণ অন্যান্য সময়ের চেয়ে কিছুটা ভিন্ন।মন্দার কারণে দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন খাতের শেয়ারের দাম কমছিল।এ ধারা থেকে সম্প্রতি বাজার বের হয়ে এসেছে মূলত কিছু নির্বাচিত কোম্পানির শেয়ারের উপর ভর করে। পরে এতে যোগ হয়েছে অপেক্ষাকৃত ছোট মূলধনী কোম্পানি এবং সম্প্রতি বাজারের আইপিওর শেয়ার।

দু’টি কারণে ওই দুই ধরনের কোম্পানির শেয়ারের দাম বাড়ছে। বাজারে এখনও পর্যাপ্ত তারল্য না থাকায় বিনিয়োগকারীদের অনেকে ছোট শেয়ারকে বেছে নিচ্ছেন। এ ধরনের কোম্পানিতে অল্প শেয়ার কেনার পরই স্বাভাবিক সরবরাহ কমে আসে। তাতে বাজারে ওই শেয়ারের দাম বাড়ে।

অন্যদিকে পুরনো কোম্পানির শেয়ারের দাম ২০১০ ও ২০১১ সালে অনেক উপরে ছিল।বিভিন্ন পর্যায়ে এসব কোম্পানির শেয়ার কিনে আটকে আছেন বিনিয়োগকারীরা।ফলে এসব কোম্পানির শেয়ারের দাম একটু বাড়লেই বিপুল পরিমাণ শেয়ার বিক্রির চাপ চলে আসে। এ কারণে অনেকেই তুলনামূলক নতুন কোম্পানির শেয়ার বেছে নিচ্ছেন।

অন্যান্য ধরনের শেয়ারের দামের এ উর্ধগতির কারণে অনেকে তিন তেল কোম্পানির শেয়ারে এ মুহুর্তে নতুন করে বিনিয়োগ করছেন না।তারা ভাবছেন আপাতত অন্যান্য কোম্পানির শেয়ারে বিনিয়োগ করে কিছু মুনাফা পাওয়ার পর তারা ফের পদ্মা, মেঘনা, যমুনায় ফিরে আসবেন।

তিন কোম্পানির শেয়ারের দাম না বেড়ে কমতে থাকায় অনেক ব্যক্তি বিনিয়োগকারী অধৈর্য ও অস্থির হয়ে এসব শেয়ার বিক্রি করে দিচ্ছেন। পরস্পর বিরোধী দুই ধারার কারণে দর হারাচ্ছে কোম্পানি তিনটির শেয়ার। তবে কিছুদিনের মধ্যেই এ ধারা থেকে বের হয়ে আসতে পারে।কারণ কোম্পানি তিনটিরই পারফরমেন্স আগের বছরের চেয়ে ভালো।তাই যে কোনো সময় ঘুরে দাঁড়াতে পারে এসব কোম্পানির শেয়ার।