৩ কোটি টাকা ঋণ নিয়ে উদাও প্রতারক

0
41

খুলনার তেরখাদা উপজেলার কুমিরডাঙ্গা মৌজায় প্রায় দেড়শ কৃষকের বসতভিটা ও ফসলি জমি নিজেদের নামে লিখে নিয়েছে ৩ প্রতারক। পরে ওই জমিতে ভৈরব হ্যাচারি ও নার্সারি স্থাপন প্রকল্প দেখিয়ে ইনভেস্টমেন্ট করপোরেশন অফ বাংলাদেশ থেকে (আইসিবি) ২ কোটি ৮৬ লাখ টাকা ঋণের জন্য আবেদন করেছে। ইতোমধ্যে তারা ব্যাংক থেকে ১ কোটি ১২ লাখ টাকা তুলে নিয়েছে। এরপর থেকে তাদের কোনো খোঁজ মিলছে না।press con

সম্প্রতি ওই গ্রামের কয়েকজন কৃষক স্থানীয় ভূমি অফিসে খাজনা দিতে গেলে তাদের জানানো হয় ওই জমি ভৈরব হ্যাচারী অ্যান্ড নার্সারি প্রাইভেট লিমিটেডের কাছে বিক্রি হয়ে গেছে। ভূমি অফিসে খোঁজ নিয়ে জানতে পারেন এ রকম আরও ১৫ একর জমি ১৬টি দলিলের মাধ্যমে ওই কোম্পানির নামে লিখে নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে অনেকের বসতভিটা, পুকুর ও প্রাথমিক বিদ্যালয়ও রয়েছে।

শনিবার দুপুরে খুলনা প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে তেরখাদার কুমিরডাঙ্গা গ্রামের জমির মালিকরা এসব তথ্য জানান।

সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগী জমির মালিকরা জানান, গত ২৫ মে খাজনা দিতে গেলে তহশীলদার জানান, জমির খাজনা ভৈরব হ্যাচারীর পরিচালক সবুজ বিপ্লবের নামে দাখিলা কাটা হয়েছে। বিষয়টি স্থানীয় ইউএনওকে জানালে তিনি সরেজমিন পর্যবেক্ষণ করেন এবং রেজিস্ট্রি অফিস তল্লাশী করে ১৬টি দলিলে জমি জাল করা হয়েছে বলে জানান। এর মধ্যে ২টি দলিল পাওয়া গেছে। তাতে কুমিরডাঙ্গা গ্রামের মুরাদ আলী কৃষকদের কাছ থেকে জমি কিনে হাসমত আলী নামের এক ব্যক্তির কাছে বিক্রি করেছেন বলে দেখা যাচ্ছে।

অন্যান্য স্থানে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, কুমিরডাঙ্গা গ্রামের শেখ মুরাদ আলী, হাসমত আলী মোল্লা ও শেখ শফিকুর রহমানের নামে কৃষকদের জমি লিখে নেওয়া হয়েছে। পরে তারা ওই জমি সবুজ বিপ্লবের কাছে বিক্রি করেছেন। সবুজ ভৈরব হ্যাচারির ব্যবস্থাপনা পরিচালক।

সংবাদ সম্মেলনে ভৈরব হ্যাচারি অ্যান্ড নার্সারি প্রাইভেট লিমিটেডের একটি ব্যাংক স্ট্রেটমেন্ট সাংবাদিকদের মাঝে সরবরাহ করা হয়। তাতে দেখা যায়, প্রতিষ্ঠান প্রধান কার্যালয় ঢাকার ডিওএইচএস-মহাখালীতে অবস্থিত।

তেরখাদার কুমিরডাঙ্গা গ্রামের তাদের একটি মৎস্য হ্যাচারির প্রকল্প আছে। যার অনুকূলে ইনভেস্টমেন্ট করপোরেশন অব বাংলাদেশ থেকে (আইসিবি) ঢাকা কার্যালয় থেকে ২ কোটি ৮৬ লাখ টাকা ঋণ মঞ্জুরি হয়েছে। তিনটি কিস্তিতে মোট ১ কোটি ১২ লাখ তুলে নিয়েছেন প্রতিষ্ঠানের চেয়ারম্যান নাজনীন জাহান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সবুজ বিপ্লব।

এ ব্যাপারে অভিযুক্ত কারও বক্তব্য পাওয়া যায়নি। আইসিবির প্রধান কার্যালয় শনিবার বন্ধ থাকায় সেখানেও খোঁজ নেওয়া যায়নি।

তেরখাদা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কানিজ ফাতেমা তানিয়া জানান, ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা ঘুরে দেখে তাদের জমির দলিলপত্র যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। কিছু জমি অনেক আগে মিউটেশন করা হয়েছে। এসব কাগজগুলো ভালভাবে পরীক্ষা-নিরিক্ষা করা হচ্ছে। অভিযুক্তদের খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। তাদের পেলে কাজ আরও সহজ হত।