‘বিচারবিভাগ সুস্থ থাকলে গুম-খুন হতো না’

0
34
kamal hossain
kamal-hossain
সংবিধান বিশেষজ্ঞ ড. কামাল হোসেন- ফাইল ছবি

বিচারবিভাগ সুস্থ থাকলে বিচারবহির্ভুত হত্যাকান্ডের মতো ঘটনা ঘটতো না বলে মন্তব্য করেছেন বিশিষ্ট সংবিধান বিশেষজ্ঞ ড. কামাল হোসেন।

শনিবার দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাব মিলনায়তনে আন্তর্জাতিক গুম প্রতিরোধ দিবস ২০১৪ উপলক্ষে মৌলিক অধিকার সুরক্ষা কমিটির জাতীয় সম্মেলনে তিনি এ মন্তব্য করেন।

শাসন ব্যবস্থার জবাবদিহিতার ঘাটতি রোগ দেখা দিয়েছে উল্লেখ করে ড. কামাল হোসেন বলেন, আমাদের আইনবিভাগ, বিচার ব্যবস্থা ও আইন প্রয়োগকারী সংস্থার মধ্যে এই রোগটি ছড়িয়ে পড়েছে।

তিনি বলেন, আইন ও সংবিধান লংঘন করলে তাদের অবশ্যই জবাবদিহি করতে হবে। এটা সংবিধান স্বীকৃত। আইনশৃংখলা বাহিনীর সদস্যরা আইন না মেনে নাগরিকদের তুলে নিয়ে যায়। কিন্তু তাদের জবাবদিহিতার মধ্যে নিয়ে আসছে না সরকার।

স্বজনহারা পরিবার ও নাগরিক সমাজের উদ্দ্যেশে তিনি বলেন, বিচারবহির্ভুত হত্যাকান্ডের জবাবদিহিতা চেয়ে সংসদ ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে পত্র দিতে হবে। আমাদের দায়িত্ব হলো জবাবদিহিতা আদায় করা। বিচারবহির্ভুত হত্যাকান্ডের যতগুলো তদন্ত হয়েছে তার রিপোর্ট প্রকাশ করতে সরকারকে চাপ দিতে হবে।

গণফোরামের এই সভাপতি বলেন, বিনাবিচারে গুম বা খুন হওয়া পরিবারের যে কি যন্ত্রনা সেটা বাংলাদেশের মানুষ ভালোভাবে জানেন। ৫২ ভাষা আন্দোলন এবং ৭১ এর মুক্তিযুদ্ধে স্বজন হারানোর ইতিহাস বাঙালির আছে।

তিনি বলেন, কাউকে যদি গ্রেফতার করতে হয়। তাহলে এর কারণ আগে থেকে অবগত করতে হবে। এই বিষয়টি আমাদের সংবিধানে লিপিবদ্ধ রয়েছে। সুতরাং কেউ যদি বলে সংবিধান অনুযায়ী দেশ চলছে, তাহলে ভুল বলা হবে। রাষ্ট্র আসলেই স্বাভাবিকভাবে চলছে না।

তিনি আরও বলেন, মৌলিক অধিকারগুলোর মধ্যে প্রথম হলো মানুষের বেঁচে থাকার অধিকার। কিন্তু জনগণের স্বাভাবিক বেঁচে থাকার নিশ্চয়তা দিতে রাষ্ট্র ব্যর্থ।

নির্বিচারে হত্যা ও গুমের তদন্ত নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, বিচার বহির্ভূত হত্যাকান্ডের তদন্ত হয় না কেন? চিহ্নিতদের গ্রেফতার ও বিচারের আওতায় আনা হয় না কেন? দেশের শাসন ব্যবস্থা যদি সংবিধান অনুযায়ী চলে তাহলে স্বজনহারা পরিবারগুলো থানায় এফআইআর করার পরও তদন্ত হবে না কেন?

বিচারবহির্ভুত হত্যাকান্ডের ক্ষেত্রে কোনো ছাড় দেওয়া হবে উল্লেখ করে ড. কামাল বলেন, রাষ্ট্রে ভিন্ন দল মত থাকবে। কিন্তু মৌলিক অধিকার, জান মাল রক্ষার জন্য হলেও আমাদের জাতিগতভাবে ঐক্য বদ্ধ হতে হবে।

এসময় সংবিধান বিশেষজ্ঞ ড. শাহদীন মালিক বলেন, রাষ্ট্রে পৃষ্ঠপোশকতা ছাড়া বিচারবহির্ভুত হত্যাকান্ডের মতো ঘটনা ঘটার কথা না। এসব হত্যাকান্ডের বিচার যদি এই দেশে না হয়। তাহলে আমরা আন্তর্জাতিক আদালতে যাবো।

এ সময় সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন সাংবাদিক ও কলামিস্ট সৈয়দ আবুল মকসুদ, নাগরিক ঐক্যে আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না, নারী নেত্রী খুশী কবির, ব্যারিস্টার সারা হোসেন, অধ্যাপক সি আর আবরার, ব্যারিস্টার জতীর্ময় বড়ুয়া ও অধ্যাপক আসিফ নজরুলসহ ভুক্তভোগী পরিবারের স্বজনরা।

এমআই/ এএসএ/