‘পর্নোসাইট বন্ধ সম্ভব নয়’

0
41
ban porn site
প্রতীকি ছবি
ban porn site
প্রতীকি ছবি

পর্নোগ্রাফির প্রায় ৪ কোটি ওয়েবসাইট রয়েছে। একটা বন্ধ করলে, অন্য একটা নতুন খুলে যাবে। পনোর্গ্রাফির ওয়েবসাইট বন্ধ করা প্রসঙ্গে শীর্ষ আদালতে এভাবেই নিজেদের অসহায়তার কথা জানাল কেন্দ্র।

শিশুদের দিয়ে অশ্লীল ছবি তৈরি (চাইল্ড পর্নোগ্রাফি) এবং অন্য পর্নোগ্রাফি সাইট বন্ধ করার জন্য নিষেধাজ্ঞা চেয়ে গত বছর সুপ্রিম কোর্টে এই জনস্বার্থ মামলাটি দায়ের করা হয়েছিল।

শুক্রবার সেই মামলার শুনানি প্রসঙ্গে কেন্দ্রের বক্তব্য, এই ধরনের পর্নোগ্রাফি সাইটগুলি যে সব সার্ভারের মাধ্যমে এ দেশে ঢোকে, সেগুলির বেশির ভাগই বিদেশে রয়েছে। তাই সেগুলি নিয়ন্ত্রণ করা মুশকিল।

কেন্দ্রের এ জবাবে খুব একটা সন্তুষ্ট নয় সুপ্রীম কোর্ট। আদালত এ দিন কড়া ভাষায় জানিয়েছে, আইনকে প্রযুক্তির চেয়েও দ্রুতগতি সম্পন্ন হতে হবে। শুধু আইন বানালেই চলবে না, তা ভালোভাবে প্রয়োগও করতে হবে।

প্রধান বিচারপতি আর এম লোঢা কেন্দ্রকে জানিয়েছেন, ইন্টারনেটে পর্নোগ্রাফির রমরমা ঠেকাতে আইন-প্রযুক্তি-প্রশাসনকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।

কেন্দ্র অবশ্য জানিয়েছে, এ সমস্যা সমাধানে বর্তমানে একটি কমিটি গঠন করেছে তারা। তবে ৬ সপ্তাহ পর পরবর্তী শুনানিতে ওই কমিটির রিপোর্ট চেয়ে পাঠিয়েছে শীর্ষ আদালত।

সুপ্রিম কোর্টে দায়ের হওয়া ওই জনস্বার্থ মামলায় দাবি করা হয়েছিল, পর্নোগ্রাফি দেখে যেমন অনেক সময় যৌন ইচ্ছা প্রবল হয়, তেমনই নিয়ন্ত্রণ করার বা ক্ষমতা প্রদর্শনের ইচ্ছাও জাগে। যার জেরে ধর্ষণের শিকার হতে হয় মহিলাদের। এই সূত্রে ২০১২ সালের নির্ভয়াকাণ্ডের কথাও উল্লেখ করা হয়েছে মামলায়। বলা হয়েছে, চলন্ত বাসে মেয়েটির উপরে নির্মম অত্যাচারের আগে দোষীরা মোবাইল ফোনে পর্নোগ্রাফি দেখেছিল। তাই ধর্ষণের মতো ঘটনায় পর্নোগ্রাফির ভূমিকা রয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে মামলায়।

চলতি বছরের জানুয়ারিতে ইন্টারনেট সার্ভিস প্রোভাইডার্সও সুপ্রিম কোর্টে জানিয়েছে, আদালতের অনুমতি ছড়ি পনোর্গ্রাফিক সাইট বন্ধ করা দেওয়া তাদের পক্ষে সম্ভব নয়। আর এ ধরনের ওয়েবসাইট যে সব আপত্তিকর বিষয়বস্তু থাকে, তার জন্য তাদেরক বা সরকারকে দায়ী করা যাবে না।

এএসএ/