আফগানিস্তানে বাড়ছে পপি চাষ; ঝুঁকিতে শিশুরা

0
56
Child With Popy Flower
আফগানিস্তানে পপি বাগানে ফুল হাতে এক শিশু।

আফগানিস্তানে বিপুল হারে বাড়ছে পপি ফুলের চাষ। এই পপি ফুল থেকে তৈরি করা হয় আফিম এবং হেরোইনজাতীয় নেশাদ্রব্য। ২০১৩ সালে আফগানিস্তানের ২ লাখ ৯ হাজার হেক্টর জমিতে পপি ফুলের চাষ করা হয়। বিশ্বের ৯০ শতাংশ পপি ফুল উৎপাদিত হয় এই দেশের মাটিতেই। পপি ফুল চাষে আফগানিস্তানকে বিশ্ব নেতা বলা হয়।

Popy Flower G
আফগানিস্তানের একটি পপি ফুলের বাগান।

কম পুঁজিতে অতিরিক্ত আয়ের আশায় পপি ফুল উৎপাদন বাড়াচ্ছে চাষিরা। স্বল্প পরিমাণ পপি ফুল উৎপাদন করা হলে তা উচ্চ মূল্যে বিক্রয় করা সম্ভব হচ্ছে। এতে অর্থের লোভে চাষিরা পপি ফুল উৎপাদনে মনোযোগী হচ্ছে। আফগানিস্তানের অভ্যন্তরীণ বাজারে প্রতি কেজি আফিমের বিক্রয়মূল্য ১৫০ ডলার। অল্প জমিতে অধিক পরিমাণ পপি ফুল উৎপাদন করা সম্ভব। আর তাই অতিরিক্ত আয়ের জন্যই অল্প পরিমাণ জমিতে হলেও পপি ফুলের চাষ করছেন সে দেশের চাষিরা।

দেশটিতে মোট পপি উৎপাদনের ৫০ শতাংশই উৎপাদিত হয়েছে হেলমন্দ প্রদেশে। এই প্রদেশটি জঙ্গি গোষ্টী তালেবানের শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত। আফগানিস্তানের মাদক বাণিজ্যের একটি বড় অংশ পায় জঙ্গি গোষ্ঠী তালেবান। কাবুল সরকার এবং আন্তর্জাতিক বাহিনীর বিরুদ্ধে লড়াইয়ে প্রস্তুতির জন্য এই অর্থ ব্যয় করে তালেবান গোষ্ঠী। তাদের সঙ্গে যু্দ্ধে শামিল হতে পপি ফুল বিক্রির একটি বড় অংশ তালেবানদের কাছে তুলে দেয় চাষিরা।

জাতিসংঘের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০১২ সালের তুলনায় ২০১৩ সালে আফগানিস্তানে আফিম উৎপাদন ৫০ শতাংশ বেড়েছে। শুধুমাত্র ২০১৩ সালে ৯৫ কোটি মার্কিন ডলারের আফিম উৎপাদন করেছে আফগানিস্তান।

Child With Popy Flower
আফগানিস্তানে পপি বাগানে ফুল হাতে এক শিশু।

এতো বেশি আফিম উৎপাদনের কারণে কয়েকটি রাষ্ট্র আফগানিস্তান থেকে তাদের সেনা প্রত্যাহার করে নিয়েছে। সেনা প্রত্যাহারের বিষয়টি নিয়ে চিন্তিত জাতিসংঘ। জাতিসংঘের মতে, আফগানিস্তান থেকে সেনা প্রত্যাহার করায় সে দেশের নিরাপত্তা ও অর্থনীতি ক্ষতির সম্মূখীন হবে। আর এই ক্ষতির পরিমাণ কমাতে আফিম উৎপাদন করে অর্থ উপার্জন করবে দেশটি। এতে আফিমের উৎপাদন বাড়াতে বাধ্য হবেন দেশটির আফিম চাষিরা।

শুধুমাত্র ব্যবসায়িক প্রয়োজনে পপি ফুল উৎপাদন করা হয়, এমনটি নয়। উৎপাদনের সঙ্গে আসক্তিও জড়িত। জাতিসংঘের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, ৩ লাখ শিশুসহ আফগানিস্তানের ১৫ লাখ মানুষ মাদকাসক্ত। প্রতিনিয়ত দেশটিতে মাদকাসক্তের সংখ্যা বাড়ছে। তুলনামূলকভাবে শিশুরাই বেশি মাদকাসক্ত হচ্ছে।

আফগান সরকারের তথ্য অনুযায়ী, দেশটির কমপক্ষে ২ লাখ পরিবার আফিম চাষের উপর নির্ভরশীল। এদের আফিম চাষ থেকে বিরত রাখতে বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে আফগান সরকার। বেশ কয়েকটি প্রকল্প হাতে নিয়েছে তারা। মাদকবিরোধী লড়াইয়ে আফগান সরকারের গৃহীত পদক্ষেপকে সফল সহায়তা করছে যুক্তরাষ্ট্র। গত বছর ২ দেশের মধ্যে ২৫ কোটি মার্কিন ডলারের একটি চুক্তি সই হয়েছে।

এমই/