তোবার শ্রমিকদের দাবি না মানলে মন্ত্রণালয় ঘেরাও: মিশু

0
50
mishu
ফাইল ছবি
mishu
ফাইল ছবি

শ্রম আইন অনুযায়ী শ্রমিকের সকল পাওনা পরিশোধ, তোবা মালিকের জামিন বাতিল ও তোবা গ্রুপের সকল প্রতিষ্ঠান চালু করা না হলে আগামী ৭ সেপ্টেম্বর শ্রম মন্ত্রণালয় ঘেরাও করা হবে বলে সরকারকে হুমকি দিয়েছেন তোবা শ্রমিক সংগ্রাম কমিটির সভাপতি মোশরেফা মিশু।

শুক্রবার দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে তোবা শ্রমিক সংগ্রাম কমিটির উদ্যোগে তিন দফা দাবি আদায়ে  আয়োজিত অবস্থান ধর্মঘটে তিনি এ হুঁশিয়ারি  দেন।

অবস্থান ধর্মঘটে ১৫টি শ্রমিক সংগঠনের নেতা ও শ্রমিকরা অংশ নেন। সকাল ১১টা শুরু হয়ে দুপুর ১টা পর্যন্ত এ অবস্থান ধর্মঘট চলে।

অবস্থান ধর্মঘটে মোশরেফা মিশু বলেন, সরকার ও বিজিএমএ শ্রমিকের জাত নয়, এরা উভয়ই মালিকদের দালাল। সারা বাংলাদেশের শ্রমিকদের নিয়ে আন্দোলনের মাধ্যমে এদের প্রতিহত করে শ্রমিক শ্রেণির সরকার প্রতিষ্ঠা করা হবে।

নৌ-মন্ত্রী পকেট কমিটি দিয়ে দালালি করছেন এমন অভিযোগ করে এই শ্রমিক নেতা বলেন, শাহজান খান একই সাথে নৌ-মন্ত্রী, গার্মেস্টস শ্রমিক নেতা ও পরিবহন শ্রমিক নেতা, আসলে তিনি একজন প্রকৃত দালাল। আর তার দালালির শিকার হচ্ছেন অসহায় শ্রমিকরা।

দেলোয়ার অনেক সম্পদ বিদেশে পাচার করেছেন এমন অভিযোগ করে তিনি বলেন, তোবার কারখানা বন্ধের যে নোটিস দেওয়া হয়েছে তা মালিকের সক্ষমতার অভাবে নয়,  শ্রমিকদের ঠকানোর জন্যই; অথচ সরকার এ নিয়ে কথা বলছেন না।

মিশু বলেন, তোবা মালিক দেলোয়ার ব্যাক ডেট দিয়ে কারখানা বন্ধের নোটিস জারি করেছেন। সেটাকে চ্যালেঞ্জ করে সংগ্রাম কমিটির পক্ষ থেকে গত ২৭ আগস্ট উকিল নোটিস দেওয়া হয়েছে। তার জবাব এখনও পাওয়া যায়নি। আগামি দুই-এক দিনের মধ্যে উকির নোটিশের জবাব না পেলে কঠোর কর্মসূচি দেওয়া হবে।

সকল কারখানার শ্রমিকদের উদ্দেশ্যে মিশু বলেন, যেসব কারখানার মালিকরা আপনাদের বেতন দেন না, আমাদেরকে তাদের ঠিকানা দিন, আমাদেরকে বিস্তারিত জানান, যেখানেই হোক না কেন আমরা শ্রমিকদের দাবি আদায়ে সেখানে উপস্থিত হবো।

ওয়ার্কার্স পার্টির নেতা সাইফুল হক বলেন, শ্রমিকদের আন্দোলনের মুখে গার্মেন্টস মালিকরা কিছু পকেট শ্রমিক সংগঠন গড়ে তুলেছেন। এরা শ্রমিক নেতা সেজে মালিক ও সরকারের দালালি করছেন। এদের চিহ্নিত করতে হবে। তাহলেই শ্রমিকদের স্বার্থ হাসিল করা সম্ভব হবে।

সিপিবির সাবেক সভাপতি মঞ্জুরুল আহসান খান বলেন, বিশ্বের অন্যান্য দেশে বেতন বাড়ানোর জন্য আন্দোলন করা হয় কিন্তু বকেয়া বেতন আদায়ে কোনো দেশে আন্দোলন হয় না।

তিনি বলেন, আইন অনুযায়ী মাসের ৭ তারিখের মধ্যে শ্রমিকদের বেতন দেওয়া না হলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার বিধান রয়েছে। অথচ গত তিন মাস ধরে তোবা শ্রমিকরা বেতনের দাবিতে আন্দোলন করতে গেলে পুলিশ উল্টো তাদের নির্যাতন করছে।

সরকারের সমালোচনা করে তিনি বলেন, গার্মেস্টস মালিকরা শোসক আর সরকার শোষকের আশ্রয় দিয়ে জালিম সরকারে পরিণত হয়েছে।

অবস্থান ধর্মঘটে আরও বক্তব্য রাখেন বাসদ নেতা শুভ্রাংশু চক্রবর্তী, মুক্তি কাউন্সিলের ফয়জুল হাকিম লালা, শ্রমিক নেতা এড. মন্টু ঘোষ, জলি তালকদার, রিমা প্রমুখ।

জেইউ/