বন্যা আর বৃষ্টির প্রভাব কাঁচাবাজারে

0
51
bzar
সবজি- ফাইল ছবি

কয়েকদিন ধরেই দেশে অনেক নদীর পানি বিপদসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। সাথে ভারী বর্ষন তো আছেই। বন্যা আর বৃষ্টির এই প্রভাব পড়ছে রাজধানীর কাঁচাবাজারেও।

bzar
রাজধানীর সবজি বাজার

গত সপ্তাহের থেকে বেগুন, ঝিঙ্গা, চিচিঙ্গা, সিমসহ সবধরনের সবজির দাম বেড়েছে। গড়পড়তা এসব সবজির দাম ১০ টাকা থেকে ৪০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে।
সবজি বিক্রেতা জামিল বলেন, বৃষ্টির ও বন্যার কারণে সবজি নষ্ট হচ্ছে। অনেক সবজির জমি পানিতে ডুবে গেছে। চাহিদা অনুযায়ী পাইকারি বাজারে সরবরাহ কম।পাইকারি বাজারে দাম বাড়ায় খুচরা বাজারেও দাম বেড়েছে।

তবে গত এক মাসের ব্যবধানে খুচরা বাজারে গুঁড়ো দুধের দাম কিছুটা কমেছে। এছাড়া চাল ডালসহ অন্যান্য পণ্যের দামের তেমন কোনো পরিবর্তন নেই।
শুক্রবার শান্তিনগর কাঁচাবাজার ঘুরে দেখা গেছে, প্রতি কেজি বেগুন ৮০-৯০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। যা গত সপ্তাহে ছিল ৫০-৬০ টাকা। বরবটি ৬০ থেকে বেড়ে ৮০ টাকা, করলা ৫০ টাকা থেকে ৬০, ঝিঙ্গা ৪০ টাকা থেকে ৬০ টাকা, ঢেঁড়স ৫০ টাকা থেকে ৬০ টাকা, চিচিঙ্গা ৫০ টাকা ৭০ টাকা ও সিম ৯০ টাকা থেকে বেড়ে ১২০-১৩০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

এছাড়া মুলা ৭০-৮০ টাকা, কাঁচামরিচ ১৬০ টাকা, টমেটো ১৪০ টাকা ৬০ টাকা, কচুর মুখি ৫০ টাকা, পেঁপে ৩০ টাকা, শসা ৪০-৫০ টাকা, আলু ২৫ টাকা, ধুন্দল ৬০ টাকা, দেশি গাজর ৬০-৭০ টাকা, কচুর লতি ৪০ টাকা, পটল ৫০ টাকা, প্রতি হালি লেবু ২০-৩০ টাকা ও কাঁচাকলা হালি ২৫-৩০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

দোকানিরা ফুলকপি ৪০-৪৫, পাতাকপি ৩০-৩৫ টাকা, সবুজ শাক আটি ১০ টাকা, লাউশাক ২০-৩০ টাকা, লাল শাক ১০ টাকা, মুলা শাক ৫ টাকা, পুঁইশাক ১৫-২০ টাকা, ডাটা ১০-১৫ টাকা, কলমি শাক ৫ টাকা ও ধনে পাতা (১০০ গ্রাম) ৩০ টাকায় বিক্রি করছে।

এদিকে খেসারি ডাল ৫০ টাকা, দেশি মসুর ডাল ১০৫-১১০, ভারতীয় মসুর ডাল ৮০-৮৫ টাকা, অস্ট্রেলিয়ান মসুর ডাল ১১০-১১৫ টাকা, ছোলা ৬০ টাকা, মুগ ডাল ১১০-১১৫ টাকা, মটর ডাল ৮০ টাকা, অ্যাংকর ডাল ৪৬, বুট ডাল ৭০ টাকা, খোলা চিনি ৪৬-৪৭ টাকা, প্যাকেট চিনি ৫০ টাকা এবং আটা ৩২ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

প্রতি লিটার খোলা সয়াবিন তেল ১০৫-১১০ টাকা ও পামলিন ৯০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

প্রতি কেজি দেশি আদা ১৭০-১৮০ টাকা, চায়না আদা ২৪০-২৫০ টাকা, রসুন ৭০-৮০ টাকা, দেশি পেঁয়াজ ৪০-৪৫ টাকা এবং ভারতীয় পেঁয়াজ ৩৮-৪০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া ফার্মের মুরগির ডিম প্রতি হালি ৩৫ টাকা এবং হাঁসের ডিম ৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

মাংসের বাজারে প্রতি কেজি ব্রয়লার মুরগি ১৫৫ টাকা, লেয়ার মুরগি ১৮০ টাকা, গরুর মাংস ৩০০ টাকা ও খাসির মাংস ৪৮০-৫০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

মাছের বাজার ঘুরে দেখা গেছে, প্রতি কেজি মাঝারি সিলভার ১৪০-২৫০ টাকা, পাঙ্গাস ১২০-২৫০ টাকা, চাষের কৈ ২৫০-৩০০ টাকা, চিংড়ি ৫৫০-৯০০ টাকা, টেংরা ৫৫০-৭০০ টাকা, পাবদা ৭০০-৯০০ টাকা, শিং মাছ ৬০০-৮০০ টাকা, রুই ২৮০-৩৮০ টাকা, রুপচাঁদা ১০৫০-১১০০ টাকা, মলা ৫০০ টাকা, পোয়া মাছ ৬০০-৭০০, বেলে ৫৫০-৭০০ টাকা, চেওয়া ৫০০ টাকা, মাঝারি তেলাপিয়া ১৮০-৩০০ টাকা, কাতল ৩০০-৪০০ টাকা, দেশি মাগুর ৬০০-৯০০ টাকা ও আকারভেদে ইলিশ প্রতিজোড়া ১২০০-২২০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

এদিকে গত এক মাসের ব্যবধানে খুচরা বাজারে গুঁড়ো দুধের দাম কিছুটা কমেছে।

ডানো প্রতি কেজি ৭১০ টাকা থেকে কমে ৬৮০ টাকা ও ৪০০ গ্রাম প্যাক ২৮০ টাকা থেকে কমে ২৬৫ টাকা হয়েছে। রেডকাউ প্রতি কেজি ৬৬৫ টাকা থেকে কমে ৬৪৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। মার্কস ৫০০ গ্রাম ২৯৫ টাকা থেকে কমে ২৬৫ টাকা ও ৪০০ গ্রাম প্যাক ২৩০ টাকা থেকে কমে ২০৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
এছাড়া ডিপ্লোমা প্রতি কেজি ৬৫০ টাকা, নিডো ৭০০ গ্রাম ৫৭০ টাকা ও ৪০০ গ্রাম ২৯০ টাকা এবং ফ্রেস ৪০০ গ্রাম ২০৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

চালের খুচরা বাজার ঘুরে দেখা গেছে, মোটা চালের দাম কেজিতে ১-২ টাকা কমে ৩৫-৩৬ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। তবে অন্যান্য চাল দাম আ্গের মতোই আছে।
পারিজা চাল প্রতি কেজি ৩৯-৪০ টাকা, মিনিকেট ১ নং ৪৮-৫০ টাকা, বি.আর. ঊনত্রিশ ৩৯-৪০ টাকা, বি.আর.আটাশ ৪০-৪২ টাকা, জিরা নাজিরশাইল ৫৮-৬০ টাকা, হাচকি নাজিরশাইল ৪২-৪৩ টাকা এবং পোলাও চাল মানভেদে ৮০-৮৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

এমআই/ইউএম