ইবোলা আক্রান্ত দেশে যেতে পারছেন না হু-কর্মীরা

0
32
ebola
৯ মাসের ইবোলা ভাইরাসে আক্রান্তদের সংখ্যা ২০ হাজারের কোঠায় পৌছে যাবে: হু
ebola
৯ মাসের ইবোলা ভাইরাসে আক্রান্তদের সংখ্যা ২০ হাজারের কোঠায় পৌছে যাবে: হু

ইবোলা ভাইরাসে পশ্চিম আফ্রিকার চার দেশে মৃত্যুমিছিল অব্যাহত। এখনও পর্যন্ত মৃত্যু হয়েছে ১৫৫২ জনের। যদিও প্রতিদিনই বাড়ছে সেই সংখ্যা।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (হু)-র আশ্বাস, আগামী তিন মাসের মধ্যে অবস্থা নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা চালাচ্ছে তারা। তবে একই সঙ্গে তাদের এটাও আশঙ্কা যে, তত দিনে হয়তো ইবোলা ভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যাটা ২০ হাজারের কোঠায় পৌঁছবে।

পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে ইবোলা আক্রান্ত দেশগুলোর সঙ্গে বিমান যোগাযোগ সম্পূর্ণ বন্ধ করে দেওয়ায়। সীমান্ত বন্ধ করে দিয়েছে প্রতিবেশী দেশগুলোও।

ফলে হু-র স্বাস্থ্যকর্মীরা পৌঁছতেই পারছেন না আফ্রিকার ওই চার দেশে। লাইবেরিয়া, গিনি, সিয়েরা লিয়ন ও নাইজেরিয়ায় ওষুধ কিংবা চিকিৎসার সরঞ্জাম পাঠাতেও হিমশিম খেতে হচ্ছে।

এক খবরে ভারতের একটি বার্তাসংস্থা জানিয়েছে, ফরাসি কর্তৃপক্ষের নির্দেশ মেনে এয়ার ফ্রান্স ঘোষণা করেছে, ওই দেশগুলির সঙ্গে বিমান যোগাযোগ আপাতত বন্ধ রাখবে তারা। এয়ার মরক্কোও প্রতিবেশী দেশগুলোতে একটার বেশি বিমান যেতে দিতে নারাজ।

এদিকে বৃহস্পতিবার ব্রিটিশ এয়ারওয়েজ জানিয়ে দিয়েছে, সিয়েরা লিয়ন ও লাইবেরিয়ায় বিমান যোগাযোগ বন্ধ করে দিচ্ছে তারা। জানুয়ারির আগে নতুন করে যাত্রা শুরুর কোনও চিন্তাভাবনাই নেই। লাইবেরিয়ার অবস্থাই সব চেয়ে খারাপ। হিসাব অনুযায়ী, এখনও পর্যন্ত সে দেশে মারা গিয়েছেন ৬২৪ জন।

কিন্তু রোগের ভয়ে দেশগুলোকে এ ভাবে এড়িয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্তে বিমান সংস্থাগুলোর ওপর ক্ষুব্ধ রাষ্ট্রপুঞ্জের ইবোলা বিষয়ক দূত ডেভিড নাবারো। তিনি বলছেন, “বহির্বিশ্বের থেকে ওই চারটি দেশকে এ ভাবে বিচ্ছিন্ন করে দেওয়ায় রাষ্ট্রপুঞ্জের পক্ষে কাজ করাটাই কঠিন হয়ে দাঁড়াচ্ছে।”

ব্রাসেলস এয়ার লাইন্সের ৩ থেকে ৪ টা বিমান প্রতিদিন যাতায়াত করত লাইবেরিয়া, গিনিতে। কিন্তু সম্প্রতি প্রতিবেশী রাষ্ট্রগুলো সীমান্ত বন্ধ করে দেওয়ায় পিছু হটেছে তারাও। এই পরিস্থিতিতে চিকিৎসার সরঞ্জামই বা কী ভাবে ওই চার দেশে পৌঁছবে?

ব্রাসেলস এয়ার লাইন্স জানিয়েছে, সে জন্য আলাদা বিমানের ব্যবস্থা করবে তারা। কিন্তু নিয়মিত উড়ান সফর চালু রাখতে তারা নারাজ।

মরক্কো বিমানসংস্থাই একমাত্র দিনে একটা করে উড়ান চালু রেখেছে। সংস্থাটির এক মুখপাত্র জানিয়েছেন, “যাত্রী হয় না বললেই চলে। ৯০ শতাংশ আসনই ভরে না। তবে আর্থিক লাভক্ষতি কথা মাথায় না রেখে শুধুমাত্র দেশগুলোর পাশে দাঁড়াতেই আমাদের এই সিদ্ধান্ত।”
বিমান যোগাযোগ বন্ধ