আনন্দের তদন্তে ৩ ব্যাংককে সতর্ক করল দুদক

0
65
acc-ananda
আনন্দ-দুদক
acc-ananda
আনন্দ-দুদক

জাহাজ নির্মাণ প্রতিষ্ঠান আনন্দ শিপইয়ার্ডের ঋণ অনিয়মের অভিযোগ তদন্তে দুর্নীতি দমন কমিশনকে (দুদক) সংশ্লিষ্ট ব্যাংকগুলো সহায়তা করছে না বলে মনে করছে দুদক। প্রতিষ্ঠানটির অভিযোগ, ব্যাংকগুলোর কাছে ঋণ ও এলসির কাগজপত্র চেয়ে চার মাস আগে চিঠি দেওয়া হলেও তাতে সাড়া দেয়নি তারা। এমন অবস্থায় সংশ্লিষ্ট তিন ব্যাংককে সতর্ক করেছে দুদক। নথিপত্র দেওয়া না হলে তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলা হয়েছে আনন্দের চিঠিতে।

গত রোববার দুদকের অনুসন্ধানকারী দল ব্যাংক তিনটির ব্যবস্থাপনা পরিচালককে এ চিঠি পাঠিয়েছেন বলে নিশ্চিত করেছে কমিশনের উপ-পরিচালক মীর জয়নুল আবেদীন শিবলী।

দুদক সূত্র জানায়, আনন্দ শিপইয়ার্ড ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ লিমিটেড, মার্কেন্টাইল ব্যাংক, বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক, জনতা ব্যাংক, এবি ব্যাংক, এনসিসি ব্যাংক ও ওয়ান ব্যাংকসহ ৭টি শীর্ষ স্থানীয় ব্যাংক এবং ৭টি ব্যাংক বহির্ভূত আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে ১ হাজার ৬০০ কোটি টাকা ঋণ নেয়। কিন্তু ঋণের অর্থ তারা সঠিক সময়ে পরিশোধ করেনি। আবার যে খাতে ব্যবহারের কথা বলা হয়েছিল, সে খাতেও ব্যবহার করেনি।

 অনুসন্ধানের অংশ হিসেবে গত ২৪ এপ্রিল সংশ্লিষ্ট ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর কাছে আনন্দ শিপইয়ার্ডের ঋণ ও এলসি সংক্রান্ত কাগজপত্র চেয়ে চিঠি দেয় দুদক। চিঠিতে সংশ্লিষ্ট ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে আনন্দ শিপইয়ার্ডের জাহাজ নির্মাণের জন্য নেওয়া ঋণপত্র,ঋণ মঞ্জুরীর শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত সব নথি। যেমন ওভার ভ্যালুয়েশন দেওয়া হয়েছে কি-না, ঋণের বিপরীতে জামানত পর্যাপ্ত ছিল কি-না ইত্যাদি।

এ চিঠির প্রেক্ষিতে দিয়েছে ইসলামী ব্যাংক, বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক, ওয়ান ব্যাংক ও মার্কেন্টাইল ব্যাংক, আইডিএলসি ফাইনান্স, ফারইস্ট ফাইনান্স, প্রিমিয়ার লিজিং, বাংলাদেশ ইন্ডাস্ট্রিয়াল ফাইনান্স, ফিনিক্স ফাইনান্স, ন্যাশানাল হাউজিং, হজ ফাইনান্স কোম্পানি তাদের কাগজপত্র জমা দেয়।

 বাকী ৩ ব্যাংকের মধ্যে এবি ব্যাংক কয়েকদিন আগে ব্যাংকার্রস বুক অব এভিডেন্স আইনে কোর্টের অনুমোদন ছাড়া কাউকে একাউন্টের তথ্য দেওয়া যাবে না বলে চিঠির জবাব দেয়। জনতা ও এনসিসি ব্যাংক দুদককে কিছু জানায়নি।

ব্যাংকগুলোর ৩টির কাছে পাঠানো চিঠিতে দুদক জানিয়েছে, এবি ব্যাংক যে আইনের কথা বলছে, তা শুধু ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের একাউন্ট দেওয়ার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। দুদক তাদের কাছে একাউন্ট নম্বর না চেয়ে বরং এলসি ও ঋণের কাগজ পত্র চেয়েছে। এছাড়া দুদক সংশোধিত আইন ২০১৩ ২ (ক) ধারা মতে, কোনো তথ্য পাওয়ার ক্ষেত্রে দুদকের আইন অন্যান্য সব আইনের ওপর প্রাধান্য পাবে।

 এছাড়া দুদকের কোনো অনুসন্ধানে তথ্য না দিলে বা বাধা দেওয়া দুদক আইনে শাস্তিযোগ্য বলেও উল্লেখ করা হয় চিঠিতে।

এ বিষযে অনুসন্ধানকারী কর্মকর্তা মীর জয়নুল আবেদীন শিবলী বলেন, গত ৪ মাসেও ব্যাংকগুলো নথিপত্র না দেওয়ায় অনুসন্ধান কাজ এগুচ্ছে না। এ কারণে তাদের পুনঃরায় চিঠি দেওয়া হয়েছে। এবার নথিপত্র না দিলে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এদিকে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আনন্দ শিপইয়ার্ডের একজন কর্মকর্তা বলেন, বিশ্ব অর্থনীতির মন্দা এবং একটি  ক্রেতা প্রতিষ্ঠানের