বোল্টকে চ্যালেঞ্জ ছুড়ল ১০৪ বছরের বৃদ্ধ

0
33
১০৪ বছর বয়সী জাপানী নাগরিক হিদেকিচি মিয়াজাকি

উসাইন বোল্ট। নামটা মনে পড়লেই চোখে ভাসে ‘ভিন গ্রহের’ এক দৌড়বিদের কথা! কোনো দৌড় প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করলে বাকি প্রতিযোগীরা ট্র্যাকে আসেন তার পরের স্থানটার জন্য। ২০০৮ সাল থেকে এটাই যেন ট্রাকের অঘোষিত প্রথা ।

১০৪ বছর বয়সী জাপানী নাগরিক হিদেকিচি মিয়াজাকি
১০৪ বছর বয়সী জাপানী নাগরিক হিদেকিচি মিয়াজাকি

সময়ের অন্য সেরা স্প্রিন্টারদের বোল্টকে চ্যালেঞ্জ জানানোর সাহস হয়না। তবে এবার সেই অসম্ভব কাজটাই করেছেন ১০৩ বছর বয়সী জাপানী হিদেকিচি মিয়াজাকি। এই বয়সে পৌঁছানোটাই অনেকের কাছে স্বপ্নের মতো।আর বেঁচে থাকলে সাধারণত বিশ্রামে থেকে মৃত্যুর প্রহর গোনা।

তবে দৌড়-টৌড় থামিয়ে ঘরে বিশ্রাম নেওয়া আর মৃত্যুর প্রহর গোনা হিদেকিচির ধাতে নেই। লক্ষ্য স্থির করেছেন, ১০৫-১০৯ বছর বয়সী ক্যাটাগরির জয়টাও নিজের করার, ‘এই মুহূর্তে আমার লক্ষ্য একটাই। আগামী মাসেই আমার বয়স ১০৪ পূর্ণ হবে। সেটা কোনো সমস্যা নয়। পরবর্তী ক্যাটাগরির দৌড়ে জয়ী হয়েই আমি সেই লক্ষ্য পূরণ করতে চাই।

এএফপির এক প্রতিবেদন বলছে, জাপানের মিয়াজাকি দৌড় প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়া শুরুই করেছেন ৯২ বছর বয়সে। জাপানে প্রতিবছর অনুষ্ঠিত হয় বৃদ্ধদের দৌড় প্রতিযোগিতা। ২০১০ সালে শতবর্ষীদের ক্যাটাগরিতে প্রথম হয়েছিলেন মিয়াজাকি।

শতবর্ষীদের মধ্যে সবচেয়ে কম সময়ে (২৩.৮২ সেকেন্ড) দৌড় শেষ করার বিশ্বরেকর্ডটিও তার দখলে। সবাই তাকে ডাকে ‘গোল্ডেন বোল্ট’ নামে। ১০০ বছর পেরিয়ে গেলেও মিয়াজাকি যেন এখনো তরুণ। বোল্টকে রীতিমতো চ্যালেঞ্জই জানিয়ে বসেছেন তিনি। বেশ দৃঢ়তার সঙ্গেই বোল্টকে উদ্দেশ করে বলেছেন, ‘চলো দৌড়াই।’

এই বয়সে দৌড়ানোর শক্তি কীভাবে পান—এমন প্রশ্নের জবাবে মিয়াজাকি বলেন, ‘আমি আমার স্বপ্ন বাঁচিয়ে রাখি। শরীরের গড়ন ঠিক রাখি। আর চেষ্টা করি শৃঙ্খলাবদ্ধ ও সুস্থ থাকতে। এগুলো সবার জন্যই গুরুত্বপূর্ণ। এমনকি উসাইন বোল্টের জন্যও।’

মিয়াজাকি জানিয়েছেন, মেয়ের হাতে বানানো কমলালেবুর জ্যাম প্রতিদিন নিয়ম করেই খান । আর সব সময়ই নিজের মস্তিষ্ককে দুশ্চিন্তা থেকে দূরে রাখেন।

ইউএম/