‘ভারতে সব পরিবারের জন্য ব্যাংক অ্যাকাউন্ট’

0
33
narendramodi
ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী- ফাইল ছবি

নথিপত্র ছাড়াই ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খোলা যাবে ভারতে। অ্যাকাউন্ট খোলার ৬ মাসের মধ্যে নথিপত্র জমা দিলেই হবে। ব্যাংকের পরিষেবা নিতে ইন্টারনেটের প্রয়োজন হবে না। শুধুমাত্র মোবাইল এসএমএসের মাধ্যমে জানা যাবে অ্যাকাউন্ট সংক্রান্ত সব তথ্য। রিজার্ভ ব্যাংক অব ইন্ডিয়ার এক বিবৃতিতে এসব তথ্য জানানো হয়।

narendramodi
ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী- ফাইল ছবি

এছাড়া প্রতিটি পরিবারের কমপক্ষে ২জন সদস্যের নামে ব্যাংক অ্যাকাউন্ট থাকবে। আগামীকাল শুক্রবার ‘প্রধানমন্ত্রী জন-ধন যোজনা’ প্রকল্পের উদ্বোধন করবেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। প্রথম দিনেই ১ কোটি ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খোলার ঘোষণা দিয়েছেন মোদী। ইতোমধ্যে মাঠ পর্যায়ে কাজ করছে রিজার্ভ ব্যাংক, রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংক এবং মোবাইল পরিষেবা সংস্থাগুলো।

সকলের জন্য ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট খুলতে গত আড়াই মাস ধরে বিজার্ভ ব্যাংক, রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংক এবং মোবাইল পরিষেবা সংস্থাগুলোর কাছে ধর্ণা দিয়েছে মোদী সরকার। রির্জাভ ব্যাঙ্কের গভর্নর রঘুরাম রাজনের সঙ্গে বৈঠক, দেশের ৭ লাখ ২৫ হাজার ব্যাংক অফিসারের কাছে ব্যক্তিগত মেইল, মোবাইল ব্যাংক পরিষেবা চালু করতে মোবাইল পরিষেবা সংস্থাকে চাপসহ নানা পন্থা নিয়েছে মোদী।

ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খুলতে প্রয়োজনীয় নথিপত্র ‘কেওয়াইসি’ (নো ইয়োর কাস্টমার নর্মস) শর্ত শিথিল করেছে রিজার্ভ ব্যাংক। এর পাশাপাশি পরিষেবা সংস্থাগুলো এসএমএসের মাধ্যমেই ব্যাংকের বেশ কিছু সুবিধা দিতে রাজি হয়েছে।

সাধারণ মোবাইলের মাধ্যমেই জানা যাবে, ব্যাংক অ্যাকাউন্টে কত টাকা রয়েছে, বদলানো যাবে এটিএম-এর পিন, নতুন চেক বইয়ের জন্য আবেদন করা যাবে, অন্য অ্যাকাউন্টে টাকাও স্থানান্তর করা যাবে; যা করার জন্য এতো দিন ইন্টারনেট সংযোগের প্রয়োজন হতো।

রিজার্ভ ব্যাংক জানিয়েছে, ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খোলার জন্য যাদের প্রয়োজনীয় নথিপত্রই নেই, তারাও অ্যাকাউন্ট খুলতে পারবেন। নিজের সই করা ছবি এবং আবেদনপত্রে ব্যাংকের অফিসারের সামনে সই করেই অ্যাকাউন্ট খোলা যাবে। এগুলো স্মল অ্যাকাউন্ট হিসেবে চিহ্নিত হবে। এই অ্যাকাউন্ট থেকে মাসে ১০ হাজার টাকার বেশি তোলা যাবে না। একসঙ্গে ৫০ হাজার টাকার বেশি রাখাও যাবে না।

আরও জানানো হয়, ঠিকানা ও পরিচয়পত্র সংক্রান্ত নথি জমা দিতে না পারলেও প্রথম ১ বছর চালু থাকবে অ্যাকাউন্ট। প্রয়োজনীয় নথিপত্রের জন্য আবেদন করা হলে তা না পাওয়া পর্যন্ত আরও ১ বছর চালু থাকবে অ্যাকাউন্ট। ভোটার কার্ড, ড্রাইভিং লাইসেন্স, আধার কার্ড, ১০০ দিনের কাজের জব কার্ড, পাসপোর্টের মতো যে সব নথিতে ছবিসহ পরিচয় ও ঠিকানা রয়েছে; এর যে কোনো একটি থাকলেই ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খোলা যাবে। যদি নথিতে থাকা ঠিকানা ও বর্তমান ঠিকানা আলাদা হয়, তবে এ বিষয়ে শুধু নিজের সই করা একটি হলফনামা জমা দিতে হবে।

ক্ষমতায় আসার পর লালকেল্লা থেকে প্রথম বক্তব্যে এই প্রকল্পের কথা বলেছিলেন মোদী। প্রত্যেক ভারতবাসীকে দেশের আর্থিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত করতে এই প্রকল্পের স্লোগান হল ‘মেরা খাতা ভাগ্যবিধাতা’।

এমই/