ঢামেক থেকে চুরি যাওয়া শিশু উদ্ধার, গ্রেপ্তার ২

0
33
baby
ফাইল ছবি

ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে চুরি হয়ে যাওয়ার এক সপ্তাহ পর  শিশুটিকে উদ্ধার করেছে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব)। এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে বেলি আক্তার ওরফে রহিমা (৪৫) ও রাশেদা খানম ওরফে পারভীন (৪৮) নামের ২ নারীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

DMC Bar Child2
র‍্যাব সদস্যের কোলে উদ্ধার করা শিশু। দু পাশে আটক ২ নারী।

গতকাল বুধবার দিবাগত রাত আড়াইটার দিকে গাজীপুর থেকে শিশুটিকে উদ্ধার করে র‌্যাব।

আজ বৃহস্পতিবার সকালে র‌্যাবের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (এডিজি) কর্নেল জিয়াউল আহসান জানান, গাজীপুর সদর উপজেলার বোর্ড বাজারের উত্তর কলমেশ্বর এলাকায় রহিমার কাছ থেকে শিশুটিকে উদ্ধার করা হয়। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আয়া পারভীনের কাছ থেকে শিশুটিকে নিয়েছেন তিনি। এ জন্য পারভীনকে প্রায় ৪০ হাজার টাকা দিয়েছেন রহিমা।

ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নবজাতক ওয়ার্ড থেকে ২১ আগস্ট ভোরে নবজাতক যমজের একটি চুরি হয়। শিশুটি মোহাম্মদপুরের বিজলী মহল্লার বাসিন্দা কাওছার হোসেন ও রুনা আক্তার দম্পতির। দুঃসহ স্মৃতি নিয়ে ২৬ আগস্ট বিকেলে হাসপাতাল ছাড়েন মা।

হাসপাতাল সূত্র জানায়, ১৯ আগস্ট গভীর রাতে রুনা আক্তারের প্রসববেদনা শুরু হলে তাকে দ্রুত ঢাকা মেডিকেলের প্রসূতি ওয়ার্ডে ভর্তি করা হয়। ২০ আগস্ট ভোর ৫টার দিকে তিনি যমজ ছেলে জন্ম দেন। ওই দিনই মা ও যমজ নবজাতককে দোতলায় নবজাতক ওয়ার্ডে পাঠানো হয়। মা ও নবজাতক যমজকে সার্বক্ষণিক তত্ত্বাবধান করতেন রুনার মা গুলেনূর বেগম।
ওই দিন কান্না থামানোর কথা বলে অপরিচিত এক নারী রুনার কাছ থেকে তার এক শিশুকে কোলে নিয়ে ওয়ার্ডে হাঁটাহাঁটি করেন। ধারণা করা হচ্ছে, ওই নারীই পরদিন ২১ আগস্ট সকালে রুনার যমজ ২ শিশুর একটিকে চুরি করে নিয়ে গেছেন।

নবজাতক চুরি হওয়ার পর হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ প্রথমে শাহবাগ থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) ও পরে মামলা করেছে। নবজাতক চুরির ঘটনায় করা মামলা তদন্ত করছে রমনা থানার পুলিশ।

ঘটনা তদন্তে হাসপাতালের গাইনি বিভাগের এক সহযোগী অধ্যাপককে প্রধান করে ৩ সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়েছে।

শিশু চুরির ঘটনায় নিজেদের ব্যর্থতা স্বীকার করেছেন ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. মোস্তাফিজুর রহমান।

এএসএ/