রাজধানীর পূর্ব রাজাবাজারে সুন্নি নেতা খুন

0
33
Nurul Islam Faruki
ইসলামী ফ্রন্টের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য মাওলানা নুরুল ইসলাম ফারুকী। ফাইল ছবি

রাজধানীর পূর্ব রাজাবাজারে নিজ বাসায় খুন হয়েছেন ইসলামী ফ্রন্টের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য মাওলানা নুরুল ইসলাম ফারুকী। সুন্নিভিত্তিক সংগঠন আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাতের নেতা তিনি। দীর্ঘদিন ধরে তিনি হাইকোর্ট মাজার মসজিদে খতিবের দায়িত্ব পালন করছিলেন। এর পাশাপাশি চ্যানেল আইয়ের ‘শান্তির পথে’ও ‘কাফেলা’ নামে দুটি ধর্মীয় অনুষ্ঠান উপস্থাপনা করতেন তিনি। হজ কাফেলার সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন তিনি।

Nurul Islam Faruki
ইসলামী ফ্রন্টের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য মাওলানা নুরুল ইসলাম ফারুকী। ফাইল ছবি

গতকাল বুধবার রাতে ঘরের সবাইকে বেঁধে মাওলানা নুরুল ইসলাম ফারুকীকে গলা কেটে হত্যা করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল ঘটনাস্থল পরিবদর্শন করেছেন। খুব দ্রুত খুনিদের গ্রেপ্তারের নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।

নুরুল ইসলাম ফারুকীকে হত্যার কারণ তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি। তবে তার অনুসারীরা বলছেন, তিনি হিযবুত তাওহীদ, জামায়াতে ইসলামী ও হেফাজতে ইসলামের বিরোধিতা করতেন। এজন্য এর আগে তাকে হুমকিও দেওয়া হয়েছিল।

ঢাকা মহানগর পুলিশের উপ-কমিশনার মাসুদুর রহমান বলেন, টেলিভিশনে অনুষ্ঠানের কারণে কেউ ক্ষুব্ধ হয়ে, নাকি ব্যবসায়িক ও ব্যক্তিগত শত্রুতার কারণে তাকে হত্যা করা হয়েছে- তা তদন্ত করছে পুলিশ।

১৭৪ নম্বর পূর্ব রাজাবাজারে ৪তলা একটি বাড়ির ৩য় তলায় ভাড়া থাকতেন নুরুল ইসলাম ফারুকী। তার সঙ্গে আরও থাকতেন তার স্ত্রী, মা, এক গৃহকর্মী, ভাগ্নে মারুফ, তার মেঝ ছেলে ও ছোট ছেলে। বড় ছেলে আহমেদ রেজা ফারুকী সৌদি আরবে থাকেন।

মারুফকে উদ্ধৃত করে রাজধানীর মিরপুরের বায়তুল রশিদ মসজিদের ইমাম মুফতি ইহসানুল হক জানান, রাত সাড়ে ৮টার দিকে হজে যাওয়ার কথা বলে বাসায় ২ জন যুবক আসে। দরজা খোলার পর তাদের সঙ্গে আরো ৬/৭ জন লোক ঘরে ঢুকে। তারা অস্ত্র বের করে টাকা আছে দাবি করলে নুরুল ইসলাম বলেন, এখন বাসায় ১ লাখ টাকা আছে। তখন তারা বলে- এতগুলো মানুষ, ১ লাখ টাকায় হবে না।

এরপর গামছা ও কাপড় দিয়ে অন্যদের হাত-পা বেঁধে নুরুল ইসলামকে তার শোবার ঘরে নিয়ে জবাই করা হয় বলে মুফতি ইহসানুল জানান। এরপর ওই যুবকরা চলে যায়। ঘটনার সময় তার মেজ ও ছোট ছেলে ঘরে ছিলেন না।

শেরে-বাংলা নগর থানার উপ-পরিদর্শক সাব্বির আহমেদ বলেন, খুনের খবর জানার পর রাত ৯টার দিকে তার বাসায় গেছে পুলিশ। হত্যাকারীদের পরিচয় কেউ জানাতে পারেননি।

নুরুল ইসলামের মেঝ ছেলে ফয়সাল ফারুকী বলেন, এদের মধ্যে থাকা ২ জনকে খাদেমরা চিনেছিল। গত ২দিন আগেও তারা একবার এসেছিল। সেদিন আব্বা তাদের আজকে আসতে বলেন। আজ ওই ২ জনের হাতে পিস্তল ও চাপাতি ছিল।

হত্যাকাণ্ডের কারণ সম্পর্কে তিনি বলেন, আব্বা ইসলামের মূল বাণী প্রচার করতেন। হিযবুত তাওহীদ, জামায়াত-শিবির, হেফাজতে ইসলামের বিরুদ্ধে কথা বলতেন। তাই অনেকেই তার ওপর ক্ষিপ্ত ছিল।

নুরুল ইসলামের সার্বক্ষণিক সহচর (খাদেম) আহমদ নুরী বলেন, জঙ্গিবাদ-সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে কথা বলার কারণে উনাকে আগেও হুমকি দেওয়া হয়েছিল।

তেজগাঁও অঞ্চলের উপ-কমিশনার বিপ্লব কুমার সরকার জানান, ঘটনাস্থলে কয়েকজন প্রত্যক্ষদর্শীর সাক্ষ্য নেওয়া হয়েছে।

হত্যার খবর জানতে পেরে তার বাড়ির সামনে ও আশপাশে ইসলামী ফ্রন্টের কয়েকশ নেতাকর্মী জড়ো হন। হত্যাকাণ্ডের তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় নিহতের বাড়ির কাছে গ্রিন রোডে বিক্ষোভ করেছে ইসলামী ফ্রন্ট ও ছাত্রসেনার নেতা-কর্মীরা। চট্টগ্রামে বিক্ষোভ থেকে কয়েকটি গাড়ি ভাংচুরও হয়েছে। রাত দেড়টার দিকে লাশ ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে নেয়ার সময়ও তারা হত্যাকাণ্ডের বিচার দাবিতে স্লোগান দেওয়া হয়।

হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে বৃহস্পতিবার দুপুর ২টায় জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে বিক্ষোভের ডাক দেওয়া হয়েছে বলে জানান আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাতের মহাসচিব আ.ন.ম. মাসুদ হোসেন আল কাদরী।

প্রসঙ্গত, গত বছরের ডিসেম্বরে ঢাকার গোপীবাগে মুরিদ সেজে কথিত এক পীরের বাড়িতে ঢুকে ৬ জনকে গলা কেটে হত্যা করা হয়। ওই হত্যাকাণ্ডে ইসলামী উগ্রপন্থিরা জড়িত বলে দাবি করছে পুলিশ।

ঘটনাস্থলে উপস্থিত পুলিশ সদস্যরা জানিয়েছেন, নুরুল ইসলাম ফারুকীর হত্যাকাণ্ডের ধরনের সঙ্গে গোপীবাগের ৬ হত্যার মিল রয়েছে।

এমই/