ব্যাংক ভল্টের বিমার জন্য নতুন নীতিমালা হচ্ছে

0
32
bank-vault
ব্যাংক ভল্ট
bank-vault
ব্যাংক ভল্ট

ব্যাংকের ভল্টে সংরক্ষিত টাকার বিমার জন্য নতুন নীতিমালা প্রণয়ন করতে যাচ্ছে বিমা নিয়ন্ত্রণ ও উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (আইডিআরএ)। ইতোমধ্যে সাধারণ বীমা খাতে পলিসি ও প্রিমিয়াম নির্ধারণ সংক্রান্ত আইডিআরএ’র বিশেষ কমিটি সিআরসি কাজ শুরু করেছে। শিগগিরই বিষয়টি চূড়ান্ত হবে। আইডিআরএ সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

বর্তমানে ভল্টের বিমা করার সুযোগ থাকলেও নীতিমালা সংক্রান্ত জটিলতা ও উচ্চ প্রিমিয়ামের কারণে বেশিরভাগ ব্যাংকই তা এড়িয়ে চলে। ফলে ভল্টে ডাকাতি বা এ জাতীয় কোনো দুর্ঘটনা ঘটলে এর ক্ষতিপূরণ পাওয়া যাচ্ছে না।

গত বছর একাধিক ব্যাংকের ভল্টে ডাকাতি হওয়ায় সব ব্যাংককে ভল্টের নিরাপত্তা বাড়ানোর এবং এর বিমা করার নির্দেশ দেয় কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এর পরিপ্রেক্ষিতে কয়েকটি ব্যাংক আইডিআরএ’র কাছে সহজ নীতিমালা প্রণয়ন ও প্রিমিয়ামের হার কমানোর অনুরোধ জানায়। এ বিষয়টি পর্যালোচনা করে ব্যবস্থা নিতে ক্রেডিট রেটিং কমিটিকে (সিআরসি) দায়িত্ব দেয় আইডিআরএ।

জানা গেছে, গত ৮ মার্চ বগুড়ার আদমদীঘি শাখা সোনালী ব্যাংকের সুড়ঙ্গ কেটে ৩২ লাখ ৫১ হাজার ৮৮৪ টাকা লুট করা হয়। এর আগে গত ২৭ জানুয়ারি সোনালী ব্যাংকের কিশোরগঞ্জ সদর শাখার ভল্টে ডাকাতির ঘটনা ঘটে। এতে ব্যাংকটির ভল্ট থেকে ১৬ কোটি ৪০ লাখ টাকা লুট হয়। এর প্রেক্ষিতে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোর ভল্টের নিরাপত্তার বিষয়ে প্রশ্ন ওঠে।

ব্যাংকের ভল্টে ডাকাতির প্রেক্ষিতে বাংলাদেশ ব্যাংকের ব্যাংকিং প্রবিধি ও নীতি বিভাগ একটি নির্দেশনা (বিআরপিডি সার্কুলার লেটার নং-০৩) জারি করে। এতে বলা হয়, ভল্টে রাখা সকল অর্থের পূর্ণ বীমা নিশ্চিত করতে হবে। এ বিষয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্দেশনা থাকলেও যথাযথ মনিটরিংয়ের অভাবে রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন ব্যাংকগুলো তা পালন করছে না।

জানা যায়, ভল্টে রাখা অর্থের বিমা নিশ্চিতের জন্য সহজ কোনো পলিসি নেই। অপরদিকে বিদ্যমান পলিসিগুলোর প্রিমিয়াম রেট বেশি হওয়ায় ব্যাংকগুলোর পক্ষ থেকে এ বিষয়ে সাশ্রয়ী প্রিমিয়াম রেট সম্পন্ন পলিসি প্রণয়নের আবেদন করা হয়। বিষয়টির গুরুত্ব বিবেচনায় ও বিদ্যমান সাধারণ বিমা কোম্পানিগুলোর আবেদনের প্রেক্ষিতে আইডিআরএ এবং সিআরসি ‘মানি ইন্স্যুরেন্স’ নামে নতুন একটি পলিসি প্রণয়নের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এর অধীনে ব্যাংকের ভল্টে গচ্ছিত সকল অর্থের পূর্ণ নিরাপত্তা নিশ্চিত করা যাবে- এমনটাই দাবি করেছেন সিআরসি সংশ্লিষ্টরা।

উল্লেখ্য, বর্তমানে সাধারণ বিমা কোম্পানিগুলো গচ্ছিত অর্থের নিরাপত্তা নিশ্চিতের জন্য ৩টি বীমা পলিসি পরিচালনা করছে। এগুলো হলো ক্যাশ ইন ট্রানজিট, ক্যাশ ইন সেফ এবং ক্যাশ ইন কাউন্টার। এর মধ্যে ক্যাশ ইন ট্রানজিট এবং ক্যাশ ইন সেফের ক্ষেত্রে ০.২৫ টাকা প্রিমিয়াম নেওয়া হয়। শুধুমাত্র বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে ক্যাশ ইন সেফ ও ক্যাশ ইন ট্রানজিটের ক্ষেত্রে বিমা অঙ্কের ওপর বিশেষ ব্যবস্থায় যথাক্রমে ০.১৫ টাকা ও ০.১৩ টাকা প্রিমিয়াম নেওয়া হয়। ওই ৩টি পলিসিকে এক করে ‘মানি ইন্স্যুরেন্স’ শীর্ষক একটি পলিসি প্রণয়ন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সিআরসি।

সিআরসি’র সিনিয়র এক্সিকিউটিভ অফিসার মো. মোর্শেদুল মুসলিম বলেন, ‘বীমা কোম্পানিগুলোর আবেদনের প্রেক্ষিতে আমরা ‘মানি ইন্স্যুরেন্স’ পলিসি তৈরি করেছি। সেন্ট্রাল রেটিং কমিটি ও আইডিআরএ’র অনুমোদনের পর শীঘ্রই সার্কুলার আকারে এটি জারি করা হবে’।

প্রিমিয়াম রেট বিষয়ে তিনি বলেন, ‘৩টি আলাদা পলিসিকে এক করে এ পলিসি তৈরি হয়েছে। আগে একেকটি পলিসির আলাদা প্রিমিয়াম রেট ছিল। বর্তমানে এ ৩টি পলিসির বিপরীতে ঝুঁকির বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে বিদ্যমান প্রিমিয়াম রেটের মধ্যে সমন্বয় করে পলিসিটির প্রিমিয়াম রেট নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে ক্যাশ ইন সেফ এবং ক্যাশ ইন কাউন্টারের প্রিমিয়াম রেট আগের চেয়ে কিছুটা কমলেও ক্যাশ ইন ট্রানজিটের প্রিমিয়াম রেট আগের তুলনায় কিছুটা বাড়বে।