সুইজারল্যান্ডে বাড়ছে সুইসাইড ট্যুরিজম

0
43
Mercy Killing
স্বেচ্ছা মৃত্যুর প্রতীকি ছবি

সুইসাইড ট্যুরিজমে জনপ্রিয় হচ্ছে সুইজারল্যান্ড। পৃথিবীর প্রায় প্রতিটি দেশে আত্মহত্যা দণ্ডনীয় অপরাধ হলেও সুইজারল্যান্ডসে স্বেচ্ছামৃত্যু বা মার্সি কিলিংয়ের আইন রয়েছে। এই আইনের কারণে সেখানে রোগীদের আত্মাহত্যায় বাধা দেওয়া যায় না। বরং আত্মহত্যায় সাহায্য করতে সে দেশে ৪টি পৃথক সংগঠন কাজ করছে।

Mercy Killing
স্বেচ্ছা মৃত্যুর প্রতীকি ছবি

পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, ২০০৮ সাল থেকে ২০১২ সালের মধ্যে ৩১টি দেশ থেকে ৬১১জন সুইসারল্যান্ডে গিয়ে স্বেচ্ছামৃত্যু বরণ করেছেন। শুধু ২০১২ সালেই বিভিন্ন দেশ থেকে মার্সি কিলিংয়ের জন্য সেখানে গিয়েছেন ১৭২ জন।

এতে আরও বলা হয়, ওই ৪ বছরে সুইসাইড ট্যুরিজমে সুইজারল্যান্ডে যাওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে ৬০ শতাংশ নারী। এছাড়া সবচেয়ে কম বয়সে মার্সি কিলিংয়ে অংশ নিয়েছেন ২৩ বছরের এক তরুণ। প্রবীণদের মধ্যে যিনি মার্সি কিলিংয়ের আশ্রয় নিয়েছিলেন তার বসয় ছিল ৯৭ বছর।

পরিসংখ্যান অনুযায়ী, সুইসাইড ট্যুরিজমে অংশগ্রহণকারী ৬১১ মধ্যে ২৬৮ জন জার্মান, ১২৬ জন ব্রিটেন, ৬৬ জন ফ্রান্স, ৪৪ জন ইতালি, ২১ জন মার্কিন, ১৪ জন অস্ট্রিয়ান, ১২ জন কানাডিয়ান, স্পেনের ৮ জন এবং ইসরায়েলের ৮ জন নাগরিক রয়েছে। এরা প্রত্যেকেই বিভিন্ন রোগ থেকে মুক্তি পেতে মার্সি কিলিংয়ের পথ বেছে নিয়েছেন।

মার্সি কিলিংয়ের সূত্র অনুযায়ী, দুরারোগ্য ব্যাধি ও অসহ্য যন্ত্রণা থেকে মুক্তি পেতে, নিজের জীবনের বিসর্জন দিতে আত্মাহত্যার পথ বেছে নিতে পারবেন যে কোনো কেউ।

নথিপত্রে বলা হয়েছে, পক্ষাঘাত কিংবা মোটর নিউরোন ডিজিজ-এর মতো স্নায়ুবিক রোগ; সেই সঙ্গে পার্কিনসন্স এবং মাল্টিপল সক্লেরোসিসের যন্ত্রণা থেকে মুক্তি পেতে এই পদ্ধতি অবলম্বন করা যাবে। বিশ্বের খুব কম দেশেই ‘ইউথেনেশিয়া’ বা ‘মার্সি কিলিং’ সংক্রান্ত আইন আছে।

যে ব্যাধি থেকে নিরাময়ের কোনো সম্ভাবনা নেই; যা শুধু যন্ত্রণা ও অসহায়তা বাড়ায়। সে ধরনের রোগভোগ থেকে মুক্তি পেতে মার্সি কিলিং অপরাধ নয় বলে আইন পাস করেছে সুইজারল্যান্ড। নেদারল্যান্ড, লুক্সেমবুর্গ, বেলজিয়াম এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কিছু রাজ্যে বৈধ মার্সি কিলিং। আবার ব্রিটেন ও ফ্রান্সের আদালতে এই প্রসঙ্গে মামলা চলছে।

মার্সি কিলিং যতই স্বীকৃত হলেও সুইসাইড টুরিজম নিয়ে সুইজারল্যান্ডেই বেশ বিতর্ক রয়েছে।

এমই/