অবিলম্বে তোবার ১৬০০ শ্রমিকের চাকরি দাবি

0
34
toba
োর
toba
রাজধানীর মুক্তি ভবনের প্রগতি সম্মেলন কক্ষে এক সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য রাখছেন তোবা গ্রুপের শ্রমিক সংগ্রাম কমিটির আহ্বায়ক মোশরেফা মিশু। বুধবার ছবিটি তুলেছেন আলোকচিত্রী খালেদুল কবির নয়ন।

অবিলম্বে তোবা গ্রুপের ৫টি কারখানা খুলে দিয়ে ১৬০০ শ্রমিকের চাকরি নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন তোবা গ্রুপের শ্রমিক সংগ্রাম কমিটির আহ্বায়ক মোশরেফা মিশু।

একইসঙ্গে কারখানা বন্ধে তোবা গ্রুপের এমডি দেলোয়ারের টাঙানো নোটিস অবৈধ আখ্যা দিয়ে শ্রমিকদের ঈদ বোনাস ও চলতি মাসের বেতন দাবি করেছেন তিনি।

বুধবার বেলা সাড়ে ১১টায় রাজধানীর মুক্তি ভবনের প্রগতি সম্মেলন কক্ষে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এই দাবি করেন। সংবাদ সম্মেলনে ১৫টি শ্রমিক সংগঠনের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

সংবাদ সম্মেলনে মোশরেফা মিশু বলেন, দেশের বিবেকবান মানুষের সঙ্গে তোবার ৫টি কারখানার শ্রমিকেরা জানেন যে, ১১দিনের ওই অনশন কর্মসূচি পরিচালনা করা না হলে শ্রমিকরা তাদের ৩ মাসের বেতন ও ওভারটাইম পেতেন না।

তিনি বলেন, শ্রমিক সংগঠনগুলো যখন কারখানাগুলোতে ছাঁটাই, নির্যাতন, ট্রেড ইউনিয়ন ও শ্রম আইন কার্যকরের জন্য আন্দোলন করছে; তখন সরকার ও মালিকপক্ষ একসুরে বলছে শিল্প ধ্বংসের ষড়যন্ত্র চলছে। এমনটা চলতে থাকলে পোশাক শিল্পে এক নম্বর রপ্তানিকারক দেশ হিসেবে গড়ে ওঠা তো দূরের কথা; এর ভবিষ্যৎ ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে উপনীত হবে।

মোশরেফা মিশু বলেন, রানা প্লাজা ধস ও তাজরীনের আগুনে শ্রমিক মরার পর দুর্বৃত্ত পোশাক মালিকরা এর শিল্পের সম্ভাবনাকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে। কারখানাগুলোতে এই চরম বর্বর পরিবেশ অব্যাহত থাকলে তা হবে অশনি সংকেত।

তিনি বলেন, তোবার এমডির টাঙানো নোটিস অবৈধ বলেছে সরকার। এজন্য শ্রমিকরা এখন ঈদের বোনাস ও চলতি মাসের বেতন পাবে। যত দিন এভাবে চলবে তত দিন তাদের বেতন দিতে হবে। কারখানা বন্ধ করার জন্য যে আইন আছে এমডি দেলোয়ার তার ধারের কাছেও যাননি।

দেলোয়ারের করা অভিযোগ মিথ্যা দাবি করে মিশু বলেন, কারখানা থেকে জিনিসপত্র নিয়ে যাওয়ার যে অভিযোগ উঠেছে তা সম্পূর্ণ মিথ্যা।

এসময় তিনি দেলোয়ারের জামিন বাতিল করে সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি করে দুই দিনের কর্মসূচি ঘোষণা করেন।

২৯ আগস্ট শুক্রবার বেলা ১১টায় জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে অবস্থান কর্মসূচি ও ৭ সেপ্টম্বর শ্রমমন্ত্রণালয়ের সামনে বিক্ষোভ প্রদর্শন করবেন তারা।

প্রসঙ্গত,৩ মাসের বকেয়া বেতন ও ঈদ বোনাসের দাবিতে রাজধানী বাড্ডার হোসেন মার্কেটে অবস্থিত তোবা গ্রুপের পাঁচটি গার্মেন্টস কারখানার শ্রমিকরা ঈদের আগের দিন থেকে টানা ১১দিন অনশন করে আসছিলেন। ঈদের পর পুলিশ অনশনকারীদের পিটিয়ে তাড়িয়ে দেয়। একই সময়ে বিজিএমইএ ভবনে তাদেরকে ৩ মাসের বেতন দেওয়া হয়। এর মাঝেই মুক্তি পান তোবা গ্রুপের মালিক দেলোয়ার হোসেন।