যা আছে খান ব্রাদার্স পিপি ওভেন ব্যাগে

0
96
Khan_Br_PP_Bag
খান ব্রাদার্স লোগো
Khan_Br_PP_Bag
খান ব্রাদার্স লোগো

সম্প্রতি অনুমোদন পাওয়া খান ব্রাদার্স পিপি ওভেন ব্যাগ লিমিটেডের প্রাথমিক গণপ্রস্তাবের (আইপিও) আবেদন ও চাঁদার টাকা জমা নেওয়া চলছে। আগামী বৃহস্পতিবার পর্যন্ত এটি চলবে। প্রথম তিন দিনেই ভালো সাড়া পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছেন কোম্পানি কর্তৃপক্ষ। আর প্রথম দিনেই আবেদনের পরিমাণ নির্ধারিত লট সংখ্যাকে ছাড়িয়ে যায়।

মঙ্গলবার বিভিন্ন ব্যাংকের সামনে দীর্ঘ লাইন দেখা গেছে। কোম্পানির আইপিওতে কোনো প্রিমিয়াম না থাকায় বিনিয়োগকারীদের ঝোঁকটা বেশি বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। অনেক বিনিয়োগকারীরা স্বীকারও করছেন বিষয়টি। ন্যাশনাল ব্যাংকের মতিঝিল শাখায় আবেদন ও টাকা জমা দিতে আসা আরিফুর রহমান অর্থসূচককে বলেন, প্রিমিয়াম না থাকায় এ শেয়ারে ঝুঁকি কম। অন্যদিকে বাজারে আসলে এ ধরণের (প্রিমিয়ামহীন) শেয়ারে ভালো ‘গ্যাপ’ পাওয়া যায়। তবে কোম্পানিটি কী উৎপাদন করে, তার মুনাফা ও ইপিএস কেমন সে সম্পর্কে ধারণা নেই তার।

আরিফুরের মতো আরও কয়েকজন বিনিয়োগকারীর সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, তারা কেউ কোম্পানির প্রসপেক্টাস পড়েননি। শুধু শুনেছেন কোম্পানিটি ভালো।বিশ্লেষকরা মনে করেন আইপিও হোক কিংবা সেকেন্ডারি মার্কেট হোক-বিনিয়োগকারীদের উচিত কোম্পানি সম্পর্কে জেনে বিনিয়োগ সিদ্ধান্ত নেওয়া। বিনিয়োগকারীদের সুবিধায় কোম্পানিটি সম্পর্কে ছোট্ট একটি বিশ্লেষণ তুলে ধরা হল-

খান ব্রাদার্স পিপি ওভেন ব্যাগ লিমিটেড পলিপ্রোপাইলিন ওভেন ফেব্রিকস, বস্তা,ব্যাগ ইত্যাদি তৈরি করে থাকে। চাল, ডাল, সিমেন্ট, সূতাসহ নানা ধরনের পণ্য মোড়কজাতকরণে এ ব্যাগ ব্যবহৃত হয়। দেশের বাজারের পাশাপাশি কোম্পানিটি সীমিত পরিসরে বিদেশেও এ ব্যাগ রপ্তানি শুরু করছে।

আইপিওতে ২ কোটি শেয়ার ইস্যু করে কোম্পানিটি ২০ কোটি টাকা সংগ্রহ করবে। আর তা মেশিনারিজ কেনা, বিল্ডিং নির্মাণ, ব্যাংক ঋণ পরিশোধ ও চলতি মূলধন সংস্থানে কাজে লাগাবে। এতে কোম্পানিটির বার্ষিক টার্নওভারের পরিমাণ ২৫ কোটি ৫০ লাখ টাকা বাড়বে।

জানা গেছে, আইপিও থেকে উত্তোলিত টাকা থেকে ১০ শতাংশ ঋণ পরিশোধ, ৮ শতাংশ চলতি মূলধন, ৭ শতাংশ আইপিও’র খরচ এবং ৭৪ শতাংশ উৎপাদন ক্ষমতা বাড়ানোর জন্য বিনিয়োগ করবে। আর এর জন্য স্থাপন করা হবে একটি নতুন ইউনিট। ওই ইউনিটে উৎপাদন করা হবে এফআইবিসি ব্যাগ।

বাজারে কোম্পানিটির প্রতিযোগীরা হল, সিনো বাংলা, দাদা ব্যাগ ইন্ড্রাস্ট্রি, এমএ ব্যাগ ইন্ড্রাস্ট্রি ও শোভন এবং মেঘনা গ্রুপ।

বর্তমান বাজারে পেপার ব্যাগ ও পিপি ব্যাগ মিলিয়ে বার্ষিক চাহিদা প্রায় ১১ কোটি টন। এর ভিতরে ৭০ শতাংশ পিপি ও ৩০ শতাংশ হলো পেপার ব্যাগ। সে হিসাবে বছরে পিপি ব্যাগের চাহিদা হলো ৭ কোটি ৭০ লাখ টন।

জানা গেছে, বর্তমানে কোম্পানিটির বার্ষিক টার্নওভার প্রায় ১০০ কোটি টাকা। বছরে ৬০ লাখ পিস ব্যাগ উৎপাদন করছে কোম্পানিটি।

২০১৩ সালে পণ্য বিক্রিতে প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৪৬ শতাংশ, সম্পদ বেড়েছে ৪৫ শতাংশ, ইক্যুটি বেড়েছে ৯৭ শতাংশ।

বর্তমানে কোম্পানিটির পরিশোধিত মূলধন ৪৩ কোটি ৫০ লাখ। আইপিও’র মাধ্যমে  টাকা তুলবে ২০ কোটি। এ হিসেবে আইপিও পরবর্তীতে কোম্পানিটির পরিশোধিত মূলধন হবে ৬৩ কোটি ৫০ লাখ।

২০১৩ সালে কোম্পানির শেয়ার প্রতি আয় বা ইপিএস ছিল ১ টাকা ৬৭ পয়সা।

ইস্যু ম্যানেজার হিসেবে কাজ করছে দুটি কোম্পানি। এরা হচ্ছে- এএফসি ক্যাপিটাল লিমিটেড এবং বিএমএসএল ইনভেস্টমেন্ট লিমিটেড।

খান ব্রাদার্স পিপি ওভেন ব্যাগ লিমিটেড খান ব্রাদার্স গ্রুপের একটি প্রতিষ্ঠান। গ্রুপটি জাহাজ নির্মাণ, শিপিং লাইসেন্স, গার্মেন্টস, পলিমার ব্যবসায়ে যুক্ত।

জিইউ