বিনা মাশুলে ৫ হাজার টন চাল ত্রিপুরায়

0
84
ashugonj-tripura-rice
আশুগঞ্জ বন্দরে চাল খালাস
ashugonj-tripura-rice
আশুগঞ্জ বন্দরে চাল খালাস

ভারতের কলকাতা হারবার নৌবন্দর থেকে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জ নৌবন্দরে আসা ৫টি জাহাজের চাল খালাস হয়েছে। মঙ্গলবার সকালে ১৮টি কাভার্ডভ্যানে ৩০৬ টন চাল পাঠানোর মধ্য দিয়ে ভারতের ত্রিপুরায় প্রথম দফার ৫ হাজার ৮০ টন চাল পাঠানো হয়।

এসব চাল আশুগঞ্জ নৌবন্দর থেকে ৩শ কাভার্ডভ্যানের মাধ্যমে আখাউড়া স্থলবন্দর দিয়ে ত্রিপুরায় পাঠানো হয়েছে। মোট ১০ হাজার টনের মধ্যে বাকী ৪৯২০ টন চাল কোরবানি ঈদের পর অক্টোবর মাসে ত্রিপুরায় পাঠানোর কাজ শুরু হবে। বন্দর কর্তৃপক্ষ ও পরিবহন ঠিকাদার সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সূত্রে জানায়, ১৯৭২ সালের নৌ-প্রটোকল চুক্তির আওতায় বাংলাদেশের ৩৫০ কিলোমিটার জলপথ ব্যবহার করে ভারতের অন্ধ্র প্রদেশ থেকে ৫টি জাহাজে এসব চাল গত ৫ আগস্ট ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জ নৌবন্দরে আসে। নৌ-প্রটোকল চুক্তিতে সড়ক পথ ব্যবহারের কথা না থাকলেও সরকারি সহায়তার আশুগঞ্জ নৌবন্দর থেকে আখাউড়া স্থলবন্দর পর্যন্ত ৫০ কিলোমিটার সড়ক পথ ব্যবহার করে গত ৭ আগস্ট ত্রিপুরায় চাল পাঠানো শুরু হয়।

কাস্টমসের আনুষ্ঠানিকতা শেষে জাহাজ থেকে এসব চাল খালাস করে গত ২০ দিনে কাভার্ডভ্যানের মাধ্যমে পুলিশ প্রহরায় সড়কপথে আখাউড়া স্থলবন্দর দিয়ে আগরতলায় নেওয়া হয়েছে। এই ২০ দিন কাস্টমস, বিআইডাব্লিওটিএ ও পুলিশ দিনরাত কাজ করলেও এসব চাল পরিবহনে ভারতের কাছ থেকে কোনো শুল্ক নেওয়া হয়নি।

পরিবহন ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান গালফ ওরিয়েন্ট সিওয়েজের লজিস্টিক ব্যবস্থাপক মো. নুরুজ্জামান (জামান) জানান, মোট ১০ হাজার টন চালের মধ্যে প্রথম দফায় আসা ৫টি জাহাজের ৫০৮০ টন চাল খালাস করে ত্রিপুরায় পাঠানো হয়েছে। বড় ঈদের পর বাকী ৪৯২০ টন চাল পাঠানোর পক্রিয়া চলছে।

আশুগঞ্জ স্থলবন্দরের পরিবহন পরিদর্শক মো. শাহ আলম জানান, ৫টি জাহাজ থেকে ৫ হাজার টন চাল খালাস করা হয়েছে। এসব চাল নিয়ে আসা জাহাজ নৌবন্দরে অবস্থান করায় প্রতিটন চালের বিপরীতে ৩৩ টাকা করে ল্যান্ডিং সার্ভিস চার্জ নেওয়া হয়েছে। এছাড়া অন্য কোনো চার্জ বা শুল্ক নেওয়া হয়নি।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া কাস্টমস এক্সাইজ ও ভ্যাট বিভাগের সহকারী কমিশনার মো. আহসান উল্লাহ জানান, প্রতিদিন কাস্টমসের আনুষ্টানিকতা শেষ করে চাল খালাস করার অনুমতি দেওয়া হয় এবং কড়া নিরাপত্তা প্রহরায় সীমান্ত এলাকা পর্যন্ত পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। দু দেশের উচ্চ পর্যায়ের সিদ্ধান্ত মোতাবেক নৌ প্রোটোকৌল চুক্তির আওতায় এসব চাল পরিবহন করায় কোনো প্রকার শুল্ক নেওয়া হয়নি।

চালের পর এবার নিত্য প্রয়োজনীয় অন্যান্য সামগ্রীও নিতে চায় ভারত। এই জন্য বাংলাদেশের সঙ্গে আলোচনা করতে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে অনুরোধ জানিয়েছেন ত্রিপুরা রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মানিক সরকার। গত শুক্রবার নয়াদিল্লিতে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাতকালে মুখ্যমন্ত্রী এই অনুরোধ জানান। ভারতের ত্রিপুরা থেকে প্রকাশিত ‘দৈনিক দেশের কথা’ পত্রিকা সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

আখাউড়া স্থলবন্দর সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক মো. মনির হোসেন বাবুল জানান, এই স্থলবন্দর দিয়ে যদি চালের মতোই অন্যান্য পণ্য বিনা শুল্কে বাংলাদেশের উপর দিয়ে ভারত নেওয়া হয় তাহলে এই বন্দরের ব্যবসারত অর্ধশতাধিক আমদানি-রপ্তানিকারক ও অন্ততঃ ৩৫টি সিঅ্যান্ডএফ এজেন্টের পথে বসতে হবে এবং বৃহত্তম রপ্তানিমুখি বন্দরটি ধ্বংস হয়ে যাবে।