‘গান্ধী’ নির্মাণে বাড়ি বন্ধক রেখেছিলেন অ্যাটনবরো

0
30
kingsley-attenborough at gandhi
'গান্ধী' নির্মাণের সেটে নাম ভূমিকায় অভিনয়কারী বেন কিংসলে এবং পরিচালক রিচার্ড অ্যাটনবরো।
kingsley-attenborough at gandhi
‘গান্ধী’ নির্মাণের সেটে নাম ভূমিকায় অভিনয়কারী বেন কিংসলে এবং পরিচালক রিচার্ড অ্যাটনবরো।

ব্রিটিশ পরিচালক রিচার্ড অ্যাটনবরোর মৃত্যুর পরপরই তার বিভিন্ন কাজ ওঠে এসেছে আলোচনায়। বেরিয়ে আসছে তার বর্ণাঢ্য জীবনের অজানা সব তথ্য।

এক খবরে আনন্দ বাজার পত্রিকা জানিয়েছে, অস্কারজয়ী ‘গান্ধী’ ছবির নির্মাণ করতে গিয়ে নিজের বাড়ি-জমি এমনকি সর্বস্ব পর্যন্ত বন্ধক রেখেছিলেন তিনি। ছবির জন্য প্রযোজক না পাওয়াতে তিনি এ কাজ করতে বাধ্য হন।

মহাত্মা গান্ধীকে নিয়ে ছবি নির্মাণে অ্যাটনবরোর পাগলামো এতটাই চরম ছিল যে, পদে পদে নানা অবহেলা-কটুক্তি নির্দ্বিধায় হজম করেছেন। জীবনের ২০ বছর তিনি শুধু এ ছবি নির্মাণের পেছনে ব্যয় করেছেন। বিনিময়ে ছবিটি মুক্তির খরচের ২০ গুণ বেশি আয় করার জিতে নিয়েছিলেন বিশ্বের তাবৎ চলচ্চিত্রপ্রেমীদের প্রশংসা ও ভালোবাসা।

এছাড়া অস্কারজয়ের পাশাপাশি নানা সম্মাননা তো আছেই।

ধুতি পরা একটি মানুষের কাহিনী এতটা আকর্ষণীয় এবং এতটা মূল্যবান হতে পারে তা অ্যাটনবরো মানসচক্ষুতে দেখে নিয়েছিলেন, এমনই ছিল তার প্রতিভা।

অবশ্য মনে প্রাণে একবারে সাধারণ ছিলেন অ্যাটনবরো। নিজের সম্পর্কে বলতে গিয়ে তিনি বলেছিলেন, আমি মহান পরিচালক হতে চাই না। শুধু গুছিয়ে গল্প বলতে চাই।

তবে শুধু নির্মাতা হিসেবে নয়, অভিনেতা অ্যাটানবরোও নিজ গুণে পৃথিবিব্যাপী পরিচিত লাভ করেছিলেন। স্টিভেন স্পিলবার্গের ‘জুরাসিক পার্ক’ থেকে সত্যজিৎ রায়ের ‘শতরঞ্জ কি খিলাড়ি’ পর্যন্ত সর্বত্রই ছিল তার সফল বিচরণ।

গত রোরবার ৯০ বছর বয়সে পৃথিবী থেকে বিদায় নিয়েছেন সেলুলয়েড জগতের এই মহান কারিগর। তবে তার কাজে তাকে অমর করে দিয়েছে।

সত্যিই তার মতো ক্ষণজন্মাদের কারণে পৃথিবী এতো সুন্দর এবং এই সৌন্দর্য আমাদের মতো অন্ধদের চোখেও ধরা দেয়।