অসময়ে ঘুম তাড়াতে …

0
64

একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কাজ করেন সাদিয়া সাফরিন। অফিসে তার কাজের সুখ্যাতিও বেশ। কিন্তু বেশ কিছুদিন ধরেই দুপুরের মধ্যে ক্লান্ত হয়ে পড়ছেন সাদিয়া৷ শত চেষ্টা করেও কেন যেন ঘুম ঘুম ভাব কাটাতে পারছেন না। কাজে মনোযোগও বসছে না ঠিকমতো।

অসময়ে ঘুম আর ক্লান্তির কী কারণ এবং এর থেকে মুক্তি পাওয়ার কিছু উপায় অর্থসূচক পাঠকদের জন্য-

ঘুম তেকে উঠেই গোসলটা সারুন
ঘুম তেকে উঠেই গোসলটা সারুন

দিনের শুরু
রাতে কোনো কারণে ঘুমের ব্যাঘাত হলে ঘুম থেকে উঠে কুসুম-কুসুম গরম পানি দিয়ে অবশ্যই গোসলটা সেরে নিন। সব শেষে শরীরে, হাতে-পায়ে খুব ঠান্ডা পানির ঝাপটা দিন৷ এতে শরীরে রক্ত চলাচল তো ভালো হবেই, হিম ঠান্ডা জল শরীরটাকেও করবে ঝরঝরে আর অনেক হালকা৷

সকালের নাস্তা
একটি সুন্দর দিনের জন্য সকালে ভালোভাবে নাস্তা করাটা খুব জরুরি৷ তবে ভারি নাস্তা না করে বিভিন্ন শষ্যদানাসহ রুটি, কলা বা অন্য কোনো ফল, সামান্য দই, মিষ্টি আর সঙ্গে কফি বা চা পান করুন৷ এতে পেট ভরবে, বাড়বে ‘এনার্জি’-ও৷ চাকরিজীবী বা ছাত্রদের জন্য সকালের প্রতিটি মিনিটই খুব মূল্যবান৷ কিন্তু তারপরও নাস্তার জন্য একটু সময় বের করে করুন না!

গান শুনুন
গান মানুষের আবেগকে নাড়া দেয় এবং মস্তিষ্কের কোষগুলিকে জাগিয়ে তোলে৷ তাই অফিসে অসময়ে ক্লান্ত বোধ করলে প্রিয় গানটি চালিয়ে দিন এবং নিজেও গুন গুন করুন৷ রুমে সহকর্মীরা থাকলে অবশ্যই কানে হেডফোন লাগিয়ে শুনবেন৷ এক্ষেত্রে হাল্কা, ধীর গান উপযোগী হলেও, হিপহপ, জ্যাজ বা হালকা রক মিউজিকও চলতে পারে৷

গান শুনুন
গান শুনুন

দুপুরে নিন হালকা খাবার
দুপুরে হালকা খাওয়া ভালো৷ খিদে পেলে মাঝে মধ্যে ৪-৫টিকাজু বাদাম খেতে পারেন৷ সাধারণ টক দই বা আপেল সাথে রাখুন৷ লাঞ্চের সময় সহকর্মীদের সাথে হালকা বিষয় নিয়ে কথা বলুন৷ তাছাড়া খুব ঠান্ডা পানি পান করলেও তা ঘুমের ভাব দূর করতে সাহায্য করে৷

মাঝে মাঝে হাত-পা নাড়ান
বেশিক্ষণ কম্পিউটারের সামনে বসে কাজ করলে স্বাভাবিকভাবেই মানুষ কিছুটা ক্লান্ত হয়ে যায়৷ তাই অন্তত ১-২ ঘণ্টা পরপর একবার করে দাঁড়িয়ে বা উঠে একটু হাঁটাহাঁটি বা হাত-পা নাড়াচাড়া করা উচিত৷ মাঝে মাঝে ঘাড়টাকেও একটু এদিক সেদিক ঘোরাবেন৷ তাছাড়া চেয়ারে বসে পা দুটোকে শব্দ করে নাচাতে পারেন – এতে ঘুম তাড়ানো খুব সহজ৷

শরীরকে জাগিয়ে তুলুন
কর্মক্ষেত্র বা শিক্ষাঙ্গন যেখানেই হোক না কেন ক্লান্ত লাগলে এক ঘর থেকে অন্য ঘরে লিফ্টের পরিবর্তে হেঁটে যান৷ সম্ভব হলে ক্যান্টিন থেকে ঘুরে আসুন৷ পথে কারো সাথে গিয়ে ২-৪ মিনিট হালকা বিষয়ে কথা বলুন৷ আর বাইরে যাওয়ার সুবিধা থাকলে ১০ মিনিটের জন্য খোলা বাতাসে হেঁটে আসতে পারেন, চোখে-মুখে দিতে পারেন পানির ঝাপটাও৷

এনার্জি ড্রিংককে না বলুন
এনার্জি ড্রিংকে অল্প সময়ের জন্য খুব তাড়াতাড়ি তরতাজা বা ফ্রেশ বোধ হয় – একথা যেমন ঠিক, তেমনি এও ঠিক যে পরে আরও বেশি ক্লান্ত লাগে৷ ঘুমকে ব্যাহত করে এবং পরের দিনও এর রেশ থেকে যায়৷ কাজেই এনার্জি ড্রিংক থেকে দূরে থাকুন৷ বরং সামান্য গরম পানিতে কয়েক ফোটা লেবুর রস বা কমলার রস মিশিয়ে পান করুন, নিজেকে তরতাজা লাগবে৷

কিছু নিয়ম মেনে চলুন
আপনার বয়স যতই হোক না কেন, প্রতিদিন একই সময় বিছানায় যাওয়া এবং ঘুম থেকে ওঠার অভ্যাস করলে দিনের বেলা ‘ফিট’ থাকতে তেমন আর সমস্যা হয় না৷ পাশাপাশি স্বাস্থ্যকর খাবার খেলে তো আর কথাই নেই৷ কাজেই এই দিকগুলোর দিকে একটু খেয়াল রাখলে সহজে ক্লান্তি বোধ আসে না৷

তাড়াতাড়ি ঘুমাতে যান
তাড়াতাড়ি ঘুমাতে যান

মুখ, চোখ, কান, নাক সজাগ রাখুন
মুখকে সজাগ রাখতে পুদিনা পাতার ফ্লেবার দেয়া চুইংগাম চিবাতে থাকুন৷ নাকের জন্য পুদিনা পাতার তেলের গন্ধ নিতে পারেন৷ অন্যদিকে চোখের আরামের জন্য একটু চোখ বন্ধ করুন বা জানালা দিয়ে বাইরে কিছুক্ষণ তাকিয়ে থাকতে পারেন৷ আর কানকে সজাগ করতে লতিটা একটু টিপে টিপে আলতো করে নিচের দিকে কয়েকবার টানুন৷

ডাক্তারের পরামর্শ নিন:
মাঝে মাঝেই ক্লান্ত বোধ করলে আর অপেক্ষা না করে সরাসরি ডাক্তারের কাছে যাওয়া উচিত৷ থাইরয়েড হরমনের ভারসাম্য সঠিক না হলে শরীরে নানা সমস্যা দেখা দেয়৷ বিশেষ করে ক্লান্ত বোধ, শুস্ক ত্বক, বিষন্নতা, কাজে অমনোযোগ, ওজন বাড়া ইত্যাদি৷ কাজেই এ ধরণের সমস্যা দেখা দিলে ডাক্তারি চেকআপ করিয়ে নেওয়াই বুদ্ধিমানের কাজ৷

ইউএম/