ফুলবাড়ীতে ট্রাজেডি দিবসে নানা আয়োজন

0
37
26 August picture
দিনাজপুরে স্মৃতিসৌধে পুষ্পার্ঘ অর্পণ।
26 August picture
দিনাজপুরে স্মৃতিসৌধে পুষ্পার্ঘ অর্পণ।

আজ ২৬ আগস্ট। ফুলবাড়ী ট্রাজেডি দিবসের অষ্টম বার্ষিকী। এ উপলক্ষে ফুলবাড়ীতে দিনভর ব্যাপক কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে।

কর্মসূচির মধ্যে সকালে কালো পতাকা উত্তোলন ও কালো ব্যাচ ধারণ, সকাল সাড়ে ১০টায় ফুলবাড়ী নিমতলা মোড়ে গণজমায়েত, সেখান থেকে শোক র‌্যালী ও স্মৃতিসৌধে পুষ্পার্ঘ অর্পণ।

এছাড়া বিকালে শহীদ স্মরনে বিভিন্ন মসজিদে দোয়া ও মিলাদ মাহফিলের আয়োজন করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, ফুলবাড়ী পৌর এলাকাসহ এর আশপাশের এলাকায় ভূগর্ভে কয়লার সন্ধান পাওয়ার পর এশিয়া এনার্জী নামে একটি বিদেশী কোম্পানী ২০০৫ সালের ২ অক্টোবর ফুলবাড়ীতে কয়লার সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের কাজ শুরু করে। তারা ওই এলাকায় ১১টি কূপ খনন করে। ফুলবাড়ী, বিরামপুর, নবাবগঞ্জ ও পার্বতীপুর উপজেলার অধীনে ৭টি ইউনিয়ন ও ১টি পৌরসভার অংশ ফুলবাড়ী প্রকল্প এলাকার অভ্যন্তরে অবস্থিত।

খনি বাস্তবায়নে ৫ হাজার ৯৩৩ হেক্টর জমি ক্ষতিগ্রস্থ হবে। এর মধ্যে কৃষি জমির পরিমান ৪ হাজার ৭৬২ হেক্টর। খনির মেয়াদকালে প্রায় ৪০ হাজার মানুষ এবং প্রায় ২০ হাজার স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্থ হবে।

এক পর্যায়ে উন্মুক্ত পদ্ধতিতে কয়লা উত্তোলনের প্রক্রিয়া শুরু করলে পরিবেশ বিপর্যয়ের আশংকা এবং এলাকায় প্রায় ৪০ হাজার মানুষকে অন্যত্র সরিয়ে নেয়ার প্রয়োজনীয়তা দেখা দিলে ‘ফুলবাড়ীর মানুষ ফুলবাড়ী রক্ষা কমিটি’ নামে একটি আন্দোলন কমিটি গঠন করে আন্দোলন শুরু করে।

পরে তেল, গ্যাস, খনিজ সম্পদ ও বিদ্যুৎ বন্দর রক্ষা জাতীয় কমিটি খনি বিরোধী আন্দোলনে যোগ দেয়। শুরু হয় তীব্র আন্দোলন। চলতে থাকে মিছিল, মিটিং এবং সমাবেশ। এর পরও এশিয়া এনার্জী তাদের কার্যক্রম অব্যাহত রাখে। আন্দোলনে বিস্ফোরণ ঘটে ২০০৬ সালের ২৬ আগষ্ট।

এই দিনে ফুলবাড়ী কয়লা খনি প্রকল্প বাতিল এবং এশিয়া এনার্জীকে প্রত্যাহারের দাবিতে তেল, গ্যাস, খনিজ সম্পদ ও বিদ্যুৎ বন্দর রক্ষা জাতীয় কমিটির উদ্যোগে মিছিল-সমাবেশ করা হয়। এ সময় পুলিশ ও বিডিআরদের সাথে জনতার সংঘর্ষের ঘটনায় সালেকীন (২০), তরিকুল ইসলাম (২১) ও আমিন (১৩) নিহত হয়। আহত হয় আরও ২ শতাধিক।

এএসএ/