ভুল সরকারের, মাশুল দিচ্ছে সাবমেরিন ক্যাবল  

0
57
Submarine Cable company, bsccl
সাব মেরিন ক্যাবল কোম্পানির ল্যান্ডিং স্টেশন
Submarine Cable company, bsccl
সাব মেরিন ক্যাবল কোম্পানির ল্যান্ডিং স্টেশন

মাত্র ২ বছর আগেও বাংলাদেশ সাবমেরিন ক্যাবল কোম্পানি (বিএসসিসিএল) ছিল খুবই লাভজনক একটি কোম্পানি। দেশের একমাত্র সাবমেরিন ক্যাবল সংযোগের বদৌলতে চুটিয়ে ব্যবসা করছিল কোম্পানিটি। ইন্টারনেটের ব্যবহার বাড়লে কোম্পানিটির মুনাফার পারদেও উর্ধগতি সঞ্চারের সম্ভাবনা ছিল ব্যাপক।কিন্তু সরকারের অদূরদর্শী ও ভুল সিদ্ধান্তের কারণে সে সম্ভাবনা এখন ধুলায় লুটোপুটি খাচ্ছে। উল্টো মুনাফার আগের ধারাই ধরে রাখতে পারছে না কোম্পানিটি।

পরিসংখ্যানে দেখা যায়, ২০১১-১২ হিসাববছরে কোম্পানিটি শেয়ার প্রতি আয় (ইপিএস) করেছিল ৭ টাকা ৮৫ পয়সা। এটিই ছিল কোম্পানির সোনালী সময়। পরের বছর থেকেই মুনাফা কমতে থাকে কোম্পানিটির। ২০১২-১৩ সালে কোম্পানির ইপিএস কমে হয় ৬ টাকা ৬৯ পয়সা, তাও অন্যান্য খাতের আয় নিয়ে। বিদায়ী ২০১৩-১৪ হিসাববছরে ইপিএস নেমে এসেছে ২ টাকা ৪২ পয়সা।

কোম্পানি সূত্রে জানা গেছে, সরকারের ভুল সিদ্ধান্তে যে অসম প্রতিযোগিতার মুখে পড়তে হয়েছে তার কারণেই দুর্দশায় পড়তে হয়েছে কোম্পানিটিকে।

উল্লেখ, ২০১২ সালে সরকার ৬টি ইন্টারন্যাশনাল টেরিস্টেরিয়াল ক্যাবললিংক (আইটিসি)।বিটিআরসির লাইসেন্সধারী এসব প্রতিষ্ঠানভারত থেকে নিম্নমানের ব্যান্ডউইথ এনে কম দামে বিক্রি করছে। দেশীয়প্রতিষ্ঠানের ব্যান্ডউইথের মূল্য যেখানে প্রতি মেগাবাইট ৪ হাজার ৮০০ টাকা, সেখানে এসব প্রতিষ্ঠান ২ হাজার টাকায় বিক্রি করছে সমপরিমাণ ব্যান্ডউইথ। একারণে ব্যান্ডউইথ ব্যবহারকারীরা সাবমেরিন ক্যাবল থেকে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছে।ঝুঁকেছে আইটিসিগুলোর দিকে। তাতে অবিক্রিত থেকে যাচ্ছে সাবমেরিন ক্যাবলেরব্যান্ডউইথের পরিমাণ।

বিশ্লেষকরা মনে করেন, বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোকে ব্যান্ডউইথ আমদানি করতে দেওয়ার সিদ্ধান্ত আত্মঘাতি হয়েছে। যে একমাত্র সরকারি কোম্পানিটির ব্যান্ডউইথই অবিক্রিত থাকে, সেখানে দেশের বাইরে থেকে ব্যান্ডউইথ আমদানি করার কোনো প্রয়োজন নেই।

উল্লেখ, সাবমেরিন ক্যাবলের ব্যান্ডউইথের পরিমাণ ২০০ গিগাবাইট (জিবি)। চাহিদা স্বল্পতার কারণে এখন পর্যন্ত এর অর্ধেকও বিক্রি করা যায়নি। জানা গেছে, গত বছরের জুনে সাবমেরিন ক্যাবলের ব্যান্ডউইথ বিক্রির পরিমাণ ছিল ৪২ জিবি। চলতি বছর তা ৩০ জিবির নিচে নেমে আসে। ব্যান্ডউইথ কমে যাওয়ার কারণেই মুনাফায় ধস নামে কোম্পানিটির।

আগামী বছর দ্বিতীয় সাবমেরিন ক্যাবলে যুক্ত হবে কোম্পানিটি। তখন এর ব্যান্ডউইথ অনেক বেড়ে যাবে। একই কারণে অবিক্রিত ব্যান্ডউইথের পরিমাণও বাড়বে।

এখন কোম্পানিটির ভাগ্য অনেকাংশে নির্ভর করছে ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে ব্যান্ডউইথ রপ্তানির সম্ভাবনার উপর। ভারত সরকার ৫০ জিবি ব্যান্ডউইথ আমদানি করতে আগ্রহী। এর মধ্যে প্রথম ধাপে তারা ১০ জিবি ব্যান্ডউইথ আমদানির জন্য সাবমেরিন ক্যাবল কোম্পানির সঙ্গে সমঝোতা স্মারক সই করেছে। তবে ব্যান্ডউইথের মূল্য নিয়ে সমঝোতা হলেই কেবল চূড়ান্ত চুক্তি হবে।