কৃষি ঋণ বিতরণ কমেছে ৭৭ কোটি ৪২ লাখ টাকা

0
35
কৃষি লোন
agri loan disbusrsment

চলতি ২০১৩-১৪ অর্থবছরের প্রথম মাস জুলাই শেষে কৃষি খাতে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো ৯০৪ কোটি ৫৩ লাখ টাকা ঋণ বিতরণ করেছে। গত অর্থবছরের একই সময় শেষে এর পরিমাণ ছিল ৯৮১ কোটি ৯৫ লাখ টাকা। সে হিসাবে গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ব্যাংকগুলো এ খাতে ৭৭ কোটি ৪২ লাখ টাকা কম ঋণ বিতরণ করেছে।

কৃষিঋণ বিতরণ সংক্রান্ত সর্বশেষ প্রতিবেদনে এ তথ্য পাওয়া গেছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী আলোচ্য সময়ে ৬টি বিদেশি এবং নতুন অনুমোদন পাওয়া ৩টিসহ বেসরকারি খাতের মোট ৪টি ব্যাংক এ খাতে কোনো ঋণ বিতরণ করেনি।

ঋণ বিতরণ না করা ব্যাংকগুলোর মধ্যে রয়েছে ব্যাংক আল-ফালাহ্ লিমিটেড, সিটি ব্যাংক এন এ, কমার্শিয়াল ব্যাংক অব সিলন, হাবিব ব্যাংক লিমিটেড, ন্যাশনাল ব্যাংক অব পাকিস্তান, স্টেট ব্যাংক অব ইন্ডিয়া, ফারমার্স ব্যাংক লিমিটেড, মধুমতি ব্যাংক লিমিটেড, এনআরবি ব্যাংক লিমিটেড, এনআরবি কমার্শিয়াল ব্যাংক লিমিটেড ও প্রাইম ব্যাংক লিমিটেড।

এদিকে, চলতি ২০১৪-১৫ অর্থবছরের জন্য ১৫ হাজার ৫৫০ কোটি টাকা কৃষি ঋণ বিতরণের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। যা গত অর্থবছরের লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় ৬ দশমিক ৫৪ শতাংশ বেশি।

এবারের নীতিমালায় কৃষি ও পল্লী ঋণের ক্রমবর্ধমান চাহিদা বিবেচনায় চলতি অর্থবছরে রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন বাণিজ্যিক ও বিশেষায়িত ব্যাংকসমূহের জন্য ৯ হাজার ১৪০ কোটি টাকা এবং বেসরকারী ও বিদেশী বাণিজ্যিক ব্যাংকসমূহের জন্য ৬ হাজার ৪১০ কোটি টাকা কৃষি ও পল্লী ঋণ বিতরণের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিবেদন অনুযায়ী, জুলাই শেষে রাষ্ট্রীয় ও বিশোষিত খাতের ব্যাংকগুলো একত্রে এ খাতে বিতরণ করেছে ৩৩০ কোটি ৩৮ লাখ টাকা। যা গত বছরের একই সময়ে ছিল ৪২৫ কোটি ৬৫ লাখ টাকা। এ সময় সবচেয়ে কম ঋণ বিতরণ করেছে রাষ্ট্রীয় খাতের রূপালী ব্যাংক। যার পরিমাণ মাত্র ১৫ লাখ টাকা।

এদিকে বেসরকারি বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো ঋণ দিয়েছে ৪৮৮ কোটি ৫৮ লাখ টাকা। যা গত বছরের একই সময়ে ছিল ৫৩৩ কোটি ৩০ লাখ টাকা।

অন্যদিকে বিদেশি খাতের ব্যাংকগুলো কৃষি খাতে ঋণ বিতরণ করেছে ৮৫ কোটি ৫৭ লাখ টাকা। যা গত বছরের একই সময়ে ছিল ২২ কোটি টাকা। সব মিলিয়ে জুলাই শেষে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর মোট ঋণ বিতরণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৯০৪ কোটি ৫৩ লাখ টাকা।

নতুন নীতিমালা অনুযায়ী, কৃষিখাতে বিনিয়োগ বাড়ানোর লক্ষ্যে বেসরকারি ও বিদেশি ব্যাংকগুলোকে মোট ঋণের আড়াই শতাংশ এবং নতুন ৯টি ব্যাংকের মোট ঋণের ৫ শতাংশ কৃষিখাতে বিতরণের জন্য নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।

এবারই প্রথমবারের মতো ব্যাংকের ক্যামেলস রেটিং নির্ণয়ের ক্ষেত্রে কৃষি ঋণ বিতরণের লক্ষ্যমাত্রা যুক্ত করা হয়েছে। এক্ষেত্রে এগ্রি ফাইন্যান্সিং পারফর্মেন্সকে ক্যামেলস এর ‘এম’ অর্থাৎ ব্যবস্থাপনা বা ম্যানেজমেন্ট কমপোনেন্ট এর রেটিং এ লক্ষ্যমাত্রা অর্জন, শস্য খাতে ঋণ বিতরণ, ৪ শতাংশ রেয়াতি হারে ঋণ বিতরণ, নিজস্ব শাখার মাধ্যমে ঋণ বিতরণ এবং আদায়যোগ্য ঋণের বিপরীতে আদায়ের হারকে বিবেচনা করা হবে। এছাড়াও নীতিমালায় কৃষকের ১০ টাকার ব্যাংক অ্যাকাউন্ট সচল রাখতে দু’শ কোটি টাকার নতুন একটি পুনঃঅর্থায়ন তহবিল গঠন করা হয়েছে।

এ প্রসঙ্গে বাংলাদেশ ব্যাংকের কৃষিঋণ ও আর্থিক সেবাভূক্তি বিভাগের মহাব্যবস্থাপক প্রভাষ চন্দ্র মল্লিক বলেন, শস্যপঞ্জিকা অনুযায়ী ব্যাংকগুলো যেন ঋণ বিতরণ করে সে ব্যাপারে কঠোর তদারকি করা হচ্ছে। এর পাশাপাশি ঋণ দিয়ে যেন ব্যাংকগুলো হাত গুটিয়ে বসে না থাকে সে ব্যাপারেও লক্ষ্য রাখা হচ্ছে। এর ফলে বিদায়ী অর্থবছরে বিগত যে কোন সময়ের চেয়ে কৃষিঋণ বিতরণ ও আদায় প্রক্রিয়া বেড়েছে বলে তিনি জানান।

এসএই/