ইবোলা নিয়ে আতঙ্কিত না হওয়ার পরামর্শ

0
26
ebola
পশ্চিম অাফ্রিকায় হাসপাতাল থেকে এক শিশুকে নিয়ে যাচ্ছে এক অজ্ঞাত ব্যক্তি।
ebola
পশ্চিম অাফ্রিকায় হাসপাতাল থেকে এক শিশুকে নিয়ে যাচ্ছে এক অজ্ঞাত ব্যক্তি।

ইবোলা ভাইরাসের সংক্রমণ নিয়ে আতঙ্কিত না হওয়ার পরামর্শ দিয়েছে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়।

সোমবার মিলন হলে ‘ইবোলা ভাইরাস আতঙ্ক: আমরা কতটা প্রস্তুত’ শীর্ষক বৈজ্ঞানিক সেমিনারে চিকিৎসকেরা এ আহ্বান জানান।

বিএসএমএমইউর উপাচার্য প্রাণ গোপাল দত্ত বলেন, ‘আমরা সচেতন আছি। যথেষ্ট প্রস্তুতি আছে। রোগটি নিয়ে আতঙ্কিত হওয়ার কোনো কারণ নেই।’

ইবোলা মোকাবেলার প্রস্তুতি সম্পর্কে রোগতত্ত্ব, রোগনিয়ন্ত্রণ ও গবেষণাপ্রতিষ্ঠানের (আইইডিসিআর) মুখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা এম মুশতাক হোসেন জানান, কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতাল ও বক্ষব্যাধি হাসপাতাল প্রস্তুত আছে। এছাড়াও উপজেলা পর্যায় পর্যন্ত প্রতিটি হাসপাতালে আলাদা ওয়ার্ড রাখা হয়েছে। কারও শরীরে ইবোলা ভাইরাসের সংক্রমণ দেখা যাওয়া মাত্রই রোগতত্ত্ব আইইডিসিআরকে জানাতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

মুশতাক হোসেন জানান, পশ্চিম আফ্রিকার দেশগুলোর হাসপাতালগুলোতে সংক্রমণরোধী ব্যবস্থা না নেওয়ায় ব্যাপকভাবে রোগটি ছড়িয়ে পড়েছে। হাসপাতালের শৌচাগার ও বেসিন বারবার পরিষ্কার করা জরুরি। এ ছাড়া মৃতদেহ সৎকার করার ক্ষেত্রেও সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে বলে তিনি জানান।

এ দিকে মেডিসিন বিভাগের শিক্ষক জিলন মিয়া সরকার বলেন, যদি কেউ ইবোলা ভাইরাসের সংক্রমণ ঘটেছে এমন জায়গায় যান, অবস্থান করেন, অসুস্থ মানুষের সংস্পর্শে আসেন, পোকা-মাকড়, জন্তু-জানোয়ারের কামড় খান, আক্রান্ত ব্যক্তিকে দেখতে হাসপাতালে যান এবং মৃতদেহের গোসলে অংশ নেন তাহলে তিনি ঝুঁকিতে পড়তে পারেন। তিনি জানান, এ রোগের চিকিৎসায় বারবার স্যালাইন খাওয়াতে হবে।

 সেমিনারে জানানো হয়, বর্তমান সময়ে কমপক্ষে ৩০টি ভাইরাসের সঙ্গে লড়তে হচ্ছে মানবজাতিকে। ডেঙ্গু ছাড়া বাকি ৩০টির উৎস জন্তু-জানোয়ার। ইবোলার প্রধান উৎস শিম্পাঞ্জি ও গরিলা। বাদুড়ের শরীরে ইবোলার উপস্থিতি রয়েছে। কিন্তু সংক্রমণের কোনো লক্ষণ দেখা যায় না। পশ্চিম আফ্রিকার দেশগুলোয় বন্য জন্তু শিকার করে খাওয়ার চল আছে। মানবদেহে সংক্রমণ ঘটলে হঠাৎ প্রচণ্ড জ্বর, দুর্বলতা, মাংসপেশিতে যন্ত্রণা, গলাব্যথা, র্যাশ ওঠা, ডায়রিয়া, বমি, মাথাব্যথা ও রক্তক্ষরণ হতে পারে।

সেমিনারে জানানো হয়, ইবোলা ভাইরাস রোগী থেকে চিকিৎসক, নার্স ও অন্যান্য মানুষের মধ্যে খুব সহজে বিস্তার লাভ করে। তাই নমুনা সংগ্রহ ও গবেষণাগারে পরীক্ষা-নিরীক্ষার সময় সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বলছে, এবারের সংক্রমণে ২২ আগস্ট পর্যন্ত পশ্চিম আফ্রিকার দেশগুলোয় আক্রান্তের সংখ্যা দুই হাজার ৬১৫ জন, মৃতের সংখ্যা এক হাজার ৪২৭ জন।