বরাদ্দের ১৮ বছরেও মেলেনি প্লট

0
44

Duip_25মূল বরাদ্দপত্র পাওয়ার ১৮ বছর পরও প্লট বুঝে পাননি মিরপুরের ডুইপ ও রূপনগর সম্প্রসারিত দ্বিতীয় প্রকল্পের আবাসিক প্লট মালিকরা।

তাদের অভিযোগ, বিহারিরা অবৈধভাবে এসব প্লট দখল করে আছে। সরকার নির্ধারিত প্লটের সম্পূর্ণ টাকা পরিশোধের পরও গৃহায়ণ কর্তৃপক্ষ মালিকদের প্লট বুঝিয়ে দেয়নি। প্লট মালিকরা বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে ধরনা দিয়েও কোনো সমাধান পাননি। শুধু আশ্বাসের মধ্যেই সীমাবদ্ধ রয়ে যাচ্ছে সব পদক্ষেপ।

সোমবার জাতীয় গৃহায়ণ কর্তৃপক্ষ ভবনের সামনে প্লট বুঝে দেওয়ার দাবিতে বিক্ষোভ সমাবেশ করেন তারা। একই সাথে চেয়ারম্যানের কাছে স্মারকলিপিও দেন তারা।

মালিকরা এর আগে প্লট বুঝে পাওয়ার দাবিতে গত জুন মাসে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে (ডিআরইউ) সংবাদ সম্মেলন করেন। তারপর গত ১১ আগস্ট মিরপুরে জাতীয় গৃহায়ণ কর্তৃপক্ষের নির্বাহী প্রকৌশলী দপ্তরের সামনে অবস্থান ধর্মঘট পালন ও স্মারকলিপিও দেন তারা।

ভুক্তভোগী প্লট মালিক ও মিরপুর-পল্লবী থানাধীন ঢাকা শহর অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্প (ডুইপ) এবং রূপনগর সম্প্রসারিত ২য় প্রকল্প আবাসিক প্লট মালিক সমিতির যুগ্ম আহ্বায়ক গোলাম মোস্তফা অর্থসূচককে বলেন, স্থানীয় আওয়ামী লীগ ও বিএনপি প্লটগুলো দখল করে আছে। তারা কিছু বিহারিকে হাত করে এসব প্লটে বিহারীদের পুনর্বাসন করিয়ে দখল করে রাখছে। মূলত তারা এসব প্লটের ভাড়া ভোগ করছে। তবে এ বিষয়ে বারবার আবেদন করা স্বত্ত্বেও সরকার সমাধান করেনি।

তিনি বলেন, ১৯৮৬ ও ৯৫ সালে লটারির মাধ্যমে মিরপুর ১১নং সেকশনে নিম্নবিত্ত ও মধ্যবিত্তদের জন্য ২ কাঠা ও পৌনে ২ কাটা জমি বরাদ্দ দেয় সরকার। তখন এই প্লটগুলো বিদেশি ঋণ নিয়ে ভরাট করা হয়। এরপর এডিবি ও একনেক এতে সহায়তা করে। সে সময় ৫৪১টি প্লট লটারির মাধ্যমে বরাদ্দ দেওয়া হয়। বর্তমানে সেখানে বিহারিরা বসবাস করলেও কোনো ক্যাম্প নেই। স্থানীয় প্রভাবশালীরাই তাদের মদদ দিয়ে জমি দখল করে রাখছে। মালিকরা নির্ধারিত কিস্তির সম্পূর্ণ টাকা পরিশোধ করার পরও গৃহায়ণ কর্তৃপক্ষ প্লট বুঝিয়ে দেয়নি।

গোলাম মোস্তফা বলেন, এখন দখলে থাকা বিহারিরা মাসে মাসে গৃহায়ণ কর্তৃপক্ষকে মাসোয়ারা দিচ্ছে। তাই বারবার ধরনা দিলেও এ ব্যাপারে কর্তৃপকক্ষ কোনো পদক্ষেপ নিচ্ছে না। প্লট বুঝিয়ে না দিয়ে গৃহায়ণ কর্তৃপক্ষ উল্টো আমাদেরকে অন্যত্রে পুনর্বাসনের কথা বলছে। এটা কখনও মেনে নেওয়া হবে না।

এ সময় ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলেন, ‘এটা কিসের গণতন্ত্র? প্লটের টাকা পরিশোধ করা হয়েছে। মালিকদের বরাদ্দপত্র হস্তান্তর করা হয়েছে অনেক আগেই; অথচ প্লট পাচ্ছি না।

জানতে চাইলে জাতীয় গৃহায়ণ কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান শহীদ উল্লাহ খন্দকার অর্থসুচককে বলেন, আগামী দুই-তিন মাসের মধ্যে এ বিষয়ে একটা সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

তিনি বলেন, প্লট মালিকদের জন্য বিভিন্ন জায়গায় জমি খোঁজা হচ্ছে। অনেক প্লট হওয়ায় প্রতি ধাপে ২০ জন কে পুনর্বাসনের পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

জেইউ/