টাকার অভাবে পড়তে পারেননি স্মৃতি ইরানি!

0
67
Smriti Irani
ভারতের শিক্ষামন্ত্রী স্মৃতি ইরানি- ফাইল ছবি

বাড়িতে অভাব। লেখাপড়া চালানোর সামর্থ্য নেই। তাই বাধ্য হয়েই পড়াশোনা ছাড়তে হয়েছিলো ভারতের শিক্ষামন্ত্রী স্মৃতি ইরানিকে। ফলে আটকে গিয়েছিলো উচ্চশিক্ষার স্বপ্নও।আজ মুম্বাইয়ের এক অনুষ্ঠানে একথা জানান মন্ত্রী।

তাই শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব হাতে নিয়েই স্কুল থেকে ঝরে পড়া শিশুদের উচ্চশিক্ষার লক্ষ্যে বিশেষ সরকারি পরিকল্পনার কথা ঘোষণা করলেন কেন্দ্রীয় মানবসম্পদ উন্নয়ন মন্ত্রী স্মৃতি ইরানি।

রোববার ভারতের বার্তা সংস্থা আনন্দবাজার পত্রিকা এ তথ্য জানিয়েছে।

শিক্ষামন্ত্রী স্মৃতি জানান, রোজগারের খোঁজে যারা অল্পবয়সে চাকরি ছেড়ে দিতে বাধ্য হন, তাদের উচ্চশিক্ষার লক্ষ্যে বিশেষ পদক্ষেপ গ্রহণ করবে সরকার। আর ডিসেম্বর মাস থেকেই তা বাস্তবায়িত হবে।

স্মৃতির দাবি, গরিব ঘরের ছেলে-মেয়েরা, আদিবাসী ছাত্র-ছাত্রীরা রোজগারের জন্য অল্প বয়সেই স্কুল ছাড়তে বাধ্য হয়। তাদের কথা ভেবে ডিসেম্বরের মধ্যে একটি পরিকল্পনা আনতে চলেছে মন্ত্রণালয়। অষ্টম শ্রেণির পরে যারা পড়া ছেড়ে দিয়েছিলেন তাঁরা চাইলে বেশি বয়সেও একের পর এক সিঁড়ি অতিক্রম করে গবেষণা পর্যন্ত করতে পারবেন বলেও জানান তিনি।

মানবসম্পদ উন্নয়ন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পাওয়ার পর নিজের উচ্চশিক্ষার ডিগ্রি না থাকায় বিস্তর সমালোচনার মুখে পড়তে হয়েছে স্মৃতি ইরানিকে।

তবে তার নতুন পরিকল্পনাকে স্বাগত জানালেও বিরোধীদের দাবি, সমালোচনার জবাব দিতে এ ভাবে আসলে নিজের জীবনের প্রসঙ্গ টেনে সাফাই দিলেন তিনি।

স্কুলছুট ছাত্র-ছাত্রীদের প্রতি সহমর্মিতা জানাতে গিয়ে মন্ত্রী বলেন, রোজগারের লক্ষ্যে অনেককেই অল্প বয়সে পড়া ছাড়তে হয়। টাকার অভাব থাকায় আমিও পড়া ছেড়েছিলাম।

মানবসম্পদ উন্নয়ন মন্ত্রীর ওই বক্তব্য সামনে আসতেই বিতর্ক শুরু হয়। বর্তমানে স্কুলছুট ছাত্র-ছাত্রীদের শিক্ষার জন্য বিকল্প শিক্ষাব্যবস্থা চালু রয়েছে। তাও সরকারের এই পরিকল্পনাকে স্বাগত জানিয়েছে শিক্ষামহল-সহ বিরোধীরা।

তবে বিরোধী পক্ষ কংগ্রেসের এক নেতার বলেছেন, ওই বক্তব্য সাফাই গাওয়া ছাড়া কিছুই নয়। স্মৃতির শিক্ষাগত যোগ্যতা নিয়ে একাধিকবার প্রশ্ন উঠছে। তা নিয়ে তিনি যে অস্বস্তিতে তা-ই ফের স্পষ্ট হল।
মানবসম্পদ উন্নয়ন মন্ত্রণালয়ের কর্তারাও মনে করছেন, অহেতুক ওই মন্তব্য করে স্মৃতি নিজেই ফের বিতর্কের সুযোগ করে দিলেন।

মন্ত্রী হওয়ার পর থেকেই শিক্ষাগত যোগ্যতা নিয়ে বিতর্ক পিছু ছাড়ছে না স্মৃতি ইরানির। সরকারি ভাবে স্মৃতির শিক্ষাগত যোগ্যতা দ্বাদশ শ্রেণি পাশ। এর পর তিনি স্নাতক স্তরের পাঠ্যক্রমে ভর্তি হন। কিন্তু সেই পড়া শেষ হয়নি।

যিনি ন্যূনতম স্নাতক পর্যায়ের গন্ডি পার হননি তিনি উচ্চশিক্ষার গুরুত্ব বুঝতে পারবেন কি না তা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন শিক্ষাবিদদের একাংশও। আজ টাকার টানাপোড়েনকে দায়ী করে অবস্থান স্পষ্ট করলেন স্মৃতি।
বিরোধীদের লাগাতার আক্রমণ, যোগ্যতা নিয়ে বিতর্ক থিতু হওয়ার আগে চলতি মাসেই নতুন ঝামেলায় জড়িয়ে পড়েছিলেন মানবসম্পদ উন্নয়ন মন্ত্রী।

দিল্লির একটি অনুষ্ঠানে নিজেকে ইয়েল বিশ্ববিদ্যালয়ের স্নাতক বলে দাবি করে তিনি বলেন, আমাকে অনেকে অশিক্ষিত বললেও, আমার কাছে কিন্তু ইয়েল বিশ্ববিদ্যালয়ের স্নাতক ডিগ্রি রয়েছে। পরে দেখা যায় স্মৃতি সাংসদ হিসাবে ছ’দিনের এক ওয়ার্কশপে অংশ নিতে ওই বিশ্ববিদ্যালয়ে গিয়েছিলেন। তা সফল ভাবে শেষ করার পর প্রশংসাপত্র দেওয়া হয় তাকে। পরে স্মৃতিকে বলতে হয়, দুর্ভাগ্যজনক ভাবে আমার প্রশংসাপত্র ভুল ব্যাখ্যা করা হয়েছে।

সেই ঘটনার ১০ দিনও কাটেনি, নিজের শিক্ষাগত যোগ্যতা নিয়ে ফের মন্তব্য করলেন স্মৃতি।

কংগ্রেস মুখপাত্র রণদীপ সিংহ সুরজেওয়ালার মন্তব্য, মন্ত্রীর নতুন উদ্যোগ ভালো। কিন্তু শিক্ষাগত যোগ্যতা না থাকার কারণ হিসেবে স্মৃতি যা বলেছেন তা শুনে সুরজেওয়ালার জবাব, উনি নিজের শিক্ষাগত যোগ্যতা নিয়ে এক-এক বার এক-এক রকম কথা বলেন। দেশের শিক্ষামন্ত্রীর প্রকৃত যোগ্যতা কী, তা শুধু তিনিই বলতে পারবেন।

এএসএ/