‘১৯৫১ সালের পর যারা এসেছেন, তাদের ফিরতে হবে বাংলাদেশে’

0
26
togadia
বিশ্ব হিন্দু পরিষদের নেতা প্রবীণ তোগাড়িয়া। ছবি: ফাইল ছবি

১৯৫১ সালের পরে বাংলাদেশ থেকে যেসব সংখ্যালঘুরা ভারতে গিয়েছেন; তাদেরকে ফিরে যেতে হবে বলে দাবি জানিয়েছেন বিশ্ব হিন্দু পরিষদের নেতা প্রবীণ তোগাড়িয়া। বাংলাদেশ তাদের না ফেরালে সামরিক অভিযানের হুমকিও দিয়েছেন তিনি।

রো্‌ববার ভারতের সংবাদমাধ্যম আনন্দবাজার ‘ফের বাংলাদেশি বিতর্ক খোঁচালেন প্রবীণ‘  শিরোনামে এক প্রতিবেদন এ খবর জানিয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, লোকসভা ভোটের আগে বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারীদের দেশে ফেরানো নিয়ে নরেন্দ্র মোদীর বক্তব্যে বিতর্ক বেধেছিল। সেই বিতর্ক আবার সামনে এসে পড়ল বিশ্ব হিন্দু পরিষদের নেতা প্রবীণ তোগাড়িয়ার মন্তব্যে।

 হিন্দুত্বের প্রচার নিয়ে পরিষদ বেশ কয়েকটি কর্মসূচি নিচ্ছে। সেই উপলক্ষে সাংবাদিক সম্মেলনে শনিবার কলকাতায় তোগাড়িয়া দাবি তুলেছেন, ১৯৫১ সালের পরে বাংলাদেশ থেকে যে সংখ্যালঘুরা ভারতে এসেছেন, তাঁদের ফিরে যেতে হবে। বাংলাদেশ তাঁদের না ফেরালে সামরিক অভিযানের হুমকিও দেন তিনি। এমনকী, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কেও তিনি ছেড়ে কথা বলেননি। তোগাড়িয়ার হুঙ্কার, “মুখ্যমন্ত্রী ওই অনুপ্রবেশকারীদের রক্ষা করার চেষ্টা করলে তাঁর বিরুদ্ধে দেশদ্রোহের মামলা করা হবে।”

 তোগাড়িয়ার এই মন্তব্যকে ‘উস্কানিমূলক’ বলে মনে করছে তৃণমূল এবং বামেরা। এমনকী বিজেপিও সরাসরি তোগাড়িয়ার বক্তব্যকে সমর্থন জানাচ্ছে না। সিপিএম সাংসদ মহম্মদ সেলিম বলেন, “প্রবীণ তোগাড়িয়ার মতো লোকেরা যে রাজনীতির ধারক-বাহক, সেখানে ইতিহাস, সংস্কৃতি, সংখ্যাতত্ত্বের কোনও জায়গা নেই। সামনেই পুজো এবং বক্রি ঈদ। গ্রাম-বাংলা এবং শহরে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি গুলিয়ে দিতে চাইছে এই সব সাম্প্রদায়িক উন্মাদরা।” তোগাড়িয়ার বিরুদ্ধে রাজ্য সরকার কেন ব্যবস্থা নিল না, সে প্রশ্নও তুলেছেন সেলিম। তৃণমূল সাংসদ সুলতান আহমেদ অবশ্য মনে করেন, তোগাড়িয়ার মতো মানুষের বিরুদ্ধে কোনও ব্যবস্থা নিলে তাঁর গুরুত্ব বেড়ে যায়। তিনি বলেন, “এই সব সুড়সুড়ি দিয়ে বাংলায় কোনও লাভ হবে না।”

তোগাড়িয়ার মন্তব্য নিয়ে কিছুটা আতান্তরে পড়েন বিজেপি নেতৃত্বও। দলের রাজ্য সভাপতি রাহুল সিংহ স্বীকার করেন, বিজেপির ঘোষিত নীতি অনুপ্রবেশকারীদের বাংলাদেশে ফেরত পাঠানো। কিন্তু তোগাড়িয়া এ দিন যে ভাষায় এবং ভঙ্গিতে বিষয়টি বলেছেন, তা নিয়ে রাহুলবাবুরা কিছুটা অস্বস্তিতে পড়েছেন। প্রসঙ্গ এড়াতে রাহুলবাবুর বক্তব্য, “বিষয়টি নিয়ে অন্য কারও মন্তব্যের উপর আমি মন্তব্য করব না।” রাজ্যে দলের সাধারণ সম্পাদক শমীক ভট্টাচার্যের সতর্ক মন্তব্য, “আমাদের সীমান্ত সমস্যা মানুষ বোঝেন। কোনও সমস্যা থাকলে তা আমাদের মতো করে সমাধান করতে হবে।”

 অনুপ্রবেশকারীদের প্রসঙ্গে রাজ্য বিজেপি নেতৃত্ব এখন সতর্ক। কারণ, এখানে ভোটারদের একটা বড় অংশ যেমন মুসলিম, তেমনই পূর্ববঙ্গ থেকে আসা মানুষের সংখ্যাও কম নয়। এই অংশের মানুষের কথা ভেবেই ভোটের প্রচারে কড়া সুরে মোদীর বক্তব্যের সমালোচনা করেছিলেন তৃণমূল নেত্রী। তাঁর কথায় ভুল বার্তা যাচ্ছে বুঝে মোদীও ভোটের প্রচারের পরবর্তী পর্বে ওই বিষয়ে কিছু ব্যাখ্যা দিয়েছিলেন। তার পরে ভোটে তৃণমূল যে বিপুল সাফল্য পেয়েছিল, তার নেপথ্যে মমতার ওই কড়া অবস্থান অন্যতম কারণ বলে মানেন তৃণমূল ও বাম নেতাদের একাংশ। বিজেপি নেতৃত্বও তাই বিষয়টি অনুধাবন করে তোগাড়িয়ার বক্তব্য থেকে কিছুটা দূরত্ব বজায় রাখার চেষ্টা করেছেন।