রংপুরে প্রাইম ব্যাংকের কার্যক্রম বন্ধের দাবি

0
53
Rangpur Photo (SMG Group) 24-08-2014
শনিবার দুপুরে রংপুর প্রেসক্লাব চত্বরে মানববন্ধনে প্রাইম ব্যাংক অনুমোদিত এসএমজি গ্রুপের প্রতারণার শিকার ব্যক্তিরা।

প্রাইম ব্যাংক অনুমোদিত এসএমজি গ্রুপের প্রতারণার শিকার ব্যক্তিরা ক্ষতিপূরণের দাবিতে মানববন্ধন করেছে। আগামী ৭ দিনের মধ্যে ক্ষতিপূরণ না দিলে রংপুরে প্রাইম ব্যাংকের কার্যক্রম বন্ধের আল্টিমেটাম দিয়েছে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ী ও এসএমজি কর্মচারীবৃন্দ।

Rangpur Photo (SMG Group) 24-08-2014
শনিবার দুপুরে রংপুর প্রেসক্লাব চত্বরে মানববন্ধনে প্রাইম ব্যাংক অনুমোদিত এসএমজি গ্রুপের প্রতারণার শিকার ব্যক্তিরা।

শনিবার দুপুরে রংপুর প্রেসক্লাব চত্বরে আয়োজিত মানববন্ধনে বাংলাদেশ দোকান মালিক সমিতির ভাইস প্রেসিডেন্ট ও রংপুর মহানগর দোকান মালিক সমিতির সভাপতি কাজী মো. জুননুন এই দাবি জানান।

বক্তারা বলেন, ২ বছর আগে জাতীয় পত্রিকায় প্রাইম ব্যাংকের লোগো ব্যবহার করে এসএমজি গ্রুপ লোকবল নিয়োগের বিজ্ঞাপন দেয়। নিয়োগ পরীক্ষায় উত্তীর্ণদের কাছ থেকে রশিদ স্লিপ দিয়ে মাটা অংকের টাকা জামানত নিয়ে জিএসআর, টিএসআর এবং সিএসআর পদে প্রায় ২৩৪ জনকে কর্মকর্তা ও কর্মচারীকে রংপুরে নিয়োগ দেওয়া হয়। নিয়োগের পর থেকে নানা অযুহাত দেখিয়ে বেতন-ভাতার পরিশোধ করেনি কর্তৃপক্ষ।

ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ী ও কর্মচারীরা বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুমোদনে দেশের বেশ কয়েকটি ব্যাংক মোবাইল ব্যাংকিং কার্যক্রম চালাচ্ছেন। এসএমজি গ্রুপের তত্ত্বাবধানে প্রাইম ব্যাংকের ইজিক্যাশ মোবাইল ব্যাংকিং পরিচালনা করা হয়। কিন্তু এখন প্রাইম ব্যাংক দাবি করছে, এসএমজি গ্রুপের সাথে প্রাইম ব্যাংকের কোনো সম্পর্ক নেই।

বক্তারা দাবি করেন, রংপুর অঞ্চল থেকে এসএমজি গ্রুপের মাধ্যমে চাকরির জামানতের নামে প্রায় দুই কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে প্রাইম ব্যাংক।

মহানগর রিচার্জ ও ক্যাশলোড ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি মীর আলী আকরাম হোসেন চমনের সভাপতিত্বে মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন- বাংলাদেশ দোকান মালিক সমিতির সেক্রেটারি রেজাউল ইসলাম মিলন, জেলা দোকান মালিক সমিতির সভাপতি আলতাব হোসেন, সদস্য সচিব সিরাজুল ইসলাম সিরাজ, রিচার্জ ও ক্যাশলোড ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. আবুল ফজল মামুন, সাংগঠনিক সম্পাদক হাসান ফেরদৌস রাসেল, এসএমজির স্থানীয় প্রতিনিধি বেলাল হোসেন প্রমুখ।

এ ব্যাপারে রংপুর অঞ্চলের দায়িত্বে থাকা এসএমজি গ্রুপের আরএসএম গোলাম কিবরিয়ার সঙ্গে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি কথা বলতে অসম্মতি জানান।

উল্লেখ্য, ইতোমধ্যে ভুক্তভোগীরা এ ব্যাপারে বাংলাদেশ ব্যাংকে অভিযোগ করেছেন। বাংলাদেশ ব্যাংকের তদন্তে এর সত্যতা পাওয়া গেলে গত ৩০ এপ্রিলের মধ্যে টাকা ফেরত দেওয়ার নির্দেশ দেয়া হয়েছিল। মোবাইল ব্যাংকিংয়ের ডিলার ও এজেন্ট নিয়োগের নামে প্রাইম ব্যাংকের সংগৃহীত ২৫ কোটি টাকা ফেরত দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

বাংলাদেশ ব্যাংকের চিঠি পাওয়ার কথা স্বীকার করে প্রাইম ব্যাংকের এক সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট বলেন, আমাদেরকে ২৫ কোটি টাকা ফেরত দিতে বলা হয়েছে। কিন্তু এ টাকা সরাসরি আমরা নেইনি, নিয়েছে এসএমজি গ্রুপ। তাই টাকার সঠিক পরিমাণ বলতে পারছি না।

এমই/