আত্মসমর্পণের পর মান্নান খানের জামিন

0
38
সাবেক গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রী আব্দুল মান্নান খান

সাবেক গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রী আব্দুল মান্নান খানঅবৈধ সম্পদ অর্জনে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) করা মামলায় আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন পেলেন  সাবেক গৃহায়ণ ও গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী আব্দুল মান্নান খান। আগামী ১৩ অক্টোবর পর্যন্ত ৫০ হাজার টাকার মুচলেকায় অন্তর্বর্তীকালীন জামিন দেয় আদালত।

 রোববার সকালে রোববার সকালে ঢাকা মহানগর হাকিম এমদাদুল হকের আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিনের আবেদন করেন তিনি। শুনানি শেষে মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট এমদাদুল হকের আদালত। জামিন মঞ্জুর করেন।

আদালতে তার পক্ষে জামিন আবেদন করেন অ্যাডভোকেট জাহিদুল ইসলাম।

বৃহস্পতিবার তার বিরুদ্ধে ৭৯ লাখ টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে মামলাটি করে দুদক উপপরিচালক মো. নাসির উদ্দিন।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, প্রাথমিক অনুসন্ধানে আব্দুল মান্নান খানের জ্ঞাত আয় বর্হিভূত সম্পদের প্রমাণ পাওয়ায় দুদক সম্পদ বিবরণী নোটিশ জারি করে। যার পরিপ্রেক্ষিতে গত ৯ এপ্রিল কমিশনে সম্পদ বিবরণী দাখিল করেন প্রাক্তন গণপূর্ত্ প্রতিমন্ত্রী মান্নান খান। যেখানে তার নিজ নামে ২ কোটি ২২ লাখ ৯৬ হাজার ৩১৬ টাকার স্থাবর সম্পদ ও ৯৩ লাখ ০৫ হাজার ৩৬২ টাকার অস্থাবর সম্পদ অর্থ্যাৎ মোট ৩ কোটি ১৬ লাখ ১ হাজার ৬৭৮ টাকার সম্পদের হিসাব দেন।

 সূত্র জানায়, আব্দুল মান্নান খানের সম্পদ বিবরণী অনুসারে তার ৯২ লাখ ৩০ হাজার ৩৬২ টাকার অস্থাবর সম্পদের হিসাব দিয়েছেন। কিন্তু দুদকের  যাচাই-বাছাইতে দেখা যায় তার মালিকানাধীন অস্থাবর সম্পদের প্রকৃত মূল্য ৯৬ লাখ ৮৯ হাজার  ৯৫৯ টাকা। অর্থ্যাৎ তিনি অসৎ উদ্দেশ্যে  ৪ লাখ ৫৯ হাজার ৫৯৭ টাকার অস্থাবর সম্পদের তথ্য গোপন করছেন বলে দুদক আইন ২০০৪ এর ২৬ (২) ধারায় শাস্তিযোগ্য অপরাধ করেছেন বলে দুদকের অনুসন্ধানে প্রমাণিত হয়েছে।

অন্যদিকে তার মালিকানাধীন ১ কোটি ৩৮ লাখ ১৩৭ টাকার স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদের মধ্যে মাত্র ৬২ লাখ ৯৫ হাজার ৮৭৫ টাকার সম্পদের বৈধ উৎস দেখাতে সক্ষম হয়েছেন। বাকি ৭৫ লাখ ৪ হাজার ২৬২ টাকার সম্পদের বৈধ উৎস দেখাতে পারেননি। অর্থ্যাৎ ওই সম্পদ তার আয়ের সহিত অসংগতিপূর্ণ্ হওয়ায় দুদক আইনের ২৭ (১) ধারায় শাস্তিযোগ্য অপরাধ করেছেন বলে প্রতিয়মান হয়েছে।

এ বিষয়ে মামলার বাদি নাসির উদ্দিন জানান, জ্ঞাত আয় বর্হিভূত সম্পদ ও তথ্য গোপন করাসহ প্রাক্তন প্রতিমন্ত্রীর মোট ৭৯ লাখ ৬৩ হাজার ৮৫৯ টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জনের প্রমাণ যাওয়ায় দুদক মামলাটি দায়ের করে।

অভিযোগ ছিল পাঁচ বছরের মন্ত্রিত্বকালে তার সম্পত্তি বেড়েছে ১০৭ গুণ। যদিও দুদকের অনুসন্ধানে মাত্র ৭৯ লাখ টাকার অবৈধ সম্পদ পাওয়া গেছে।

এইউ নয়ন