কারখানা চালু করতে পারবো না: তোবা এমডি

0
34

Tuba_Cryingনতুন করে টাকা পয়সার ব্যবস্থা না করতে পারলে এই মুহূর্তে কোনো কারখানা চালু করতে পারবেন না বলে জানিয়েছেন তোবা গ্রুপের এমডি দেলোয়ার হোসেন।

রোববার বেলা সাড়ে ১১টায় কারওয়ান বাজারের সুন্দরবন হোটেলে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা জানান।

দেলোয়ার হোসেন বলেন, আমার চোখের সামনে তাজরীনসহ তোবার ৫টি কারখানা, ১টি প্রিন্টিং কারখানা ও ১টি অ্যাম্ব্রয়ডারী কারখানাসহ ৮টি প্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে গেছে। এতে আমার সব কিছু শেষ হয়ে গেছে। এখন আমার কোনো সম্পত্তি নেই।

তিনি বলেন, যদি ব্যাংক বিমা ও কোনো আর্থিক প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে ২৫  থেকে ৩০ কোটি টাকা স্বল্প সুদে ঋণ প্রদান করে তাহলে আমি আবারো ঘুরে দাড়াতে পারবো।

দেলোয়ার বলেন, ব্যাংকে ৩০ থেকে ৪০ কোটি টাকা ঋণ রয়েছে। আমার অন্য কোনো ব্যবসা নেই। এখন যে ঋণ রয়েছে তাতে প্রতিমাসে সোয়া কোটি টাকার সুদ দিতে হচ্ছে।

শ্রমিকরা কোনো টাকা পাবে কি না জানতে চাইলে দেলোয়ার বলেন, শ্রমিকদের তিন মাসের বেতন ও ওভারটাইম দেওয়া হয়েছে। শ্রমিকরা আমার কাছে কোনো টাকা পাবেনা। তবে তারা ঈদ বোনাসের দাবি করেছে। তবে এই অবস্থায় সেটাও সম্ভব নয়।

তিনি অভিযোগ করে বলেন, ঈদের আগে শ্রমিকরা বেতন না পেয়ে কারখানাতে অবস্থান নিয়ে ধর্মঘট করেছে। তাদের এই আন্দোলনের সাথে কিছু বহিরাগত

মানুষ যোগ দেয়। এই শ্রমিক নামধারী লোকজন কারখানাগুলোর মেশিনের পার্টস, জেনারেটর পার্টস, এসি, কম্পিউটারের হার্ডডিক্স; এমনকি কারখানার টেবিলগুলোও নিয়ে গেছে।

তিনি আরও বলেন, তাজরীনের ঘটনার আগে আমি ৩০০ কোটি টাকা রপ্তানি করতাম। তবে ঘটনার পর ২০১৩ সালে মাত্র ২২ কোটি টাকার পোশাক রপ্তানি করেছি। এরপর পরিশ্রম করে চলতি বছরের শুরুতে সালের ৫৫ লাখ ডলারের এলসি করে পোশাক রপ্তানি করতে কাজ চালিয়ে যাই। তবে গ্রেপ্তার হওয়ার পর ক্রেতারা আর সরাসরি কাজ দিতে রাজি হয়নি।

গত জুন মাসে দুটি প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে ৯২ লাখ টাকার সাব কন্ট্রাক্টের কাজ পাওয়া গেলেও মে মাসের বেতন  দিতে না পারায় শ্রমিকরা কাজ বন্ধ করে দেয়। তাতে ওই সাব- কন্ট্রাক্টের কাজও চলে যায়।

প্রসঙ্গত, তিন মাসের বকেয়া বেতন-ভাতার দাবিতে রোজার ঈদের আগের দিন থেকে অনশন চালিয়ে আসা তোবা গ্রুপ সংগ্রাম কমিটির সদস্যদের গত ৭ অগাস্ট কারখানা থেকে পিটিয়ে বের করে দেয় পুলিশ। এরই মধ্যে বিজিএমইএর মধ্যস্থতায় শ্রমিকদের বকেয়া বেতন পরিশোধের ব্যবস্থা হয়।

এর আগে শ্রমিকদের আন্দোলনের মধ্যেই বেতন দেয়ার অঙ্গীকার করে হাইকোর্ট থেকে জামিন পান দেলোয়ার, যিনি তাজরীনে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় করা মামলায় কারাগারে ছিলেন।

শ্রমিক আন্দোলনকে কারণ হিসাবে দেখিয়ে দেলোয়ার গত ১৮ অগাস্ট তোবা গ্রুপের পাঁচ কারখানা অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ করে দেয়।

বন্ধ কারখানাগুলো হলো- তোবা টেক্সটাইল, তায়েব ডিজাইন, মিতা ডিজাইন, বুকশান গার্মেন্টস ও তোবা ফ্যাশনস।