রাজধানীতে কথিত ‘ইউরেনিয়াম’সহ ১১ জন গ্রেপ্তার

0
61

Eureniumগ্রেফতারকৃত একজনের বনানীর বাসা থেকে একটি চামড়ার ব্যাগের মধ্যে দুই পাউন্ড ওজনের ইউরেনিয়াম উদ্ধার করা হয়েছে।

তারা হলেন ময়নাল হোসেন ওরফে সাগর (৪৫), হুমায়ুন কবীর (৪৮), কাইয়ুম চৌধুরী (৫৪), কায়েশ আহম্মেদ (৫৪), মো. খালেক (৪৪), স্বপন মোল্লা (৪৫), মো. ফিরোজ (৪৫), মাহফুজুর রহমান নাসিম (৪২), আসলাম মিয়া (৬১), মইনউদ্দীন সরোয়ার রাজন (৩৫) ও তোফায়েল আহম্মেদ পাটোয়ারি (৪৮)।

রোববার সকালে ঢাকা মহানগর পুলিশের মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে
ডিবি’র উপকমিশনার (দক্ষিণ) কৃষ্ণপদ রায় সাংবাদিকদের জানান, গ্রেফতার হওয়া আসলাম মিয়ার বনানীর বাসা থেকে ইউরেনিয়ামের ব্যাগটি উদ্ধার করা হয়। বাক্সের সঙ্গে থাকা ক্যাটালগে ইউরেনিয়াম ইটমিক ওয়েট-২২২.০৭ (এ) লেখা রয়েছে।

তিনি জানান, বাক্সটি এমনভাবে তৈরি যে এতে ক্রেতাদের সহজে বিশ্বাস স্থাপিত হয়। তাছাড়া বাক্সের সাথে থাকা বিভিন্ন সরঞ্জামাদি, বিশেষ করে রেডিয়েশন মাপার যন্ত্র, গ্যাস মাস্ক, তাপমাত্রা মাপক যন্ত্র, রেডিয়েশন রোধক জ্যাকেট, হ্যান্ড গ্লাভস এবং ইংরেজী ও রাশিয়ান ভাষায় মুদ্রিত ক্যাটালগ দেখে অনেকেই আকৃষ্ট হয়। এভাবে আগ্রহী ক্রেতাগণ কিছু টাকা বিনিয়োগ করার পর তারা তার সাথে যোগাযোগ বন্ধ করে দেয় এবং অন্য ক্রেতা খুঁজতে থাকে।

গ্রেরেপ্তারকৃতরা জানায়, তারা কথিত ইউরেনিয়ামের বাক্সটি ঢাকার বাইরের একজন ব্যক্তির কাছ থেকে সংগ্রহ করে। ঐ ব্যক্তি বিশেষ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বাক্সটি বিদেশ থেকে আনা হয়েছে বলে জানায়।

তিনি জানান, আসামিরা দাবি করেছেন, ইউরেনিয়ামের ওজন প্রায় দুই পাউন্ড, যার বাজারমূল্য ৫০ কোটি টাকা।

গ্রেপ্তারকৃতরা রাজধানীর ধনী ব্যক্তিদের কাছে গিয়ে ইউরেনিয়ামের আন্তর্জাতিক চাহিদা সম্পর্কে ধারণা দিয়ে লোভে ফেলার চেষ্টা করতেন। লাখ টাকা বিনিয়োগ করে কোটি টাকা মিলবে বলেও লোভ দেখাতেন তারা। বিভিন্ন বিদেশি গবেষণাগার এগুলো কিনতে সদা প্রস্তুত রয়েছে বলে তারা ইউরেনিয়ামে বিনিয়োগ করতে আকৃষ্ট করতেন। তারা প্রাথমিকভাবে সম্ভাব্য ক্রেতাকে একটি ভিডিও দেখান। ক্রেতার ৫০ লাখ টাকা আছে নিশ্চিত হলে তারা ইউরেনিয়ামের সুদৃশ্য চামড়ার ব্যাগটি দেখান। আর বাক্সটির সঙ্গে থাকা যন্ত্রপাতি ইংরেজি ভাষার ক্যাটালগ দেখে অনেকে বিনিয়োগে আগ্রহী হন।

পুলিশ জানায়, ছয় মাস আগে ঢাকার বাইরে থেকে চক্রটি ওই কথিত ইউরেনিয়ামের বাক্সটি সংগ্রহ করে।

বিভিন্ন সময় প্রতারকেরা ‘ব্রিটিশ আমলের সীমানা পিলারে ইউরেনিয়াম’ আছে বলে গুজব তৈরি করে তা সংগ্রহ ও বিক্রির নামে প্রতারণা করেছে। এই চক্রটিও একই প্রক্রিয়ায় প্রতারিত করেছে। ইতোমধ্যে কয়েকজন প্রতারিত হয়েছে।

এ ব্যাপারে বনানী থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে।