তোবার শ্রমিক-মালিক মুখোমুখি হবেন

0
58
Toba Survival3
বৃহস্পতিবার দুপুরে তোবার অনশনরত শ্রমিকদের বের করে দেয় পুলিশ। অনশনে অসুস্থ্য এক শ্রমিককে এভাবেই নিয়ে যায় তার স্বজন। ছবি মহুবার রহমান।
Toba Survival3
বৃহস্পতিবার দুপুরে তোবার অনশনরত শ্রমিকদের বের করে দেয় পুলিশ। অনশনে অসুস্থ্য এক শ্রমিককে এভাবেই নিয়ে যায় তার স্বজন। ছবি মহুবার রহমান।

চলমান তোবা ইস্যু সমাধানের জন্য মালিক শ্রমিক উভয় পক্ষকে এক সঙ্গে আলোচনায় বসিয়ে দেওয়া হবে। যেখানে তারা সরসারি আলোচনা করে সমস্যা সমাধান করবেন।

শনিবার বিকেলে নৌ-পরিবহনমন্ত্রী শাজাহান খানের সভাপতিত্বে জাতীয় সংসদের পার্লামেন্ট মেম্বার্স ক্লাবে গার্মেন্টস শ্রমিক সমন্বয় পরিষদের নেতাদের সঙ্গে এ বিষয়ে বৈঠক করে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

গার্মেন্টস শ্রমিক সমন্বয় পরিষদের সদস্য সচিব বদরুদ্দজা নিজাম অর্থসূচককে এই সিদ্ধান্তের কথা নিশ্চিত করেছেন।

বিকেল সাড়ে ৫টায় শুরু হওয়া এই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন, গার্মেন্টস শ্রমিক সমন্বয় পরিষদের সদস্য সচিব বদরুদ্দজা নিজাম, শ্রমিক নেতা বাবুল আক্তার, নাজমা আক্তার, রুহুল আমিন, তৌহিদুর রহমান, রফিকুল ইসলাম, জাহনারা পারভিনসহ অন্যরা।

গার্মেন্টস শ্রমিক সমন্বয় পরিষদের সদস্য সচিব বদরুদ্দজা নিজাম অর্থসূচককে বলেন, তোবার গ্রুপের ৫টি কারখানার শ্রমিকদের সমস্যা নিয়ে মূলত আলোচনা হয়েছে। এমডি দেলোয়ার হোসেন কারখানাগুলো চালাবেন কিনা, আবার না চালালে শ্রমিকদের ক্ষতিপূরণের বিষয় কি হবে সেই বিষয়কে প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে।
বৈঠকে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে সমন্বয় পরিষদ উভয় পক্ষে সমস্যা সমাধানের জন্য তাদের নিজেদের মুখোমুখি বসিয়ে দেওয়া হবে। যাতে উভয় পক্ষ সরাসরি আলোচনা করে তাদের সমস্যা সমাধান করতে পারেন।

এমনকি এমডি দেলোয়ারের ডাকা সংবাদ রোববারের সংবাদ সম্মেলনেও এমন বিষয়টি উঠে আসবে বলে জানান তিনি। কারা উভয় পক্ষকে আলোচনায় বসাবেন জানতে চাইলে নিজাম বলেন, গার্মেন্টস শ্রমিক সমন্বয় পরিষদ শিগগিরই এই ব্যবস্থা করবেন।

এই বিষয়ে জানতে চাইলে বিজিএমইএ’র সহ-সভাপতি শহীদুল্লাহ আজীম অর্থসূচককে বলেন, কারখানা চালানোর সিদ্ধান্ত একমাত্র মালিকের। শ্রমিক ও মালিকের মধ্যে বিদ্যমান সমস্যা সমাধান হওয়া উচিত বলে মনে করেন তিনি।

বেশ কয়েক দিন ধরে তোবা গ্রুপের ৫টি কারখানার ১৪৯৫ জন শ্রমিক যখন নতুন করে কারখানা খুলে দেওয়া ও নায্য পাওনার দাবিতে আন্দোলন সংগ্রাম করছে। শ্রমিকদের এই আন্দোলনকে অবৈধ আখ্যা দিয়ে এমডি দেলোয়ার হোসেন অনির্দিষ্ট কালের জন্য কারখানাটি বন্ধ করে দিয়েছেন। অভিযোগ এনেছেন শ্রমিকরা ধর্মঘটের নামে কারখানার মালামাল লুট, মেশিন ও কাঁচামাল নষ্ট করেছেন। আর এর পিছনে যুক্তি হিসাবে বেছে নিয়েছেন শ্রম আইনের ২০০৬ সালের ১৩(১) ধারা।

তবে শ্রমিকদের অভিযোগ যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া মেনে কারখানা বন্ধ করলে মালিককে বড় অংকের টাকা গুণতে হবে। দিতে হবে ক্ষতিপূরণ ও ঈদের বোনাস। এ থেকে রেহাই পেতে মালিক বাঁকা পথে হাটছেন।