ডাক্তারের ভুলে মৃত্যুতে ক্ষতিপূরণ ১৬ লাখ

0
39
sharmistha
শর্মিষ্ঠা মুখোপাধ্যায়- ফাইল ছবি
sharmistha
শর্মিষ্ঠা মুখোপাধ্যায়- ফাইল ছবি

হাসপাতালে অন্তিম শয্যায় রোগিনী একটি চিরকুটে লিখে গিয়েছিলেন, ‘ডাক্তার আমাকে দেখেনি। এখানে ফেলে দিয়ে গেছে।’ চিকিৎসায় গাফিলতির জেরে ওই রোগিনীর মৃত্যুর ঘটনায় চিকিৎসক ও হাসপাতাল-কর্তৃপক্ষকে ১৬ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে কলকাতা ক্রেতা সুরক্ষা আদালত।

বুধবার আদালতের রায়ে জানানো হয়েছে, এক মাসের মধ্যে মৃতার পরিবারের হাতে ওই টাকা দিতে হবে। দেরি করলে প্রতিদিন জরিমানা দিতে হবে ৫ হাজার টাকা।

শনিবার ভারতের বার্তা সংস্থা আনন্দবাজার পত্রিকা এ তথ্য জানিয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চিকিৎসা-বিভ্রাটে অনুরাধা সাহা নামে এক নারীর মৃত্যুর পরে তার স্বামী, প্রবাসী চিকিৎসক কুণাল সাহা সুপ্রিম কোর্ট পর্যন্ত দীর্ঘ আইনি লড়াই চালিয়ে সম্প্রতি বিপুল পরিমাণ ক্ষতিপূরণ পেয়েছেন।

সেই ঘটনায় ৩ চিকিৎসক এবং হাসপাতালকে ক্ষতিপূরণের টাকা মেটাতে হয়েছে। আর এ ক্ষেত্রে ক্ষতিপূরণের ১৬ লাখ টাকার মধ্যে এক চিকিৎসককে দিতে হবে ১০ লাখ এবং বাকিটা মেটাতে হবে সংশ্লিষ্ট হাসপাতাল-কর্তৃপক্ষকে।

রাজ্যের ক্রেতা সুরক্ষা দপ্তর সূত্রের খবর, ৪ বছর আগে পিত্তথলি থেকে পাথর বার করার জন্য অস্ত্রোপচার করাতে গিয়ে মৃত্যু হয় নৈহাটির বাসিন্দা শর্মিষ্ঠা মুখোপাধ্যায়ের। ঘটনাটি ঘটে ই এম বাইপাসের ধারে অ্যাপোলো গ্লেনেগল্স হাসপাতালে। অভিযোগ ওঠে, প্রয়োজনীয় পরীক্ষানিরীক্ষা না-করেই শর্মিষ্ঠাদেবীর অস্ত্রোপচার করেছেন ওই হাসপাতালের শল্যচিকিৎসক পূর্ণেন্দু রায়।

মৃতার স্বামী শুভ্রশঙ্কর মুখোপাধ্যায় ক্রেতা সুরক্ষা আদালতে জানান, পেটে অসহ্য ব্যথা হতে থাকায় ২০১০ সালের ২১ মার্চ তার স্ত্রীকে অ্যাপোলো হাসপাতালে ভর্তি করানো হয় ওই চিকিৎসকের নির্দেশেই। ২৩ মার্চ শর্মিষ্ঠাদেবীর অস্ত্রোপচার হয়। ২৫ মার্চ হাসপাতাল তাকে ছেড়েও দেয়। বাড়ি ফেরার কয়েক দিনের মধ্যে ফের অসহ্য ব্যথা শুরু হয় পেটে। বমি হতে থাকে। চিকিৎসকের নির্দেশে ৪ এপ্রিল আবারও তাকে ভর্তি করানো হয় ওই হাসপাতালে। এবার এমআরসিপি, ইআরসিপি ইত্যাদি পরীক্ষা করার পর রোগিণী আরও অসুস্থ হয়ে পড়েন।

পরীক্ষায় ধরা পড়ে, অস্ত্রোপচারের পরেও পিত্তনালিতে এক টুকরো পাথর থেকে গিয়েছিল। চিকিৎসক সেটা বুঝতে পারেননি। সেই পাথর অগ্ন্যাশয়ে ক্ষত সৃষ্টি করায় শর্মিষ্ঠাদেবীর শারীরিক পরিস্থিতির আরও অবনতি হয়। এক সময় ইনটেন্সিভ কেয়ার ইউনিটে রাখা হলে ২০১০ সালের ৭ মে সেখানেই মারা যান শর্মিষ্ঠাদেবী।

cirkut
রোগিনীর চিরকূট

চিকিৎসকের গাফিলতিতেই স্ত্রীর মৃত্যু হয়েছে বলে স্বাস্থ্য দপ্তরে অভিযোগ জানান শুভ্রশঙ্করবাবু। তারই ভিত্তিতে এসএসকেএম হাসপাতালের অধিকর্তা-সহ ৩ চিকিৎসকের নেতৃত্বে একটি কমিটি গঠন করে তদন্তের নির্দেশ দেয় স্বাস্থ্য দপ্তর।

সেই কমিটির রিপোর্টে বলা হয়, ওই মহিলার মৃত্যুর ঘটনায় চিকিৎসক পূর্ণেন্দু রায় দায় এড়াতে পারেন না।

ক্রেতা সুরক্ষা আদালতের বিচারক বিপিন মুখোপাধ্যায় জানান, তথ্যপ্রমাণের উপরে ভিত্তি করেই ওই চিকিৎসককে ১০ লাখ এবং হাসপাতাল-কর্তৃপক্ষকে ৬ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ দিতে বলা হয়েছে।

তবে অভিযুক্ত চিকিৎসক পূর্ণেন্দু রায় বলেন, রায়ের প্রতিলিপি পাইনি। পেলে উচ্চ আদালতে যাব।

আর অ্যাপোলো গ্লেনেগল্স হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের এক আধিকারিক জানান, তারা এখনও ক্রেতা সুরক্ষা রায়ের প্রতিলিপি হাতে পাননি। তাই এখনই কিছু বলা যাচ্ছে না।

তবে এই ধরনের ঘটনা ঘটলে ক্রেতা সুরক্ষা দপ্তর রোগীর পরিবারের পাশেই দাঁড়াবে বলে জানিয়েছেন রাজ্যের ক্রেতা সুরক্ষা মন্ত্রী সাধন পাণ্ডে।

এএসএ/