জনশক্তি রপ্তানিতে পিছিয়ে উত্তরাঞ্চল

0
49
workers
বিদেশি শ্রমিক-ফাইল ছবি
workers
বিদেশি শ্রমিক-ফাইল ছবি

বিদেশে জনশক্তি রপ্তানির ক্ষেত্রে অনেক পিছিয়ে দেশের উত্তরাঞ্চলের জেলাসমুহ। এ অঞ্চলের অধিকাংশ জেলা থেকেই বছরে গড়ে এক হাজারেরও কম লোক বিদেশ গমন করে। আবার কোনো কোনো জেলা থেকে গত দশ বছরে বিদেশ গিয়েছেন মাত্র ২ থেকে ৩ হাজার লোক।

সরকারের নীতি নির্ধারণী, পারিবারিক ও অর্থনৈতিক কারণ, তথ্য প্রাপ্তিতে সমস্যা এবং এলাকাভিত্তিক রিক্রুটিং এজেন্সি না থাকাকে দায়ী করছেন খাত সংশ্লিষ্টরা।

বাংলাদেশ জনশক্তি রপ্তানি ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর (বিএমইটি) তথ্যমতে, ২০০৪ সালের জুন থেকে চলতি বছরের জুন পর্যন্ত দশ বছরে বিদেশ গিয়েছেন মোট ৫০ লাখ ৩৭ হাজার ৫৩৩ জন । এরমধ্যে সবচেয়ে কম বিদেশে যাওয়ার তালিকার শীর্ষ দশে রয়েছে উত্তরাঞ্চলের ৬ জেলা। আর বাকী চারটি কম জনবসতির খাগড়াছড়ি, বান্দারবন, রাঙামাটি ও শেরপুর।

উত্তরাঞ্চল থেকে জনশক্তি রপ্তানি কম হওয়ার পেছনে সেখানকার মানুষের সচেতনা ও আর্থিক অস্বচ্ছালতাকে দায়ী করছেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. খোন্দকার শওকত হোসেন।

ড. খোন্দকার শওকত হোসেন অর্থসূচককে বলেন, আমাদের দেশে অধিকাংশ ভিসা আসে রিক্রুটিং এজেন্সি ও আত্মীয়-স্বজন বিদেশ থাকলে তাদের মাধ্যমে। দেশের রিক্রুটিং এজেন্সিগুলোর মালিক কুমিল্লা কেন্দ্রিক হওয়ায় সে অঞ্চলের মানুষ বেশি বিদেশ যায়। তাছাড়া বিদেশ যেতে যে টাকার প্রয়োজন হয় তা ব্যয় করে বিদেশ গিয়ে কষ্টকর কাজ করার ঝুঁকি নেয় না উত্তরাঞ্চলের মানুষ।

তিনি বলেন, সরকারের জি টু জি চুক্তিসহ অন্যান্য ব্যবস্থায় সব জেলাকে সমান গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। এছাড়া মালয়েশিয়ায় প্রতিটি জেলার জন্যে আলাদা কোটা হিসেব করে লোক পাঠানো হয়।

এ বিষয়ে খাত সংশ্লিষ্ট গবেষণা প্রতিষ্ঠান রিফিউজি অ্যান্ড মাইগ্রেটরি মুভমেন্টস রিসার্চ ইউনিট (রামরু) প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. তাসনিম সিদ্দিকী অর্থসূচককে বলেন, বাংলাদেশ থেকে বিভিন্ন দেশে অভিবাসন শুরু হয় কুমিল্লা, চট্টগ্রাম ও এর আশপাশের জেলাগুলো থেকে। ফলে পরিবার থেকে কেউ বিদেশে গেলে পরবর্তীকালে চেইনের মতো করে তার নিকটাত্মীয়কে নিয়ে যায়।  এভাবেই এসব জেলার অভিবাসীর সংখ্যা বেড়েছে। অর্থনৈতিক  ও সরকারের নীতি নির্ধারণের কারণেও উত্তরাঞ্চল পিছিয়ে ছিল।

বিএমইটির তথ্যে দেখা যায়, জনশক্তি কম রপ্তানি হওয়া দশ জেলার মধ্যে সর্বনিন্ম অবস্থানে রয়েছে পার্বত্য জেলা বান্দরবন। দশ বছরে এ জেলা থেকে মাত্র এক হাজার ৮০০ জন বিদেশ গিয়েছেন। এ ছাড়া পঞ্চগড় থেকে দুই হাজার ৪৪৩ জন, রাঙামাটি থেকে দুই হাজার ৬৭৮, লালমনিরহাট থেকে তিন হাজার ৬৫৭, খাগড়াছড়ি থেকে চার হাজার ২৬৮, ঠাকুরগাঁও থেকে পাঁচ হাজার ৮২৭, নীলফামারী থেকে সাত হাজার ৫১২, কুড়িগ্রাম থেকে নয় হাজার ২৪৩ ও শেরপুর থেকে নয় হাজার ৩৪৭। এছাড়া উত্তরাঞ্চলের আরেক জেলা দিনাজপুরও রয়েছে জনশক্তি রপ্তানিতে অনেক পিছিয়ে। এ সময়ে এ জেলা থেকে বিদেশ গিয়েছে ১২ হাজার ১৪৬ জন।

এছাড়া রংপুর, বরগুনা, ঝালকাঠি, পটুয়াখালী, নড়াইল, নেত্রকোনা ও গাইবান্ধা থেকেও অনেক কম জনশক্তি রপ্তানি হয়েছে। এক দশকে এসব জেলার ১৫ থেকে ২০ হাজার লোক বিদেশ গিয়েছেন।

অন্যদিকে, বিদেশ যাওয়ার তালিকায় শীর্ষে রয়েছে কুমিল্লা জেলা। এ জেলা থেকে এক দশকে পাঁচ লাখ ৫৯ হাজার ৬৯৮ জন লোক কাজ নিয়ে বিদেশ গেছেন। দ্বিতীয় স্থানে থাকা চট্টগ্রাম থেকে গেছেন পাঁচ লাখ ৪৪ হাজার নয়জন। এরপর ব্রাহ্মণবাড়িয়ার দুই লাখ ৬০ হাজার ৭০১ জন, টাঙ্গাইলের দুই লাখ ৫৫ হাজার ৪৭০, ঢাকার দুই লাখ ৩০ হাজার ৪৩৭, চাঁদপুরের দুই লাখ ১৩ হাজার ৫৪৬, নোয়াখালীর দুই লাখ ৮৮ হাজার ২৪, মুন্সিগঞ্জের এক লাখ ৫৭ হাজার ২৭৮, ফেনীর এক লাখ ৪৫ হাজার ৫৬১ ও নরসিংদীর এক লাখ ৪১ হাজার ৭২২ জন বিদেশে গেছেন।

৬৪ জেলার মধ্যে তালিকার ১১ থেকে ২০-এ আছে যথাক্রমে লক্ষ্মীপুর, নারায়ণগঞ্জ, সিলেট, গাজীপুর, কিশোরগঞ্জ, মানিকগঞ্জ, ময়মনসিংহ, মৌলভীবাজার, ফরিদপুর, হবিগঞ্জ। এসব জেলা থেকে একই সময়ে এক লাখের বেশি লোক বিদেশে গেছেন।

এর পরের দশ জেলা হলো বরিশাল, শরীয়তপুর, মাদারীপুর, যশোর, বগুড়া, কক্সবাজার, পাবনা, সুনামগঞ্জ, চাঁপাইনবাবগঞ্জ ও কুষ্টিয়া। এসব জেলা থেকে একই সময়ে ৫০ হাজারের বেশি কর্মী বিদেশে গেছেন।

এছাড়া ভোলা, ঝিনাইদহ, জামালপুর, সিরাজগঞ্জ, রাজবাড়ী, মেহেরপুর, নওগাঁ, গোপালগঞ্জ, পিরোজপুর, নাটোর, রাজশাহী, মাগুরা, চুয়াডাঙ্গা, সাতক্ষীরা, বাগেরহাট ও খুলনা জেলার একই সময়ে ২০ থেকে ৪০ হাজার কর্মী বিদেশে গেছেন।