মধ্যপ্রাচ্যে গৃহযুদ্ধে জড়াচ্ছে ব্রিটিশ-বাংলাদেশিরা

0
42
syria
সিরিয়ার গৃহযুদ্ধ
syria
সিরিয়ার গৃহযুদ্ধ

সিরিয়াসহ মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে চলমান গৃহযুদ্ধে জড়িয়ে পড়ছে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত ব্রিটিশ তরুণরা। প্রতিনিয়ত এ যুদ্ধে তাদের অংশগ্রহণ বাড়ছে। এখন পর্যন্ত প্রায় ৫০০ তরুণ সিরিয়ায় যুদ্ধ করছে বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। আর এদের সবাই লড়ছে দেশটির শাসক আসাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধরত মৌলবাদী গোষ্ঠির হয়ে। খবর বিবিসির।

ধারণা করা হচ্ছে ইংল্যান্ডের দক্ষিণ উপকূলের শহর পোর্টসমাউথের ২৩ বছর বয়সী তরুণ ইফতেখার জামানের হাত ধরেই এটি শুরু হয়। গত বছরের নভেম্বরে হঠাৎ এই শহরের ছোট্ট বাংলাদেশি কমিউনিটি চলে আসে ব্রিটিশ গণমাধ্যমের স্পটলাইটে। হঠাৎ কাউকে না জানিয়ে বাড়ি থেকে নিখোঁজ ইফতেখার । তারপর একদিন টেলিভিশন রিপোর্টে জানা গেল, সিরিয়ায় গিয়ে এক বিদ্রোহী গোষ্ঠির হয়ে লড়াই করছে এই তরুণ।

সিরিয়া থেকেই স্কাইপে বিবিসিকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে ইফতেখার জামান সবিস্তারে ব্যাখ্যা করেন সিরিয়ার জঙ্গী গোষ্ঠী ইসলামিক স্টেট বা আইসিসে যোগ দেওয়ার কারণ।

সাক্ষাৎকারে ইফতেখার জামান বলেন, এই পার্থিব জীবন কিছুই নয়, পরের জীবনটাই আসল। এই লড়াইয়ে জীবন দেয়ার ইচ্ছে প্রকাশ করে তিনি বলেন, আল্লাহর পথে জীবন দিলেই চিরকালের জন্য বেহেশতে যাওয়া যায়।

বিবিসিতে এই সাক্ষাৎকার প্রচারিত হওয়ার কয়েকমাসের মধ্যেই খবর আসে ইফতেখার জামান সিরিয়ার যুদ্ধে নিহত হয়েছেন। পোর্টসমাউথের বাংলাদেশি সম্প্রদায় রীতিমত স্তম্ভিত।

মাসখানেক আগে ব্রিটিশ টেলিভিশনের পর্দায় দেখা গেল আরেক ব্রিটিশ-বাংলাদেশি তরুণকে।

ইফতেখার জামানের মতোই একইভাবে সিরিয়ায় গিয়ে কট্টরপন্থী সুন্নী জঙ্গী গোষ্ঠী আইসিসে যোগ দিয়েছেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভুত এই তরুণ আবদুল রাকিব সুমন।

তার জন্ম স্কটল্যান্ডের এবারডীন শহরে, বেড়ে উঠেছেন সেখানেই। ইউটিউবে আপলোড করা এক ভিডিওতে দেখা যায়, আবদুল রাকিব সুমন অন্য মুসলিম তরুণদেরও তার ভাষায় ‘জিহাদে’ যোগ দিতে উৎসাহিত করছেন।

বাংলাদেশিদের মধ্যে উদ্বেগ

ব্রিটিশ-বাংলাদেশিদের মধ্যে সাম্প্রতিক এসব ঘটনায় কি ধরণের ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়া হচ্ছে? এ নিয়ে কতোটা উদ্বিগ্ন এখানকার বাংলাদেশি সম্প্রদায়?

‘আমরা যখন জানতে পারলাম যে পোর্টসমাউথ থেকে চার-পাঁচটা ছেলে সিরিয়া চলে গেছে সেখানকার বিদ্রোহীদের সাহায্য করার জন্য, তখন আমরা খুবই চিন্তিত হয়ে পড়ি। আমরা বুঝতে পারছিলাম না কোত্থেকে কি হয়ে গেল’- বলছিলেন পোর্টসমাউথের বাংলাদেশি সম্প্রদায়ের একজন মুখপাত্র এবং বাংলাদেশ এসোসিয়েশনের সাবেক সেক্রেটারি জেনারেল আবু শোয়েব তানজাম।

পোর্টসমাউথ থেকে ইফতেখার জামানের পথ ধরে আরও কয়েকজন বাংলাদেশি তরুণ সিরিয়ায় লড়াই করতে যায়। এদের বেশ কয়েকজনকে ছোট বেলা থেকেই চেনেন আবু শোয়েব তানজাম।

‘ওরা আমাদের মসজিদে নামাজ পড়তে আসতো। ছোটবেলায় ওদের আমি বাংলা স্কুলে বাংলা পড়িয়েছি। ইফতেখার জামানই সম্ভবত সিরিয়া গিয়ে সেখান থেকে ইন্টারনেটের মাধ্যমে যোগাযোগ করে অন্যদের সেখানে যেতে উৎসাহিত করে।’

সপ্তাহখানেক আগে পোর্টসমাউথের আরেকটি বাংলাদেশি পরিবারের জন্য সিরিয়া থেকে এসেছে সেই ভয়ংকর দুঃসংবাদ। হামিদুর রহমান নামে আরেক তরুণ সেখানে যুদ্ধে মারা গেছে।

জঙ্গীবাদের ঝুঁকি

মধ্যপ্রাচ্যের সাম্প্রতিক পরিস্থিতি আরও অনেক ব্রিটিশ মুসলিম তরুণকে জঙ্গীবাদের দিকে ঠেলে দেবে বলে আশংকা করছেন নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা।

লন্ডনে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর দফতর দশ নম্বর ডাউনিং স্ট্রীটের সামনে ইসরাইল বিরোধী বিক্ষোভে যোগ দিতে এসেছিলেন অনেক ব্রিটিশ-বাংলাদেশি তরুণ। তাদের একজন বার্মিংহ্যাম থেকে আসা আবদুল মুমিথ।

ব্রিটিশ-বাংলাদেশি তরুণরা জঙ্গীবাদের দিকে ঝুঁকতে পারে বলে আশংকা বাড়ছে

‘যদি বিশ্বের পরিস্থিতিটা এরকমই থাকে, সিরিয়া, মিশর, ফিলিস্তিনে যদি মুসলিমরা মারা যেতে থাকে, আমার মনে হয় ব্রিটিশ মুসলিমরা আরও বেশি সংখ্যায় কট্টপন্থার দিকে ঝুঁকবে। এদের অনেকেই সেখানে লড়াই করতে যাবে। যদিও আমরা নিরীহ মানুষ হত্যার নিন্দা করি। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনক হল, এটা ঘটবেই। অনেক তরুণই ঐ পথে যাবে।’

পূর্ব লন্ডনের শ্যাডওয়েলের এক ইসলামিক স্কুল, জামিয়াতুল উলামা সিক্সথ ফর্ম কলেজ। বিকেলে স্কুল প্রাঙ্গনে ছাত্র-ছাত্রীদের সঙ্গে কথা বলছিলেন স্কুলের প্রিন্সিপ্যাল শেখ আবদুর রহমান মাদানি। জঙ্গী মতাদর্শের বিপদ সম্পর্কে আমরা খুবই সচেতন, বললেন তিনি।

‘আমাদের ছেলে-মেয়েরা যেন এ ধরণের কাজে না যায়, সেজন্যে আমরা বিশেষ ব্যবস্থা রেখেছি। এখানে নানা ধরণের আলোচনা, ওয়ার্কশপের মাধ্যমে আমরা তাদের বোঝানোর চেষ্টা করি যেন তারা সহিংসতার পথে না যায়।’