অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে বিভাগীয় বৈষম্য কমেনি

0
32
টেক্সটাইল কারখানা। ফাইল ছবি

Textile_Industryদেশের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড ১০ বছর আগের মতো ঢাকা বিভাগ কেন্দ্রিকই রয়ে গেছে। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস) পরিচালিত অর্থনৈতিক শুমারির প্রতিবেদনে এমন তথ্য পাওয়া গেছে। প্রতিবেদনে দেখা গেছে, দেশে সবেচেয়ে বেশি অর্থনৈতিক ইউনিট রয়েছে ঢাকায়। আর সবচেয়ে কম সিলেট বিভাগে।

ঢাকা বিভাগে রয়েছে ২৫ লাখ ৯৯ হাজার ৩৭২টি অর্থনৈতিক ইউনিট, চট্টগ্রামে ১৩ লাখ ৮৪ হাজার ৭৫৭টি, রাজশাহীতে ১২ লাখ ১৭ হাজার ৬৩৩টি, রংপুরে ১০ লাখ ৮৮ হাজার ২৫৫টি, খুলনায় ১০ লাখ ৩৪ হাজার ৫৮১টি, বরিশালে ৩ লাখ ৮৫ হাজার ২৩৩টি। আর সবচেয়ে কম, ৩ লাখ ৬৫ হাজার ৮৭৩টি ইউনিট আছে সিলেট বিভাগে।

যেখানে ২০০১ থেকে ২০০৩ সাল পর্যন্ত ঢাকা বিভাগে অর্থনৈতিক ইউনিট ছিল ১১ লাখ ৯৪ হাজার ৬৩৮টি, চট্টগ্রামে ৬ লাখ ৭০ হাজার ৫৪৪টি, রাজশাহীতে ৪ লাখ ৯৯ হাজার ৮৭৩টি, রংপুরে ৪ লাখ ৫ হাজার ৫৮৩টি, খুলনায় ৫ লাখ ৪৫ হাজার ৯১৮টি, বরিশালে ২ লাখ ৫ হাজার ২৬৩টি এবং সিলেট বিভাগে ছিল ১ লাখ ৮৬ হাজার ৩২৫টি।

প্রতিবেদনে দেখা গেছে, ১৯৮৬ সাল থেকে ২০১৩ সাল পর্যন্ত ঢাকায় স্থায়ী অর্থনৈতিক ইউনিট বেড়েছে ২০ লাখেরও বেশি। ১৯৮৬ সালে এই সংখ্যা ছিল ৬ লাখ ৬৫ হাজার ৭৯৯; ২০১৩ সাল নাগাদ তা বেড়ে হয়েছে ২৮ লাখ ৫২ হাজার ৩৫৩টি।

অর্থনৈতিক শুমারি-২০১৩ এর প্রাথমিক ফল বিশ্লেষণে আরও দেখা যায়, গত ১০ বছরে দেশে অর্থনৈতিক ইউনিট ৪০ লাখের বেশি বেড়েছে। শুমারি চলাকালে দেশে অর্থনৈতিক ইউনিট ছিল ৮০ লাখ ৭৫ হাজার ৭০৪টি। এর আগে ২০০৩ সালের শুমারিতে এই সংখ্যা ছিল ৩৭ লাখ ৮ হাজার ১৪৪টি। আর ১৯৮৬ সালের শুমারিতে ছিল ২১ লাখ ৬৯ হাজার ৪১৯টি।

বিশ্লেষণে দেখা যায়, ১৯৮৬ সাল থেকে ২০০১ ও ২০০৩ সাল পর্যন্ত অর্থনৈতিক ইউনিট বৃদ্ধির হার ছিল ৭১ শতাংশ। আর ২০০৩ সাল থেকে ২০১৩ সাল পর্যন্ত ১০ বছরে অর্থনৈতিক ইউনিট বৃদ্ধির হার ১১৮ শতাংশ।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দেশের অর্থনীতি ক্রমশ শক্তিশালী হচ্ছে এবং প্রাতিষ্ঠানিকীকরণের দিকে ধাবিত হচ্ছে। বাংলাদেশে স্থায়ী প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা সময়ের ব্যবধানে বাড়ছে। ১৯৮৬ সালে স্থায়ী প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা ছিল ১৫ লাখ ৬১ হাজার ৯৪৯টি এবং ২০১৩ সালে তা দাড়িয়েছে ৪৫ লাখ ৩৪ হাজার ৬১৬টি। একই সময়ে খানাভিত্তিক অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের দ্রুত বিস্তার হয়েছে।

প্রসঙ্গত, পরিসংখ্যান বিভাগের অধীনে বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো ১৯৮৬ সাল থেকে অর্থনৈতিক শুমারি পরিচালনা করে আসছে। ২০১৩ সালে অর্থনৈতিক শুমারিসহ তিনটি শুমারি সম্পন্ন করেছে পরিসংখ্যান ব্যুরো। এর প্রাথমিক প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়েছে সম্প্রতি। এর আগে সর্বশেষ প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয় ২০০৩ সালে। ২০১৩ সালের শুমারির চূড়ান্ত ফল প্রকাশ করা হবে আগামী বছর।

এইচকেবি/এসএম