বাংলাদেশ গ্যাস ফিল্ডসে টেন্ডার ছাড়াই ১০ কোটি টাকার কাজ

0
64
bgfcl
বাংলাদেশ গ্যাস ফিল্ডস কোম্পানি লিমিটেড (বিজিএফসিএল)
bgfcl
বাংলাদেশ গ্যাস ফিল্ডস কোম্পানি লিমিটেড (বিজিএফসিএল)

শ্রমিক সরবরাহ কাজে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে বাংলাদেশ গ্যাস ফিল্ডস কোম্পানি লিমিটেডের (বিজিএফসিএল) বিরুদ্ধে। কোনো টেন্ডার ছাড়াই ১০ কোটি টাকার শ্রমিক সরবরাহের কাজ পছন্দের ঠিকাদারকে দেওয়া হয়েছে বলে এ অভিযোগ। আর এতে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করার চেষ্টা চলছে সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত বিধিমালাকে (পিপিআর)।

অনুসন্ধানে জানা যায়, বাংলাদেশ গ্যাস ফিল্ডের বিভিন্ন কাজে সহায়তা করার জন্য দৈনিক মজুরী ভিত্তিতে ৪৪০ জন শ্রমিক নিয়োগ দেওয়ার কথা। এর মধ্যে ঝাড়–দার, অফিস পিয়ন, অফিস বয়, ক্লিনার, মালিসহ বিভিন্ন পদ রয়েছে। তাদের মাথাপিছু মজুরি ২৯৫ টাকা। ২০১১ সালের আগস্ট মাসে আল মামুন এন্টারপ্রাইজ ও নির্মাণ বিল্ডার্স জেবি সর্বনিম্ন দরদাতা হিসেবে কাজ পায়। চলতি মাসের ১৫ তারিখ তিন বছরের মেয়াদ শেষ হয়।

নতুন মেয়াদে লোক সরবরাহের জন্য কোনো টেন্ডার আহ্বান করেনি কর্তৃপক্ষ। বরং গোপন সমঝোতার মাধ্যমে আগের দুই প্রতিষ্ঠানকেই এ কাজ দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করা হয়। অভিযোগ উঠেছে, বিজিএফসিএলের মহাব্যবস্থাপক (প্রশাসন) নাসিমুজ্জমান তালুকদার ও ব্যবস্থাপনা পরিচালকের একান্ত সচিব (পিএস) মোহাম্মদ আব্দুল করিমের বিশেষ আগ্রহে এ প্রক্রিয়া শুরু হয়।

বিষয়টি নিয়ে গ্যাস ফিল্ডে নানা প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে। ১০ কোটি টাকার কাজ কোনো প্রকার দরপত্র আহবান ছাড়াই পিপিআর দোহাই দিয়ে মহাব্যবস্থাপক (প্রশাসন) বিশেষ প্রতিষ্ঠানকে কাজটি প্রদান করছে বলে ঠিকাদাররা জানান। এই ধরণের অস্বচ্ছ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে পছন্দের ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানকে কাজ দেওয়ার চেষ্টায় সাধারণ ঠিকাদারদের মধ্যে অসন্তোষ সৃষ্টি হয়েছে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে বিজিএফসিএল একাধিক কর্মকর্তা অভিযোগ করেন, এর আগেও এ গ্যাস ফিল্ডে জনবল নিয়োগে বড় অনিয়ম হয়েছে। তাতে নাসিমুজ্জামান তালুকদারসহ কয়েকজন কর্মকর্তা যুক্ত ছিলেন। ওই ঘটনায় অন্যদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হলেও নাসিমুজ্জামানের কিছুই হয়নি। এতে আরও বেশি উৎসাহ নিয়ে তিনি নতুন নতুন অনিয়মে জড়িয়ে পড়ছেন।

গ্যস ফিল্ডের দায়িত্বশীল কর্মকতারা বলেন, গুটিকয়েক কর্মকর্তার অনিয়ম-অপকর্মে বাংলাদেশ গ্যাস ফিল্ডের সুমান নষ্ট হচ্ছে।

বিজিএফসিএলের এমডির পিএস মোহাম্মদ আব্দুল করিম তার বিরুদ্ধে উঠা সব অভিযোগ অস্বীকার করেন। তিনি দাবি করেন, শ্রমিক সরবরাহসহ কোনো অনিয়মের সঙ্গে তিনি যুক্ত নন।

জিএম (এইচআর) নাসিমুজ্জামান তালুকদার বলেন, জিএম কমিটির সিদ্ধান্ত অনুসারে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানকে কাজটি দেওয়া হয়েছে। তবে ১০ কোটি টাকার কাজ কীভাবে দরপত্র ছাড়াই দেওয়া হল সে বিষয়ে তিনি কোনো কথা বলতে চাননি।