শোকের মাতমে তারা বাড়ি ফিরেছেন

0
46
malaysia-air-deadbody
এমএইচ ১৭ বিধ্বস্ত হয়ে নিহত ২০ মালয়েশিয়ান নাগরিকের লাশ গ্রহণ করছে দেশটির সেনা সদস্যরা
malaysia-air-deadbody
এমএইচ ১৭ বিধ্বস্ত হয়ে নিহত ২০ মালয়েশিয়ান নাগরিকের লাশ গ্রহণ করছে দেশটির সেনা সদস্যরা

বিধ্বস্ত হওয়ার এক মাসেরও বেশি সময় পর মালয়েশিয়ান বিমান এমএইচ-১৭ এর ২০ মালয়েশীয় নাগরিকের দেহাবশেষ দেশে ফিরেছে। শুক্রবার স্থানীয় সময় সকাল ১০ টায়  (বাংলাদেশ সময় সকাল ৮টা) একটি বিশেষ বিমানে মরদেহগুলো কুয়ালালামপুর বিমানবন্দরে পৌঁছায়। মালয়েশিয়ান সেনা সদস্যদের একটি চৌকষ দল মরদেহগুলো বিমান থেকে নামিয়ে আনেন। খবর বিবিসি ও গার্ডিয়ানের।

নিহতদের স্মরণে আজ শুক্রবার মালয়েশিয়ায় জাতীয় শোক পালিত হচ্ছে। দেশটিতে এই প্রথম সাধারণ মানুষের মৃত্যুকে কেন্দ্র করে জাতীয় শোক পালন করা হচ্ছে। এর আগে রাজ পরিবারের কারো মৃত্যু হলেই কেবল জাতীয়ভাবে শোক পালন করা হয়েছে।

গত ১৭ জুলাই ইউক্রেন ও রাশিয়ার সীমান্ত এলাকায় ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় বিধ্বস্ত হয় মালয়েশিয়ান বিমানটি। এতে ক্রু ও যাত্রীসহ ২৯৮ জন আরোহীর সবাই নিহত হন। এ ঘটনার জন্য কেউ এ হামলার জন্য ইউক্রেনের বিচ্ছিন্নতাবাদীদের উপর দোষ চাপানোর চেষ্টা করছে ইউক্রেন ও পশ্চিমা দেশগুলো। এতে রাশিয়ার মদদ রয়েছে বলেও তাদের অভিযোগ। তবে রাশিয়া এবং ইউক্রেনের রাশিয়াপন্থী বিচ্ছিন্নতাবাদীরা এ অভিযোগ অস্বীকার করছে। তারা পাল্টা অভিযোগ করছে, ইউক্রেনের জঙ্গী বিমান থেকে ছোঁড়া গোলার আঘাতে বিমানটি বিধ্বস্ত হয়েছে।

বিমানটি বিধ্বস্ত হওয়ার পর ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে পরিচয় নিশ্চিত করতে ২৬ জুলাই রাশগুলো নেদারল্যান্ডে নিয়ে যাওয়া হয়। ওই ফ্লাইটে নেদারল্যান্ডের যাত্রীর সংখ্যা ছিল সবচেয়ে বেশি।

air-hostage-malaysia
সহকর্মীদের লাশ দেখে কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন মালয়েশিয়া এয়ারলাইনসের এয়ারহোস্টেজরা

দেহাবশেষ ফিরিয়ে আনাকে কেন্দ্র করে শুক্রবার শোকের ছায়া নেমে আসে পুরো মালয়েশিয়ায়। কুয়ালালামপুর বিমানবন্দরে বিপুল মানুষ ভিড় জমায়। নিহত আরোহীদের প্রতি সম্মান দেখিয়ে দেশটিতে ১ মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। এছাড়া অর্ধনমিত রাখা হয় জাতীয় পতাকা। দেশটির প্রধানমন্ত্রী নাজিব তুন রাজজাক নাগরিকদেরকে নিহতদের প্রতি সম্মান জানানোর আহ্বান জানান।

লাশগুলো সংগ্রহ করে ইউক্রেন থেকে প্রথমে নেদারল্যান্ডে নিয়ে যাওয়া হয। সেখান থেকে বিশেষ ফ্লাইট এমএইচ ৬১২৯ এ শুক্রবার কুয়ালালামপুর পৌঁছায় মরদেহগুলো। বিশেষ সম্মানের সঙ্গে কুয়ালালামপুরের বিমানবন্দরে মরদেহগুলোকে গ্রহণ করে মালয়েশীয় কর্তৃপক্ষ। মালয়েশিয়ার পুত্রাজায়াতে নিহতদের শেষ সম্মান প্রদর্শনের মাধ্যমে তাদের নিজ নিজ ধর্মমতে সৎকার করা হবে।