‘শাহজালালের জাল সনদধারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিন’

0
86
Shahjalal-Bank
শাহজালাল ইসলামী ব্যাংক- লোগো
Shahjalal-Bank
শাহজালাল ইসলামী ব্যাংক- লোগো

শাহজালাল ইসলামী ব্যাংকের চেয়ারম্যান একে আজাদের দুই বোনসহ পরিচালনা পর্ষদের অন্যান্য সদস্যদের ২৫ জন আত্মীয়-স্বজন ভূয়া সার্টিফিকেট দিয়ে ব্যাংকে চাকরি নেয়। বিষয়টি তদন্তে প্রমাণিত হয় ওই ভূয়াসনদ দাখিলকারীদের বিরুদ্ধে মামলা করতে ব্যাংককে নির্দেশ দেয় কেন্দ্রীয় ব্যাংক। কিন্তু ব্যাংক কর্তৃপক্ষ মামলা না করায় তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ জানিয়েএ দুর্নীতি দমন কমিশনকে (দুদক) চিঠি দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। দুদক সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

দুদক সূত্র জানায়, গত ১৮ আগস্ট দুদকের চেয়ারম্যানের কাছে একটি চিঠি দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। ওই চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে, শাহজালাল ইসলামী ব্যাংকে ভূয়া সনদ দাখিল করে চাকরি নেয় ২৫ জন। এদের মধ্যে ২১ জন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, রাজশাহী ও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়সহ জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্টিফিকেট জমা দেয়। বাকী ৪ জন বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্টিফিকেট জমা দিয়েছে। সংশ্লিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ওই ২৫ কর্মকর্তার বিষয়ে তথ্য নেওয়া হয়েছে। তারা কেউই কখনো ওই বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর ছাত্র ছিলেন না বলে জানিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়গুলো। কিন্তু তারা প্রতারণার আশ্রয় নিয়ে ব্যাংকের উচ্চ পদে চাকরি করেছেন। এখানে দীর্ঘদিন চাকরি করে মোট অঙ্কের টাকাও বেতন হিসেবে নিয়েছেন। তাই প্রতারণা ও জালিয়াতির অভিযোগে তাদের বিরুদ্ধে অধিকতর তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে অনুরোধ করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

সূত্র জানায়, ভূয়া সনদ দাখিলকারী কর্মকর্তাদের মধ্যে ব্যাংকের চেয়ারম্যান ও সাবেক এফবিসিসিআই সভাপতি একে আজাদের দুই বোন সোনিয়া সুলতানা ও জিনিয়া সুলতানাও রয়েছেন। অন্যরা হলেন আব্দুল্লাহ আল আলামিন, নুরুল ইসলাম, মো. মনিরুল ইসলাম, রিয়াদুল ইসলাম, তপন কুমার সাহা, বদরুল হক, শরিফুল ইসলাম, রফিকুল ইসলাম, আলাউদ্দিন, রেজাউল হাসান, বিল্লাল রাসেল, ফারহানা সুলতানা, দেলোয়ার হোসেন, মাসুদ করীম খান, আফসার হোসেন, ইমরান হোসেন, সাইদুর রহমান, সৈয়দ মো. মাসিউজ্জামান, জালাল আহমেদ, জিয়াউর রহমান, নজরুল বিশ্বাস, জিয়াউর রহমান ও সালেহ আবু নাঈদ।

এছাড়া এই কর্মকর্তারা যেন অন্যকোনও ব্যাংকে চাকরীতে যোগদান না করতে পারেন এজন্য তাদের তালিকা সরকারি-বেসরকারি সব ব্যাংকের অফিসে ইমেইলে পাঠানো হয়েছে।

উল্লেখ, শাহজালাল ইসলামী ব্যাংকে শিক্ষাগত যোগ্যতার জাল সনদে অনেক কর্মকর্তা অভিযোগ উঠলে বাংলাদেশ ব্যাংক তদন্তে নামে। এতে ২৫ জন জাল সনদধারী কর্মকর্তার সন্ধান পাওয়া যায়। এদের মধ্যে আছেন ব্যাংকটির চেয়ারম্যান একে আজাদের দুই বোনও। গত ১৮ জুন অর্থসূচক বিষয়টি নিয়ে একটি রিপোর্ট প্রকাশ করলে তোলপাড় হয়।

এ বিষয়ে অর্থসূচকের আগের রিপোর্টটিঃ

শাহজালাল ইসলামী ব্যাংকে অনৈসলামিক কাজ

জাল সনদে চাকরি করছে একে আজাদের বোনেরা