‘শ্রমিকদের ওপর পুলিশি নির্যাতন বন্ধ না হলে আন্দোলন’

0
34

Garmnents_humanchainশ্রমিক নেতা ও শ্রমিকদের ওপর পুলিশি নির্যাতন বন্ধ না হলে আবারও কঠোর আন্দোলনে যাবে বলে হুঁশিয়ারী দিয়েছেন শ্রমিক নেতারা।

বৃহস্পতিবার বিকেলে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে গার্মেন্টস শ্রমিক ঐক্য ফোরামের উদ্যোগে মোশরেফা মিশুসহ শ্রমিকদের ওপর নির্যাতন বন্ধের দাবিতে আয়োজিত বিক্ষোভ সমাবেশে তারা এই হুঁশিয়ারী দেন।

সমাবেশে শ্রমিক নেতারা বলেন, শ্রমিকদের ন্যায্য অধিকার থেকে সবসময় বঞ্চিত করা হয়। কারখানার মালিকরা শ্রমিকদের রক্ত চুষে খায়। শ্রমিকরা ন্যায্য বেতন-ভাতার দাবিতে তারা রাস্তায় নামলে সরকারের বাহিনী তাদের উপর হামলা করে।

এ সময় অবিলম্বে তোবা কারখানা খুলে দেওয়ার দাবি জানান তারা।

শ্রমিক নেতারা অভিযোগ করে বলেন, পোশাক কারখানাগুলোর মালিকদের অনৈতিক কর্মকাণ্ড দেখেও সরকার পদক্ষেপ নিচ্ছে না। বরং শ্রমিকদের উপর উল্টো হামলা করা হয়। ভভিষ্যতে এ ধরনের হামলা করা হলে সারা বাংলাদেশের শ্রমিকরা কঠিন আন্দোলনে যাবে।

 শ্রমিকদের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে, তারা না-কি কারখানায় ভাংচুর করেছে। কিন্তু যদি ভাংচুর করে থাকে তাহলে তোবার মালিক ৬০ লাখ টাকার যন্ত্রপাতি বিক্রয় করে কিভাবে।

বিজিএমএইএ’র কঠোর সমালোচনা করে বক্তারা বলেন, এই সংগঠনটি অসহায় শ্রমিকদের পক্ষে নয়, এটি দেলোয়ারের মত খুনি মালিকদের সংগঠন। শ্রমিকদের ওপর হামলা করা হলেও এই সংগঠনটি এর বিরুদ্ধে কোনো ভূমিকা নেয়নি।

এ সময় তারা নারী শ্রমিকদের উপর নির্যাতনকারী বাড্ডা থানার ওসি এম এ জলিলকে অবিলম্বে গ্রেপ্তার ও চাকরি থেকে বরখাস্ত করার দাবি জানায়।

তোবা কারখানার এমডি দেলোয়ার হোসেনের জামিন বাতিলের দাবি জানিয়ে বক্তারা বলেন, দেলোয়ারকে বিচারের কাঠ গড়ায় দাঁড় করাতে হবে। সেই সাথে তার সব সম্পতি বাজেয়াপ্ত করে কারখানাগুলো রাষ্ট্রীয় মালিকায় নেওয়ার দাবি করেন তারা।

এ সময় তারা সাত দফা দাবি জানান সরকারের কাছে। দাবিগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো- কারখানা চালু করতে হবে।  আর যদি কারখানা বন্ধই করতে হয় তবে শ্রম আইন অনুযায়ী সব পাওনা পরিশোধ করতে হবে। একই সঙ্গে পাঁচটি কারখানার ১৪৯৫ জন শ্রমিককে বিজিএমইএ ভুক্ত অন্য কারখানায় চাকরি দিতে হবে। শ্রমিকদের উপর পুরিশি হয়রানী বন্ধ করতে হবে।

সংগঠনের অর্থ সম্পাদক শহিদুল ইসলাম সবুজের সভাপতিত্বে আরও বক্তব্য দেন শ্রমিক নেতা মোমিন মেহেদী, সফিউল আলম প্রমূখ।

জেইউ/