ব্যর্থতার ডালি নিয়ে আজ বিএসইসি ভবনের ভিত্তিপ্রস্তর উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী
মঙ্গলবার, ২২শে সেপ্টেম্বর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ
today-news
brac-epl
প্রচ্ছদ » জাতীয়

ব্যর্থতার ডালি নিয়ে আজ বিএসইসি ভবনের ভিত্তিপ্রস্তর উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী

Hasina-shommelonপ্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আজ রোববার পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) নিজস্ব ভবনের ভিত্তিপ্রস্তর উদ্বোধন করবেন। এ উপলক্ষ্যে বাংলাদেশ চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে আয়োজিত অনুষ্ঠানে তিনি প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখবেন।

তিনি যখন নতুন এ ভবনের ভিত্তিপ্রস্তর উদ্বোধন করবেন তখনও ১৬ হাজার কোটি টাকা মার্জিন ঋণের দায়ে পুঁজিবাজার ন্যুব্জ। কয়েক লাখ বিনিয়োগকারী ঋণ ও ঋণাত্মক ইক্যুইটির দায় নিয়ে পাগলপ্রায়। সরকারের প্রথম মেয়াদের পর দ্বিতীয় মেয়াদেও পুঁজিবাজার কেলেঙ্কারীর হোতারা ঘুরে বেড়াচ্ছে বীরদর্পে। সরকারের আশ্রয়ে-প্রশ্রয়ে এরা ফুলে-ফেঁপে উঠছে। বাজার ধসের পর প্রধানমন্ত্রী বলেছিলেন, তিনি মূল্য সূচক ৬ হাজার দেখতে চান। সেই সূচক এখনো ৪ হাজারের আশপাশে ঘুরপাক খাচ্ছে। তাই বিএসইসির উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী কি বক্তব্য রাখবেন, পুঁজিবাজারের কোন সাফল্য তুলে ধরবেন তা নিয়ে বিনিয়োগকারীদের কৌতুহলের শেষ নেই।

জানা গেছে, প্রস্তাবিত বিএসইসি ভবনের প্রাথমিক ব্যয় ধরা হয়েছে ৪৪ কোটি টাকা। এর পুরোটাই যোগান দেওয়া হবে কমিশনের নিজস্ব তহবিল থেকে। আগারগাঁওয়ে ই ব্লকের ৬ নাম্বার প্লটে ৩৩ একর জায়গার উপর নির্মাণ করা হবে এই ভবন।

সূত্রে জানা যায়, ভবনটি নির্মানের পর বিএসইসি অফিস মতিঝিলের দিলকুশা থেকে শেরেবাংলা নগরের আগারগাঁওয়ে নেওয়া হবে। বিএসইসির নিজস্ব কার্যালয় ভবন নির্মানের জন্য গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় ২০০৪ সালের ১৩ জুন শেরে বাংলা নগরের প্লট নং ই-৬-এর দশমিক ৩৩ একর জমি বরাদ্দ প্রদান করে। বরাদ্দপত্রের শর্তানুযায়ী জমির মূল্য বাবদ ৬০ লাখ টাকা এরই মধ্যে পরিশোধ করেছে বিএসইসি। এর পরিপ্রেক্ষিতে গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রনালয় ২০০৯ সালে বিএসইসির কাছে জমিটির ইজারা দলিল হস্তান্তর করে।

বরাদ্দপত্রের শর্তানুযায়ী স্থাপত্য অধিদপ্তর নকশা তৈরি করে। গণপূর্ত অধিদপ্তর ওই নকশা অনুযায়ী ২০১১ সালের তফসিল অনুসারে একটি খসড়া উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব (ডিপিপি) তৈরি করে বিএসইসিকে দেয়। গণপূর্ত অধিদপ্তরের খসড়া ডিপিপির আলোকে বিএসইসি নতুন ডিপিপি তৈরি করে তা মন্ত্রণালয়ের অনুমোদনের জন্য পাঠায়। এরপর পরিকল্পনা বিভাগের ২০০৩ সালের ৮ ডিসেম্বরের নির্দেশনা অনুযায়ী ২০১৩ সালের ১২ আগষ্ট অর্থ বিভাগ বিএসইসির অনুকূলে কয়েকটি শর্তে সিকিউরিটি সার্টিফিকেট প্রদান করে।

জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে ভিত্তিপ্রস্তর উদ্বোধনের ধুম লেগেছে। আর এরই ধারাবাহিকতায় আজ বিএসইসি ভবনের ভিত্তিপ্রস্তর উদ্বোধন করা হবে। প্রতিটি উদ্বোধনী অনুষ্ঠানেই প্রধানমন্ত্রী উন্নয়নের ফিরিস্তি তুলে ধরেন। তাই আজও তিনি পুঁজিবাজারের উন্নয়নে সরকারের ‘সাফল্যগুলো’ তুলে ধরবেন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। কিন্তু তাদের মতে, স্টক এক্সচেঞ্জে মালিকানা থেকে ব্যবস্থাপনাকে আলাদা করা (ডিমিউচুয়ালাইজেশন) ও কয়েকটি আইনের সংস্কার ছাড়া আর কোনো সাফল্য নেই।

বর্তমান সরকারের আমলে পুঁজিবাজারে বড় ধরনের উত্থান-পতন হয়েছে। উত্থান পর্যায়ে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) সাধারণ সূচক ২২৩ শতাংশ বেড়ে আকাশ ছুঁয়েছে। আবার পতনের ধারায় তা ৬০ শতাংশ কমে তলানীতে নেমেছে। সরকারের দায়িত্ব নেওয়ার সময় ২০০৯ সালের ৬ জানুয়ারি ডিএসইতে সাধারণ সূচক ছিল ২৭৫৪ পয়েন্ট। পরের বছর ৫ ডিসেম্বর তা ৮৯০০ পয়েন্টে উন্নীত হয়। সেখান থেকে শুরু হয় পতন, পরের বছর এ সূচক ৩৫০০ পয়েন্টে নেমে আসে।   আর এ উত্থান-পতনের গ্যাড়াকলে পড়ে সর্বস্বান্ত হয়ে যায় কয়েক লাখ বিনিয়োগকারী। সব হারানোর ধাক্কা সামলাতে না পেরে বেশ কয়েকজন বিনিয়োগকারী আত্মহত্যা করেন।

অভিযোগ রয়েছে, সরকারের ঘনিষ্ট বিছু ব্যাক্তিকে পুঁজিবাজার থেকে বিপুল অর্থ তুলে নেওয়ার সুযোগ করে দিতে দায়িত্ব গ্রহণের পর সরকার বিভিন্ন ধরনের প্রণোদনা দিয়ে নীতি সমর্থন যোগায়। তৎকালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে ২০০৭ সাল থেকেই পুঁজিবাজার ছিল উর্ধমুখী। আওয়ামীলীগ সরকার এ বাজারের লাগাম টেনে না ধরে সঞ্চয়পত্রের সুদ হার কমানো, পুঁজিবাজারের বিনিয়োগের মাধ্যমে কালো টাকা সাদা করার সুযোগ দেওয়াসহ নানা উপায়ে তপ্ত বাজারে ঘি ঢালে। অন্যদিকে বাংলাদেশ ব্যাংকের নাকের ডগায় বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো পুঁজিবাজারে সীমার অতিরিক্ত অর্থ বিনিয়োগ করে। কোনো রকম সম্ভাব্যতা যাচাই ছাড়াই সারাদেশে ছড়িয়ে দেওয়া হয় মার্চেন্ট ব্যাংক ও ব্রোকারহাউজের শাখা।এতে বাজারে তারল্য প্রবাহ ও শেয়ারের চাহিদা বেড়ে যায়। কিন্তু সে অনুপাতে সরবরাহ না বাড়ায় দাম বাড়তে বাড়তে বিপদজনক পর্যায়ে চলে যায়। আর এরই অনিবার্ পরিণতিতে ২০১০ সালের শেষ ভাগে ধস নামে বাজারে। ধসের সে রেশ এখনো কাটেনি।

এমআরবি/

 

এই বিভাগের আরো সংবাদ