১৩ কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ বদির

0
43
bodi
কক্সবাজার-৪ আসনের সংসদ সদস্য আব্দুর রহমান বদি। ফাইল ছবি

bodi১২ কোটি ৮৪ লাখ ৮৫ হাজার ৪৪ টাকার অবৈধ সম্পদের মালিক আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য আব্দুর রহমান বদি। দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) অনুসন্ধানে জানা গেছে, তিনি বিভিন্ন অবৈধ ব্যবসার মাধ্যমে তা অর্জন করে গোপন করেছেন।

বৃহস্পতিবার বিকেলে রাজধানীর রমনা থানায় এ অবৈধ সম্পদ অর্জনের দায়ে তার বিরুদ্ধে মামলা করেছেন দুদকের উপ-পরিচালক মোহাম্মদ আব্দুস সোবহান।

দুদক সূত্র জানায়, কক্সবাজার-৪ আসনের সংসদ সদস্য আব্দুর রহমান বদির বিরুদ্ধে হলফনামায় তথ্য গোপন ও অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ আসে দুদকে। বিষয়টি আমলে নিয়ে গত ১৩ জানুয়ারি অনুসন্ধান শুরু করে কমিশন। অনুসন্ধানকালে দুদকের নোটিসের ভিত্তিতে ২০ মার্চ কমিশনে সম্পদ বিবরণী জমা দেন বদি।

সম্পদ বিবরণীতে তিনি ও তার পরিবারের সদস্যদের নিয়ে মোট ৫ কোটি ২০ লাখ ১৪ হাজার ৫৩৮ টাকার সম্পদের তথ্য জমা দেন। কিন্তু তার আয়কর রিটার্ন পর্যালোচনা করে মোট ১৬ কোটি ৬ লাখ ৯৬ হাজার ২০৭ টাকার স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদের প্রমাণ পায় দুদক। যাতে তার গোপন করা সম্পদের পরিমাণ ১০ কোটি ৮৬ লাখ ৮১ হাজার ৬৬৯ টাকা।

অন্যদিকে, দুদকে জমা দেওয়া তার সম্পদ বিবরণীর মধ্যেও ব্যাপক গরমিল পেয়েছে কমিশন। তিনি আমদানি ব্যবসার কথা উল্লেখ করলেও উক্ত ব্যবসায় লাভ-ক্ষতির বিষয় সঠিকভাবে দেখাতে পারেননি।

স্থাবর সম্পত্তির মধ্যে একটি জমির দাম এক বছরের ব্যবধানে অস্বাভাবিক বৃদ্ধি দেখিয়ে গোপন করেছেন প্রায় ২ কোটি টাকা। এতে ৪১ লাখ ৯৬ হাজার ৬২৫ টাকার একটি জমি ২ কোটি ৪০ লাখ টাকা বিক্রি দেখিয়েছেন তিনি। এখানে তিনি ১ কোটি ৯৮ লাখ ৩ হাজার ৩৭৫ টাকা গোপন করেছেন বলে প্রমাণ পায় দুদক।

এছাড়াও ইয়াবাসহ নানা অবৈধ ব্যবসায় তার কোটি কোটি টাকার লেনদেন রয়েছে বলে জানিয়েছে সূত্র।

এ বিষয়ে বদির সম্পদ অনুসন্ধানকারী কর্মকর্তা দুদকের উপ পরিচালক আব্দুস সোবহান বলেন, দুদকে দাখিল করা বদির সম্পদ বিবরণী ও তার আয়কর রিটার্ন পর্যালোচনা করে তার বিরুদ্ধে ১২ কোটি ৮৪ লাখ ৮৫ হাজার ৪৪ টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জনের প্রমাণ পেয়েছি। আর বিষয়টি পর্যালোচনা করে ১০ কোটি ৮৬ লাখ ৮১ হাজার ৬৬৯ টাকার সম্পদ গোপন করার দায়ে দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪ এর ২৬(২) ধারায় এবং অবৈধভাবে অর্জিত সম্পদ বৈধতা দেখানোর জন্য কম মূল্যের সম্পদকে ১ কোটি ৯৮ লাখ ৩ হাজার ৩৭৫ টাকা বেশি দেখানোর দায়ে দুর্নীতি দমন কমিশন আইন , ২০০৪ এর ২৭(১) ধারায় মামলা করা হয়েছে।

প্রসঙ্গত, নির্বাচন কমিশনে দেওয়া হলফনামার ভিত্তিতে বদির বিরুদ্ধে অনুসন্ধান শুরু করে দুদুক। হলফনামার তথ্য অনুসারে, জীবনে প্রথম সাংসদ হওয়ার পর পাঁচ বছরে তার আয় বেড়েছে ৩৫১ গুণ। আর নিট সম্পদ বেড়েছে ১৯ গুণেরও বেশি। হলফনামায় বদির শুধু আয়কর বিবরণীতে প্রদর্শিত অর্থ ও সম্পদের কথা উল্লেখ করেন। হলফনামা অনুসারে বদির বার্ষিক আয় ৭ কোটি ৩৯ লাখ ৩৯ হাজার ৮০৮ টাকা। আর ব্যয় ২ কোটি ৮১ লাখ ২৯ হাজার ৯২৮ টাকা।

এইউ নয়ন