আইপিওর নতুন পদ্ধতিতে আবেদনের সুযোগ পাচ্ছেন যারা

0
80
IPO-Application-cross
১১৮ প্রতিষ্ঠানের বিনিয়োগকারীরা লাইনে না দাঁড়িয়ে আইপিও'র আবেদন জমা দিতে পারবেন
IPO-Application-cross
১১৮ প্রতিষ্ঠানের বিনিয়োগকারীরা লাইনে না দাঁড়িয়ে আইপিও’র আবেদন জমা দিতে পারবেন

নানা অনিশ্চয়তার পর অবেশেষে আগামী মাসে প্রাথমিক গণপ্রস্তাবের (আইপিও) নতুন পদ্ধতির কার্যকর হচ্ছে। তবে শুরুতে সব ডিপোজিটরি পার্টিসিপেন্ট (ডিপি) বা ব্রোকারহাউজের বিনিয়োগকারীরা এ সুবিধা পাবেন না। বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) নির্দেশনা অনুযায়ী যে সব ব্রোকারহাউজ প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নিতে পেরেছে কেবল তাদের গ্রাহকরাই এ পদ্ধতিতে আবেদন করতে পারবেন।

পাইলট প্রকল্পের মাধ্যমে পদ্ধতিটির ত্রুটি-বিচ্যুতি চিহ্নিত হলে তা সংশোধন করে এটি সবার জন্য বাধ্যতামূলক করা হবে। তখন সব বিনিয়োগকারীকে এ পদ্ধতিতে আবেদন করতে হবে।

বিএসইসি ৫২৪তম কমিশন সভা ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) ৬৬ টি, চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের (সিএসই) ৩৬ টি ট্রেকহোল্ডার প্রতিষ্ঠান (ব্রোকারহাউজ) ও ১৬টি মার্চেন্ট ব্যাংককে অনুমতি দিয়েছে নতুন পদ্ধতিতে অংশ নেওয়ার। এসব প্রতিষ্ঠান আগ্রহী গ্রাহকের কাছ থেকে আবেদনপত্র জমা নিয়ে সংশ্লিষ্ট কোম্পানিতে পৌঁছে দেবে। অবশ্য প্রযোজ্য পরিমাণ টাকা গ্রাহকের একাউন্টে থাকতে হবে।

তবে নতুন পদ্ধতির পাশাপাশি বিদ্যমান পদ্ধতিও সব বিনিয়োগকারীর জন্য বহাল থাকছে। আলোচিত ১১৮ প্রতিষ্ঠানের গ্রাহকরাও চাইলে ডিপির মাধ্যমে আবেদন না করে ব্যাংকের মাধ্যমে আবেদন ও টাকা জমা দিতে পারবেন।

যেসব ব্রোকারহাউজের বিনিয়োগকারীরা নতুন পদ্ধতিতে আবেদনের সুযোগ পাবেন- এ.কে.খান সিকিউরিটিজ লিমিটেড, ইন্টারন্যাশনাল লিজিং সিকিউরিটিজ লিমিটেড, ব্র্যাক ইপিএল স্টক ব্রোকারেজ লিমিটেড, এমএএইচ সিকিউরিটিজ লিমিটেড, আদিল সিকিউরিটিজ লিমিটেড, গ্রীনল্যান্ড ইক্যুইটিজ লিমিটেড, রয়্যাল ক্যাপিটাল লিমিটেড, ভিশন ক্যাপিটাল ম্যানেজমেন্ট লিমিটেড, ইটিবিএল সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ লিমিটেড এবং দৌলতুন্নেসা ইক্যুইটিস লিমিটেড।

আরও সুযোগ পাচ্ছেন- হাজী আহমদ ব্রাদার্স সিকিউরিটিজ লিমিটেড, রাসপিড সিকিউরিটিজ লিমিটেড, এবি এন্ড কোম্পানি লিমিটেড, এম-সিকিউরিটিজ লিমিটেড, সাকো সিকিউরিটিজ লিমিটেড, ইমতিয়াজ হোসাইন সিকিউরিটিজ লিমিটেড, মিঞান আব্দুর রশিদ সিকিউরিটিজ লিমিটেড, শাহজাহান সিকিউরিটিজ লিমিটেড, এসেঞ্জ সিকিউরিটিজ লিমিটেড, পপুলার ইকুইটিস লিমিটেড, মোহাম্মদ তালহা অ্যান্ড কোং লিমিটেড, হ্যাক সিকিউরিটিজ লিমিটেড, এশিয়া সিকিউরিটিজ লিমিটেড, ইউনিরয়েল সিকিউরিটিজ লিমিটেড, মোঃ ফখরুল ইসলাম সিকিউরিটিজ লিমিটেড, এসআইবিএল সিকিউরিটিজ লিমিটেড, সালটা ক্যাপিটাল, জামাল আহমেদ সিকিউরিটিজ লিমিটেড, হাওলাদার ইকুইটি সার্ভিসেস লিমিটেড, ইসলামী ব্যাংক সিকিউরিটিজ লিমিটেডের বিনিয়োগকারীরা।

এ তালিকা আরও আছে ইত্তেহাদ সিকিউরিটিজ লিমিটেড, এ এন এফ ম্যানেজমেন্ট কোং লিমিটেড, কে- সিকিউরিটিজ  এন্ড কনসালট্যান্টস লিমিটেড, রোজ সিকিউরিটিজ লিমিটেড, ডাইনামিক সিকিউরিটিজ কনস্যালটেন্টস লিমিটেড, লংকাবাংলা সিকিউরিটিজ লিমিটেড, মশিউর সিকিউরিটিজ লিমিটেড, কসমোপলিটন ট্রেডার্স (প্রা)লিমিটেড, জয়তুন সিকিউরিটিজ ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেড, শাকিল রিজভী স্টক লিমিটেড,এমেস সিকিউরিটিজ লিমিটেড, স্ট্যান্ডার্ড ব্যাংক সিকিউরিটিজ লিমিটেড, ট্রাষ্টি সিকিউরিটিজ লিমিটেড, মোনা ফিনান্সিয়াল কনসালটেন্সি অ্যান্ড সিকিউরিটিজ লিমিটেড, তোবারক সিকিউরিটিজ লিমিটেড, টি.এ. খান সিকিউরিটিজ লিমিটেড, বিএলআই সিকিউরিটিজ লিমিটেড, পিপলস ইকুইটিস লিমিটেড, কমার্স ব্যাংক সিকিউরিটিজ অ্যান্ড ইনভেষ্টমেন্ট লিমিটেড, ইউসিবি ক্যাপিটাল ম্যানেজমেন্ট লিমিটেড।

এছাড়া রাজ্জাক সিকিউরিটিজ লিমিটেড, ডেল্টা ক্যাপিটাল লিমিটেড, জি এম এফ সিকিউরিটিজ লিমিটেড, গ্লোব সিকিউরিটিজ লিমিটেড, ইমিনেন্ট সিকিউরিটিজ লিমিটেড, ডিবিএল সিকিউরিটিজ লিমিটেড, পার্কওয়ে সিকিউরিটিজ লিমিটেড, এমটিবি সিকিউরিটিজ লিমিটেড, এডি হোল্ডিং লিমিটেড, পূবালী ব্যাংক সিকিউরিটিজ লিমিটেড, মাইকা সিকিউরিটিজ লিমিটেড, বিআরবি সিকিউরিটিজ লিমিটেড, মডার্ন সিকিউরিটিজ লিমিটেড, আইআইডিএফসি সিকিউরিটিজ লিমিটেড, এ এন ডব্লিউ সিকিউরিটিজ লিমিটেড ও ওয়ান সিকিউরিটিজ লিমিটেডের বিনিয়োগকারীরা নতুন পদ্ধতির সুযোগ পাবেন।

মার্চেন্ট ব্যাংকগুলোর মধ্যে রয়েছে-আইসিবি ক্যাপিটাল ম্যানেজমেন্ট লিমিটেড, আইডিএলসি ইনভেস্টমেন্ট লিমিটেড, এক্সিম ইসলামী ইনভেস্টমেন্ট লিমিটেড, ইমপেরিয়াল ক্যাপিটাললিমিটেড, এএফসি ক্যাপিটাল লিমিটেড, প্রাইম ফাইন্যান্স ক্যাপিটাল ম্যানেজমেন্ট লিমিটেড, এফএএস ক্যাপিটাল ম্যানেজমেন্ট লিমিটেড, ট্রাস্ট ব্যাংক ইনভেস্টমেন্ট লিমিটেড, সিটি ব্যাংক ক্যাপিটাল রিসোর্সেস লিমিটেড, ইউনিক্যাপ ইনভেস্টমেন্টস লিমিটেড, এসবিএল ক্যাপিটাল ম্যানেজমেন্ট লিমিটেড, যমুনা ব্যাংক ক্যাপিটাল ম্যানেজমেন্ট লিমিটেড, লংকাবাংলা ইনভেস্টমেন্টস লিমিটেড, ইসি সিকিউরিটিজ লিমিটেড, বিএলআই ক্যাপিটাল লিমিটেড ও প্রাইম ব্যাংক ইনভেস্টমেন্ট লিমিটেড।

উল্লেখ, বিএসইসির তথ্য অনুসারেআগামী সেপ্টেম্বর মাসের প্রথম দিকে যে কোম্পানি চাঁদা গ্রহণ করবে তার মাধ্যমে পাইলট প্রজেক্ট শুরু হবে। নতুন পদ্ধতিতে আইপিওতে আবেদন করতে আগ্রহী বিনিয়োগকারীকে সংশ্লিষ্ট ডিপির কাছে আবেদনপত্র জমা দিতে হবে। তার হিসাবে থাকতে হবে সমপরিমাণ অর্থ।

ডিপি গ্রাহকের হয়ে সংশ্লিষ্ট কোম্পানিতে সব আবেদনপত্র জমা দেবেন। লটারি না হওয়া পর্যন্ত গ্রাহকের হিসাবে জমা অর্থ লকইন করা থাকবে। ওই সময়ে গ্রাহক ওই টাকা উত্তোলন করতে পারবেন না। তা দিয়ে কোনো শেয়ার কেনা যাবে না। অন্য কোনো একাউন্টে ওই টাকা স্থানান্তরও করা যাবে না।

লটারিতে আবেদনকারী কৃতকার্য হলে ডিপি গ্রাহকের একাউন্টে থাকা অর্থ সংশ্লিষ্ট কোম্পানির ব্যাংক একাউন্টে জমা করে দেবেন। আর অকৃতকার্য হলে লক করে রাখা আবেদনের সমপরিমাণ টাকার উপর থেকে লকইন তুলে নেওয়া হবে। চাইলে বিনিয়োগকারী ওই অর্থ তুলে নিতে পারবেন, অথবা নতুন কোনো আইপিওর জন্য তা রেখে দিতে পারবেন।

উল্লেখ, বর্তমানে ব্যাংকের মাধ্যমে আবেদনপত্র ও টাকা জমা দিতে হয়। লটারিতে অকৃতকার্য হলে কোম্পানি একটি নির্দিষ্ট সময়ে ওই অর্থ চেকের মাধ্যমে ফেরত দেয়। বিনিয়োগকারীর হিসাবটি অনলাইন ব্যাংকে হয়ে থাকলে সরাসরি তার হিসাবে টাকা জমা হয়। তবে অনেক ক্ষেত্রেই টাকা পেতে যথেষ্ট বিলম্ব হয় বলে বিনিয়োগকারীদের অভিযোগ। নতুন পদ্ধতিতে যেহেতু ব্রোকারহাউজের কাছে টাকা জমা থাকবে তাই রিফান্ড নিয়ে কোনো সমস্যায় পড়তে হবে না তাদের।