নিয়ন্ত্রণবাদী শাসনের দিকে এগুচ্ছে দেশ: আবুল মকসুদ

0
31
Sujon
বৃহস্পতিবার জাতীয় প্রেসক্লাবের ভিআইপি লাউঞ্জে গোল টেবিল বৈঠক সুজন।

নীতিমালা প্রণয়ন করে সাংবাদিকরা হলুদ জামা আর কলামিস্টরা হাফ প্যান্ট পরিধানের কথাও সরকার বলতে পারে বলে মন্তব্য করেছেন কলামিস্ট ও গবেষক সৈয়দ আবুল মকসুদ।

Sujon
বৃহস্পতিবার জাতীয় প্রেসক্লাবের ভিআইপি লাউঞ্জে গোল টেবিল বৈঠক সুজন।

বৃহষ্পতিবার দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবের ভিআইপি লাউঞ্জে সুজনের উদ্যোগে ‘সম্প্রচার নীতিমালা, আইন ও সম্প্রচার কমিশন’ শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠকে তিনি এ মন্তব্য করেন। বৈঠকে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সুজন জাতীয় কমিটির সদস্য ও গণমাধ্যম ব্যক্তিত্ব মুহাম্মদ জাহাঙ্গীর।

সৈয়দ আবুল মকসুদ বলেন, এটা সরকারের রাজনৈতিক পরিকল্পনা। এতে নীল নকশা রয়েছে। এই নীতমালার উদ্দেশ্য হলো- দেশে শুধু সমর্থক, বংশবদ, স্তুতিকার ও অনুগ্রহভোগীরা থাকবে। স্বাধীন কণ্ঠ কিংবা সরকারের বিরুদ্ধে কথা বলার অধিকার থাকবে না।

এই নীতিমালা স্থগিত রেখে তা পুনর্বিবেচনার দাবি জানিয়ে তিনি বলেন, সম্প্রতি বিচারপতিদের জন্য নীতিমালা করা হয়েছে। ফলে তাদের নৈতিকতা খর্ব করা হয়েছে। এখন কণ্ঠ রোধের নীতিমালা প্রণয়ন হচ্ছে, এরপর মানববন্ধন বা আন্দোলন থামাতে নীতিমালা হবে।

এই গবেষক বলেন, যাদের চুল-দাঁড়ি পেকেছে, তারাই ভালো পরামর্শ দিতে পারে; সরকারের এমন ধারণা ভুল। বাস্তববাদী তরুণরাই মেধাবী। তাদের মতামতকে প্রাধান্য দেওয়া উচিত।

আবুল মকসুদ বলেন, মিডিয়ার মালিক, চিপ রিপোর্টার, মাঠ পর্যায়ের রিপোর্টার, নাগরিক সমাজ সবার সাথে আলাপ করেই সম্প্রচার নীতিমালা করা হোক। নতুবা দেশের ক্ষতি হবে। দেশ ক্রমেই নিয়ন্ত্রণবাদী শাসনের দিকে যাচ্ছে।

এসময় জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সরকার ও রাজনীতি বিভাগের অধ্যাপক দিলারা চৌধুরী বলেন, নির্বাচনের আগে র‌্যাব এরশাদকে হাসপাতালে নিয়ে যায়। এটা ছিল সরকারের কৌশল। কিছু দল ও লোককে নির্বাচনের বাইরে রাখতেই এই পরিকল্পনা করেছিল।

তিনি বলেন, সংসদে কার্যত বিরোধী দল না থাকায় জনকল্যাণে কথা বলা হচ্ছে না। গণমাধ্যমের সুবাধেই সাধারণ মানুষ দেশের তথ্য জানতে পারছে। জনগণকে এই সুযোগ থেকে বিচ্ছিন্ন করতে এই নীতিমালা করা হয়েছে।

দিলারা চৌধুরী বলেন, টক-শোতে জনগণের পক্ষে কথা বলা হয়, গণমাধ্যমকর্মীরা তার প্রকাশ করে। টক-শো নিয়ন্ত্রণের পর গণমাধ্যমের কণ্ঠরোধ করতে উঠেপড়ে লেগেছে সরকার। ফলে দেশে অপশাসন শুরু হবে।

ক্ষমতাকে চিরস্থায়ী করতেই এসব পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

সুজন চেয়ারম্যান এম. হাফিজ উদ্দিনের সভাপতিত্বে এবং সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদারের সঞ্চালনায় বৈঠকে আরও বক্তব্য রাখেন- তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা হাফিজ উদ্দিন খান, বিশিষ্ট সাংবাদিক নাইমুল ইসলাম খান প্রমুখ।

জেইউ/