ইবোলায় আক্রান্ত অর্থনীতিও

0
47
ইবোলা ভাইরাস

পশ্চিম আফ্রিকায় ইবোলা ভাইরাসে মৃত্যুর সংখ্যা বেড়েই চলেছে। বাড়ছে নতুন সংক্রমণ। সর্বোচ্চ সতর্কতা নেয়া হচ্ছে তা ঠেকাতে। বাংলাদেশেও ইবোলা ভাইরাস প্রতিরোধে ৯০ দিনের সতর্কতামূলক কর্মসূচি নিয়েছে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়।

ইবোলা ভাইরাস
ইবোলা ভাইরাস

 

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বলছে, গত কয়েক মাসে মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৩০০র বেশি। ইবোলাকে যতটা গুরুত্ব দিয়ে দেখা উচিত ছিল ততটা গুরুত্ব দেয়া হয়নি।

কিন্তু এখন ইবোলা শুধু স্বাস্থ্য ঝুঁকি নয়, এর প্রভাব পড়ছে ব্যবসা বাণিজ্যেও। অর্থনীতিতে এর কী প্রভাব পড়বে সে নিয়ে বাড়ছে উদ্বেগ।

সিয়েরা লিওনের কৃষিমন্ত্রী জোসেপ সাম শিশে বিবিসিকে বলেন, ইবোলার কারণে অর্থনীতির ৩০ শতাংশ ঝিমিয়ে পড়েছে। তিনি বলেন, প্রেসিডেন্ট আর্নেস্ট বাই ক্রোমা একটি বিশেষ মন্ত্রিসভা বৈঠকে এই হতাশার খবর প্রকাশ করেছেন।

মন্ত্রী আরও বলেন, সিয়েরা লিওনের ৬৬ শতাংশ মানুষ কৃষক। ইবোলার কারণে কৃষিখাত সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত।

ইউএনডিপির প্রধান সমন্বয়ক ডেভিড ম্যাকলুহ্যান বিবিসিকে বলছেন, পশ্চিম আফ্রিকার দেশগুলোতে এখন চষাবাদের মৌসুম। ইবোলার কারণে এখানে তা বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। এটা খাদ্য ঘাটতি ঘটাবে এবং খাদ্যমূল্যের ওপর প্রভাব ফেলবে। জাতীয় অর্থনীতি এবং বৈদেশিক আয়ের ওপরও এর নেতিবাচক প্রভাব পড়বে।

বৃহস্পতিবার বিবিসির এক প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, লাইবেরিয়া ও গিনির অর্থনীতি ইবোলার কারণে মারাত্মক বিপর্যয়ের মুখে না পড়লেও থাকবে ভয়ের মুখে।

বিশ্বব্যাংক বলছে, ইবোলার কারণে গিনির জিডিপি প্রবৃদ্ধি ৪ দশমিক ৫ শতাংশ থেকে কমে ৩ দশমিক ৫শতাংশে দাঁড়াতে পারে।

লাইবেরিয়ার বাণিজ্যমন্ত্রী আমারা কোনে বলছেন, চলতি অর্থবছরে তাদের প্রত্যাশা ছিল প্রবৃদ্ধি ৫ দশমিক ৯ শতাংশ ছাড়াবে। কিন্তু ইবোলার কারণে পরিবহন ও সেবাখাত ধীর হয়ে যাওয়া এবং বিদেশি শ্রমিকরা লাইবেরিয়া ছাড়ার কারণে এখন তা অসম্ভব মনে হচ্ছে।
প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, ইবোলার প্রার্দুভাবে স্টিল প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান এবং খনি খাতও বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে।

বিশ্বের সবচেয়ে বড় স্টিল প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান আরকিলরমিত্তাল লাইবেরিয়ায় তাদের লোহার আকরিক খনির কাজ স্থগিত করেছে। তাদের বেশকিছু কর্মী ইবোলায় আক্রান্ত। প্রতিষ্ঠানটি তাদের বুকানন এবং ইকিপা থেকে কর্মীদের লাইবেরিয়ার বাইরে নিযে গেছে।

বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম স্টিল প্রস্তুতকারী রিও টিন্টোর পূর্ব গিনিতে একটি শাখা রয়েছে। এটি তার আন্তর্জাতিক কর্মীদের ছুটি দিয়ে দিয়েছে।

সিয়েরা লিওনে সীমান্তের কাছে সেনাবাহিনীর সতর্ক প্রহরা
সিয়েরা লিওনে সীমান্তের কাছে সেনাবাহিনীর সতর্ক প্রহরা

গৃহযুদ্ধের আগে লাইবেরিয়ার বৈদেশিক আয়ের অর্ধেক আসতো স্টিল খাত থেকে। ইবোলার কারণে এখন তা সম্ভব হবে না।

আইএমএফ এর মতে গত অর্থবছরে সিয়েরা লিওনের জিডিপির ১৪ দশমিক ৫ শতাংশ ছিল লৌহ ও খনি সম্পদ খাত। সিয়েরা লিওনের বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো তাদের কর্মঘণ্টা কমিয়েছে। দেশের পর্যটন খাতেও ইবোলার প্রভাব পড়েছে। কিছু আবাসিক হোটেল বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।

পশ্চিম আফ্রিকার সীমানা গুলো বন্ধ থাকায় রপ্তানি এবং আমদানি বাণিজ্যের ওপর তা খারাপ প্রভাব ফেলছে। এ অঞ্চলের ফ্লাইটের ওপর স্থগিতাদেশও বাণিজ্য ঘাটতি ঘটাচ্ছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পশ্চিম আফ্রিকার এই ৩টি দেশ এমনিতেই দরিদ্র। ইবোলার প্রাদুর্ভাব তাদের আরও দরিদ্র করতে পারে। সিয়েরা লিওন ও লাইবেরিয়া ভীতিকর গৃহযুদ্ধের অভিজ্ঞতা কাটিয়ে অর্থনীতি পুননির্মাণে ব্যস্ত।

লাইবেরিয়া সরকার ধারণা করছে ইবোলা ব্যাপক দারিদ্র্য ছড়িয়ে দিতে পারে। এবং মানুষকে অপরাধী করে তুলতে পারে।

এদিকে আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীরা ইবোলার প্রাদুর্ভাবে শঙ্কিত। আফ্রিকা-ওয়ার্ক নামক একটি বিনিযোগকারী প্রতিষ্ঠানের প্রধান নির্বাহী ডায়েনা গেমস জানান, ইবোলা আফ্রিকা তথা বিশ্ব অর্থনীতিতে ব্যাপক নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে।

তিনি বিবিসি বলেন , এমনিতে আফ্রিকা দারিদ্র্য ও রোগপীড়িত একটি জায়গা হিসাবে পরিচিত। ইবোলা এই তত্ত্বকে আরও প্রতিষ্ঠিত করবে। ফলে বিনিযোগকারীদের আগ্রহ কিছুটা হলেও কমবে।