‘সরকার কখনো বায়রার প্রতিপক্ষ নয়’

0
43
প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী খন্দকার মোশাররফ হোসেন

Mossharrafসরকার কখনো বায়রার প্রতিপক্ষ নয় বলে জানালেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার খন্দকার মোশাররফ হোসেন।

বৃহস্পতিবার রাজধানীর ইস্কাটনের লেডিস ক্লাবে বেরসরকারিভাবে জনশক্তি রপ্তানিকারকদের সংগঠন বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ইন্টারন্যাশনাল রিক্রটিং এজেন্সিসের (বায়রা) আয়োজিত জনশক্তি রপ্তানি বৃদ্ধি ও বাজার সম্প্রসারনের বিষয়ে মতবিনিময় সভায় তিনি একথা জানান।

খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, সরকার কখনো বায়রার প্রতিপক্ষ নয়। বায়রার কোনো কাজে সরকার বাধা প্রদান করে না। সরকারের লাইসেন্স নিয়ে রিক্রুটিং এজেন্সিগুলো জনশক্তি রপ্তানি করে থাকে। যদি কারো জনশক্তি রপ্তানি করতে সমস্যা হয় তাহলে তারা লাইসেন্স বাতিল করে নেন।

রিক্রুটিং এজেন্সির উদ্দেশ্যে মন্ত্রী বলেন, অনেকের অভিযোগ, সরকার জি টু জি পদ্ধতির মাধ্যমে আপনাদের হাত-পা বেধে দিয়েছে। এটি কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। সরকার শুধু মালয়েশিয়ায় সরকারিভাবে লোক পাঠায়। আর অন্যান্য ১৬৯টি দেশে আপনাদের মাধ্যমেই লোক পাঠানো হয়।

এ সয়ম মন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশে থেকে জনশক্তি রপ্তানিতে মধ্যস্বত্ত্ব ভোগীরা বিরাট সুবিধা ভোগ করে। তারা একজন সাধারণ মানুষের কাছ থেকে প্রতারণার মাধ্যমে বিদেশ যেতে ৫ থেকে ৭ লাখ টাকা আদায় করে। এসব প্রতিরোধ করার জন্যই সরকার নানা উদ্যোগ নিয়েছে। এতে রিক্রুটিং এজেন্সি বা বায়রার ক্ষতি করার কোনো সুযোগ নেই। বায়রা ইচ্ছা করলেই কম ব্যয়ে বিদেশে লোক পাঠাতে পারবে।

যদি কোনো বায়রা সদস্য সরকারকে প্রতিপক্ষভাবে বা সরকারের উদ্যোগকে সহায়তা না করে তাদের বায়রার সদস্য থাকা উচিত নয়। তারা চাইলে সরকার তাদের লাইসেন্স বাতিল করে দেবে।

উল্লেখ, দুপুরে শুরু হওয়া এ মত বিনিময় সভায় বায়রার বিভিন্ন সদস্য ও রিক্রুটিং এজেন্সির মালিকরা তাদের বক্তৃতায় সরকারের জি টু জি পদ্ধতি ও বিদেশগামীদের নিবন্ধনের সমালোচনা করেন।

এ সময় তারা বলেন, মালয়েশিয়ার জন্য সরকার ১৪ লাখ লোকের নিবন্ধন করেছে। কিন্তু প্রায় দুই বছরে সাড়ে চার হাজার লোক পাঠাতে পেরেছে। বাকি লোকগুলো বিদেশ যাওয়া্র আশায় বেকার বসে আছে। আবার অন্য দেশে যাওয়ার চেষ্টাও করছে না। তাই যে পরিমান লোক পাঠানো যাবে তার বেশি নিবন্ধন করা উচিত বলে মত দেন তারা।

এছাড়া সরকার চুক্তির ফলে তাদের কাজ বন্ধ হয়ে যাচ্ছে বলে দাবি করেন তারা।

সভায় প্রবাসী কল্যান ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. খোন্দকার শওকত হোসেন, বিএমইটির মহাপরিচালক বেগম শাসসুর নাহার, বায়রার সভাপতি আবুল বাসার, সাবেক সভাপতি ও ইউনিক গ্রুপের কর্ণধার নুর আলীসহ বায়রা সদস্য ও বিভিন্ন রিক্রুটিং এজেন্সির মালিকরা উপস্থিত রয়েছেন।