কুড়িতেই বাড়ছে মুখের ক্যান্সার

0
54
oral cancer
ফাইল ছবি
oral cancer
ফাইল ছবি

কয়েক বছর আগেও যাদের বয়স ৪৫ থেকে ৫০-এর নীচে, তাদের মুখের ক্যান্সার তেমন একটা দেখা যেত না। কিন্তু ইদানীং চিকিত্সকেরা দেখছেন, ২০-৩০ বছর বয়সী তরুণ তরুণেরা এই ক্যান্সারে আক্রান্ত হচ্ছেন।

আক্রান্ত ১০ জনের মধ্যে ৯ জনই একেবারে বাল্যকাল থেকে তামাক সেবনে অভ্যস্ত। বৃহস্পতিবার ভারতের একটি বার্তাসংস্থা এ তথ্য জানিয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভারত সরকার যদিও তামাক সেবনের ন্যূনতম বয়স ১৮ থেকে বাড়িয়ে সম্প্রতি ২৫ করার ব্যাপারে চিন্তাভাবনা করছে। কিন্তু আইন সংশোধনের সেই রাস্তাকে একেবারেই যুক্তিগ্রাহ্য সমাধানসূত্র হিসেবে মানতে নারাজ বিশেষজ্ঞেরা। তাদের প্রশ্ন, আইনের যদি প্রয়োগ না-থাকে তা হলে সেই আইনের আদৌ কোনও মূল্য আছে কি?

ক্যান্সার বিশেষজ্ঞ গৌতম মুখোপাধ্যায়ের অভিজ্ঞতা, ‘আজকাল ২০ থেকে ৩০-এর কোঠায় অনেক রোগী পাই, যাঁদের মুখের মধ্যে সাদা-কালো দাগ দেখা যায়। চিকিৎসার পরিভাষায় দাগগুলোকে লিউকোপ্লেকিয়া-মেলানোপ্লেকিয়া বলে। এগুলো ঠিক ক্যান্সার নয়, কিন্তু ক্যান্সারের বীজ। অথচ বিশেষ চিকিত্সাও নেই এর৷ পরে এঁরাই ওরাল ক্যান্সারের শিকার হন।

আরজি কর মেডিক্যাল কলেজের ক্যান্সার বিভাগের প্রধান সুবীর গঙ্গোপাধ্যায় বলেছেন, ‘প্রকাশ্য স্থানে ধূমপান কিংবা স্কুল-কলেজের ১০০ মিটারের মধ্যে তামাক/তামাকজাত দ্রব্য বিক্রির উপরও তো নিষেধাজ্ঞা জারি হয়েছে বহু দিন। কী লাভ হয়েছে তাতে?

প্রস্তাবিত নয়া আইনেরও একই পরিণতি হবে না তো?’ তামাক বিক্রিতে সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা অথবা বয়স সংক্রান্ত বিধিনিষেধের কঠোর প্রয়োগ ছাড়া অল্পবয়সী ক্যান্সার আক্রান্তদের সংখ্যায় রাশ টানা অসম্ভব বলে মনে করেন তিনি।
প্রসঙ্গত, গতমাসে ভারতের ডেন্টাল অ্যাসোসিয়েশনের মহাসচিব ড. অশোক ধবল জানান, মুখের ক্যান্সারে দেশটিতে প্রতি ৬ ঘণ্টায় একজন মারা যায়। ধূমপান এবং অন্যান্য তামাকজাত পণ্যের অত্যাধিক ব্যবহারে রোগটি দিন দিন আরও বেড়ে যাচ্ছে বলে আশঙ্কা করেন তিনি।