পোলার্ড-রামদিনে ম্লান বিজয়দের হাসি

0
31

cricinfoদীর্ঘ দিন পর একটি জয়ের আশায় খেলতে নেমে ব্যর্থ হলো টাইগাররা। ব্যর্থ হলো আনামুল হক বিজয়ের শতরানও। আসলে ব্যার্থ করে দিল পোলার্ড-রামদিনের দুর্দান্ত ব্যাটিং। এরই সুবাদে ৩ ম্যাচ ওয়ানডে সিরিজের প্রথমটিতে ওয়েস্ট ইন্ডিজ ৩ উইকেটে জয় পেলো। বাংলাদেশ ভালো বল করেও হাসতে পারল না শেষ হাসি।

প্রথম ব্যাট করে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে ২১৮ রানের টার্গেট দিয়েছিল সফরকারীরা। ৩৯.৪ ওভারে ৭ উইকেট হারিয়ে জয় তুলে নেয় ক্যারিবিয়রা। পোলার্ড  ৮৯ ও রামদিন ৭৪ রানের ইনিংস খেলেন। আল আমিন  তুলে নিয়েছেন ৪টি উইকেট ।

এর আগে টসে হেরে প্রথমে ব্যাট করতে নেমে নির্ধারিত ৫০ ওভারে ৯ উইকেটে ২১৭ রান স্কোরবোর্ডে জমা করে বাংলাদেশ। আনামুল হক বিজয় একাই দলের ইনিংস টেনে নিয়ে যান দ্বিশতকের কোটায়। অপর প্রান্তে নিয়মিত বিরতিতে উইকেট পড়তে থাকলেও শত রান তুলে নেন বিজয়। অন্য কোনো ব্যাটসম্যান তাদের নামের প্রতি সুবিচার করতে পারেননি।

১৩৮ বল মোকাবেলায় ১০৯ রান করে আউট হন আনামুল। ৫০ ওভারের শেষ বলে ডোয়াইন ব্র্যাভোর বলে এলবিডব্লিউ’র ফাঁদে আটকান বিজয়। ওয়ানডেতে তৃতীয় শতক করার পথে বিজয়  ১১টি বাউন্ডারি ও ১টি ছক্কা হাঁকান।

৪১ রান তুলতেই বিদায় নেন বাংলাদেশের ওপেনার তামিম ইকবাল। জেসন হোল্ডারের চতুর্থ ওভারের প্রথম বলে মিডউইকেটে কাইরন পোলার্ডের হাতে ক্যাচ দিয়ে বিদায় নেন তামিম। ৪৭ বলে ৩টি চারের সাহায্যে ২৬ রান করেন তামিম ইকবাল।

তামিমের বিদায়ের পর দলীয় ৬৯ রানে দ্বিতীয় উইকেট হারায় সফরকারিরা। ১২ বলে ৯ রান করা ইমরুল কায়েস হন রান আউটের শিকার। আনামুল হক বিজয় ও শামসুর রহমান রান নিতে গিয়ে দু’জনের মধ্যে সংঘর্ষ বেধে গেলে শামসুর রহমান দুর্ভাগ্যজনক রান আউট হন।

৮০ রানে ৪ নম্বরে ব্যাট করতে নামা শামসুর রহমান অধিনায়ক ডোয়াইন ব্র্যাভোর বলে উইকেটের পেছনে দিনেশ রামদিনের হাতে ক্যাচ দিয়ে আউট হন। শামসুর রহমান ৮ রানের বেশি এগুতে পারেননি।

এরপর আনামুল ও মুশফিকুর রহিম জুটি ৩৭ রান তুলে বিচ্ছিন্ন হন। ক্রিস গেইলের দ্বিতীয় ওভারের শেষ বলে মুশফিকুর রহিম সুনীল নারাইনের হাতে ধরা পড়েন। দলীয় রান তখন ১১৭। মুশফিক ২১ বল মোকাবেলায় করেন ১২ রান।

১৪১ রান ডোয়াইন ব্র্যাভোর বলে মাহামুদুল্লাহ রিয়াদের স্ট্যাম্প উড়ে গেলে পঞ্চম উইকেট হারায় সফরকারিরা। রিয়াদ ১১ বলে করেন ১১ রান।

১৯৪ রানে নাসির হোসাইন আউট হলে ষষ্ঠ উইকেট হারায় মুশফিক বাহিনী। আনামুল-নাসির জুটি ষষ্ঠ উইকেটে ৫৩ রান যোগ করেন। নাসির হোসাইন করেন ২৬ রান। ২০১ রানে সোহাগ গাজী, ২১৭ রানে মাশরাফি এবং একই রানে আনামুল হক বিজয় আউট হলে নবম উইকেট হারায় বাংলাদেশ। দশম ব্যাটসম্যান তাসকিন আহমেদ কোনো বল মোকাবেলার সুযোগ পাননি।

ক্যারিবীয় বোলারদের মধ্যে অধিনায়ক ডোয়াইন ব্র্যাভো একাই তুলে নেন ৪ উইকেট। রবি রামপাল, জেসন হোল্ডার ও ক্রিস গেইল শিকার করেন ১টি করে উইকেট। বাংলাদেশের ২ ব্যাটসম্যান রান আউটের শিকার হন।
স্কোরবোর্ড

বাংলাদেশ

তামিম ক পোলার্ড ব হোল্ডার ২৬ ৪৭ ৩ ০
আনামুল এলবিডব্লু ব ডোয়াইন ১০৯ ১৩৮ ১১ ১
ইমরুল রান আউট ৯ ১২ ১ ০
শামসুর ক রামদিন ব ডোয়াইন ৮ ১৪ ১ ০
মুশফিক ক নারাইন ব গেইল ১২ ২১ ০ ০
মাহমুদউল্লাহ ব ডোয়াইন ১১ ২১ ১ ০
নাসির ক রামদিন ব রামপল ২৬ ৩৮ ২ ০
সোহাগ রান আউট ২ ৫ ০ ০
মাশরাফি ক পোলার্ড ব ডোয়াইন ৩ ৫ ০ ০
তাসকিন অপরাজিত ০ ০ ০ ০
অতিরিক্ত (লেবা ২, ও ৮, নো ১) ১১

মোট (৫০ ওভারে, উইকেটে) ২১৭

উইকেট পতন: ১-৪১ (তামিম, ১২.১ ওভার), ২-৬৯ (ইমরুল, ১৬.৬), ৩-৮০ (শামসুর, ২০.১), ৪-১১৭ (মুশফিকুর, ২৭.৬), ৫-১৪১ (মাহমুদউল্লাহ, ৩৩.৫), ৬–১৯৪ (নাসির, ৪৬.৬), ৭–২০১ (সোহাগ, ৪৮.১), ৮–২১৭ (মাশরাফি, ৪৯.৪), ৯–২১৭ (এনামুল, ৪৯.৬)।

বোলিং: রোচ ১০-০-৪৮-০ (ও ১), রামপল ১০-১-৪৮-১ (ও ৩), হোল্ডার ৯-০-৩৯-১ (ও ১), ডোয়াইন ৭-০-৩২-৪ (নো ১, ও ৩), নারাইন ১০-১-২৯-০, গেইল ৪-০-১৯-১।

ওয়েস্ট ইন্ডিজ
গেইল ক আল আমিন ব মাশরাফি ৩১ ৮ ০ ০
এডওয়ার্ডস ব মাহমুদউল্লাহ ১০ ৩২ ০ ০
ড্যারেন ক মুশফিক ব আল আমিন ৭ ১৪ ১ ০
সিমন্স ক মুশফিক ব আল আমিন ০ ২ ০ ০
রামদিন ব সোহাগ ৭৪ ৭৬ ৬ ১
ডোয়াইন ক সোহাগ ব আল আমিন ৫ ৬ ১ ০
পোলার্ড ক মাহমুদউল্লাহ ব আল আমিন ৮৯ ৭০ ৫ ৬
হোল্ডার অপরাজিত ২২ ১৫ ৩ ০
নারাইন অপরাজিত ৩ ৫ ০ ০
অতিরিক্ত (লেবা ১, ও ৫) ৬

মোট (৩৯.ওভারে, উইকেটে) ২১৯

উইকেট পতন: ১-৯ (গেইল, ৫.৩), ২-২০ (ড্যারেন, ৯.৬), ৩-২০ (এডওয়ার্ডস, ১০.৪), ৪-২২ (সিমন্স, ১১.২), ৫-৩৪ (ডোয়াইন, ১৩.১), ৬–১৭৯ (রামদিন ৩৪.৬), ৭–২০১ (পোলার্ড, ৩৭.৩)।

বোলিং: সোহাগ ৯-১-৪৬-১, মাশরাফি ৮-২-২২-১, মাহমুদউল্লাহ ৪-০-২০-১, আল আমিন ৮.৪-০-৫১-৪, তাসকিন ৭-০-৪৬-০, নাসির ২-০-২০-০, শামসুর ১–০–১৩–০।

ফল: ওয়েস্ট ইন্ডিজ উইকেটে জয়ী।

ম্যান অব দ্য ম্যাচ: পোলার্ড।