গাইবান্ধার ১৮ ইউনিয়ন পানির নিচে

0
49
গাইবান্ধার বন্যাকবলিত এলাকা
গাইবান্ধার বন্যাকবলিত এলাকা
গাইবান্ধার বন্যাকবলিত এলাকা-এসএম জাহিদুল ইসলাম

গাইবান্ধার ঘাঘট, ব্রহ্মপুত্র ও করতোয়া নদীর পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকায় বুধবার ফুলছড়ি, সাঘাটা ও সদর উপজেলার আরও নতুন নতুন এলাকা বন্যা কবলিত হয়ে পড়েছে।

গাইবান্ধা পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, গত ২৪ ঘণ্টায় ঘাঘট নদীর পানি ২ সে. মি., ব্রহ্মপুত্র ৯ সে. মি. এবং তিস্তা নদীর পানি ৫ সে. মি. বৃদ্ধি পেয়েছে। ঘাঘট নদীর পানি এখন বিপদ সীমার ২৭ সে. মি. উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। ফলে খোলাহাটির পূর্ব কোমরনই, মিয়াপাড়াসহ বিভিন্ন এলাকার বসতবাড়িতে বন্যার পানি উঠতে শুরু করেছে।

বন্যার পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকায় শহরের পৌর এলাকা ও পার্শ্ববর্তী খোলাহাটি ইউনিয়নের কুঠিপাড়া, মিয়াপাড়া, পূর্ব কোমরনই, পশ্চিম কোমরনই, ডেভিড কোম্পানিপাড়ার ও দশানীর শহর রক্ষা বাঁধের ৬টি পয়েন্ট চরম হুমকির মুখে পড়েছে।

এদিকে ফুলছড়ির উত্তর উড়িয়া, কাতলামারি, সিংরিয়া, গ্রামে এবং সংলগ্ন বাঁধ এলাকায় নদী ভাঙ্গন তীব্র আকার ধারণ করেছে। ভাঙ্গন কবলিত মানুষ বাড়িঘর ছেড়ে বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধে আশ্রয় নিতে বাধ্য হচ্ছে। সাঘাটার মুন্সিহাটে পানি উন্নয়ন বোর্ড এর বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ গত কাল তীব্র স্রোতে ভেঙ্গ যাওয়ায় মুন্সিরহাট ও উত্তরসাথালিয়া গ্রামের শতশত পরিবার মারাত্মক হুমকির মধ্যে পড়েছে এবং শত শত বিঘা আমন ফসল তলিয়ে গেছে। তবে তিস্তা, করতোয়া ও ব্রহ্মপুত্র নদীর পানি এখনও বিপদ সীমার সামান্য নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, আকস্মিক এই বন্যায় জেলার ৪টি উপজেলার বন্যা কবলিত ১৮টি ইউনিয়নের ১ হাজার ৪শ ৫৬ হেক্টর আবাদি জমির ফসল বন্যার পানিতে তলিয়ে গেছে।

ত্রাণ ও পুনর্বাসন দপ্তর সূত্রে জানা যায়, সরকারি ত্রাণ সহায়তা বাবদ বন্যা দুর্গত পরিবারের মধ্যে ইতোমধ্যে ১শ মে. টন চাল ও ১ লাখ টাকার জরুরি ত্রাণ উপকরণ বিতরণ করা হয়েছে। তবে প্রদানকৃত ত্রাণ সামগ্রী চাহিদার তুলনায় সামান্য।

এসএমজে/সাকি